ঢাকা ১২:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
স্পেনের মালাগার সঙ্গে সহযোগিতার ক্ষেত্র বাড়াতে চায় বাংলাদেশ বাংলাদেশে কার্যালয় খুলতে জেবিআইসিকে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সরকারি বেতন দিতে ব্যাংক থেকে আরও ৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ আকাশে ড্রোন, মাঠে কে-৯: ঠাকুরগাঁও-১আসন উপ-নির্বাচনে ২১ প্লাটুন বিজিবি রংপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের পেছনে বাসের ধাক্কায় নিহত ৩ হুতিদের শান্ত করতে ১০০ কোটি ডলারের প্রস্তাব সৌদি আরবের ইসরাইলের নির্বাচনে ঝুলে আছে নেতানিয়াহুর ভাগ্য, সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং দমনে দীর্ঘমেয়াদি কৌশল জরুরি চুয়েটে ক্লাস শুরু নিয়ে বিভাগীয় প্রধানদের ভিন্নমত কেপটাউন টেস্টে মিচেল স্টার্কের বোলিং তাণ্ডব: ৩২৯ রানে অলআউট দক্ষিণ আফ্রিকা

স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে ডোমার পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি বাড়ীতে নারীর অনশন

নীলফামারী থেকে তপন দাস
  • আপডেট সময় : ১২:০২:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ জুন ২০২৩ ৩৬২ বার পড়া হয়েছে

স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে ডোমার পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি বাড়ীতে নারীর অনশন

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নীলফামারীর ডোমারে স্ত্রীর স্বীকৃতি দাবিতে ডোমার পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি পাপনের বাড়ীতে নারীর অনশন করছে।

পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি অভিজিৎ সর্বোঞ্জ পাপনের বাড়িতে স্ত্রীর স্বীকৃতি পেতে অনশন করছেন (ছদ্ননাম) রেখা নামের এক নারী। এ ঘটনায় এলাকা জুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে

বৃহস্পতিবার(১ জুন) দুপুরে অভিজিৎ সর্বোঞ্জ পাপনের বাড়িতে অবস্থান নেয় ওই নারী। এদিকে বাড়িতে অনশন করতে দেখে লোকচক্ষুর আড়ালে পালাতে গিয়ে নিজের পা মচকিয়ে যাওয়ার দাবী করে পুলিশ হেফাজতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ওই ছাত্রলীগ নেতা। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিজিৎ সর্বোঞ্জ পাপন ডোমার পৌর এলাকার ৩নং ওয়ার্ড ছোটরাউতা সাহাপাড়া এলাকার স্বর্গীয় দেব রঞ্জন সর্বোঞ্জের ছেলে। পাপন ২০২২ সালের ২৯ জুলাই ডোমার পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি পদ পান।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুর একটার দিকে (ছদ্মনাম) রেখা পাপনের বাড়িতে অবস্থান নেন। ওই নারীকে বাড়িতে দেখে ক্ষিপ্ত হয়ে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে পাপনের বিরুদ্ধে।

নারীর চিৎকার এবং কান্নাকাটি শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসেন। খবর পেয়ে ডোমার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে আসেন। এক সময় সবার অগোচরে বাড়ির পিছন দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন পাপন।

পালানোর সময় এলাকাবাসী ও পুলিশ তাকে ধাওয়া করে আটক করে।পরে পুলিশ হেফাজতে ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়।

এদিকে পাপনের বিয়ে নিয়ে কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আলোচনা সমালোচনার ঝড় বইছিল। ছাত্রলীগ নেতা পাপনের সাথে ওই নারীর একাধিক ছবি ইতিমধ্যে ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।

ভুক্তভোগী ঐ নারী বলেন, পাপনের সাথে ২০১৩ সালে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ি। ২০১৪ সালে পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার বোদেশ্বরী মন্দিরে ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে আমরা বিয়ে করি। বিয়ের পরেও সে আমাকে বলে এখন কাউকে জানাইও না ।

আমার মায়ের হার্টের সমস্যা, আমি আমার মা’কে আস্তে আস্তে ম্যানেজ করে তোমাকে বাড়ী নিয়ে যাবো। এখন তুমি ভাড়া বাড়িতে থাকো। আমি যখন সাহাপাড়া নারু সাহা নামে এক লোকের বাড়িতে ভাড়া ছিলাম।

সে সময় তার মা আমাদের সম্পর্কের কথা জানতে পারে, পরে তার মা আমাকে আজেবাজে ভাষায় গালিগালাজ করে এবং আমাকে মারতে আসে। তারপর আমি যে বাড়িতে ভাড়া ছিলাম সে বাড়িওয়ালাকে বলে আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়।

তিনি আরও বলেন, তারপর আমরা ডোমার ও নীলফামারী শহরের বিভিন্ন জায়গায় বাড়ি ভাড়া করে সংসার করে আসছিলাম। গত একমাস থেকে পাপন আমার সঙ্গে দেখাও করে না, খোঁজ খবর রাখে না।

এমনকি আমার মোবাইল ফোনও রিসিভ করে না। এখন সে আমাকে স্ত্রী বলে স্বীকার করছেনা। আমি যেখানে ভাড়া থাকি, সেখানে গিয়ে জিজ্ঞেস করলে বুঝতে পারবেন আমার স্বামীকে।

আমাকে খারাপ বানানোর জন্য অনেক চেষ্টা করেছে। আমার তিন মাসের পেটের বাচ্চা নষ্ট করে দিয়েছে। আজ আমি তার বাড়িতে অবস্থান নিয়েছি স্ত্রীর মর্যাদা পেতে।

সে আমাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করছে। আমি স্ত্রীর মর্যাদা চাই।

অভিজিৎ সর্বোঞ্জ পাপন বলেন, তার তিনটা স্বামী। সে বিভিন্ন জায়গায় মানুষকে ব্লাকমেইল করে টাকা খায়। আমার কাছে প্রতারণা করে টাকা চায়। তার একটা ছেলে আছে। আমি একটা অবিবাহিত ছেলে। সে আমার মাকে মারধর করেছে । আমি একটা অবিবাহিত হিন্দু সম্প্রদায়ের ব্রাহ্মণ ছেলে।

আমার সম্পর্কে এলাকায় সবাই ভালো জানে। সে আজকে পরিকল্পিত ভাবে আমার মাকে মেরে ঘরে ঢুকেছে।

ডোমার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদ উন-নবী বলেন, এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর পাপন একটু অসুস্থ অনুভব করায় তার আমাদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে ডোমার পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি বাড়ীতে নারীর অনশন

আপডেট সময় : ১২:০২:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ জুন ২০২৩

নীলফামারীর ডোমারে স্ত্রীর স্বীকৃতি দাবিতে ডোমার পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি পাপনের বাড়ীতে নারীর অনশন করছে।

পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি অভিজিৎ সর্বোঞ্জ পাপনের বাড়িতে স্ত্রীর স্বীকৃতি পেতে অনশন করছেন (ছদ্ননাম) রেখা নামের এক নারী। এ ঘটনায় এলাকা জুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে

বৃহস্পতিবার(১ জুন) দুপুরে অভিজিৎ সর্বোঞ্জ পাপনের বাড়িতে অবস্থান নেয় ওই নারী। এদিকে বাড়িতে অনশন করতে দেখে লোকচক্ষুর আড়ালে পালাতে গিয়ে নিজের পা মচকিয়ে যাওয়ার দাবী করে পুলিশ হেফাজতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ওই ছাত্রলীগ নেতা। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিজিৎ সর্বোঞ্জ পাপন ডোমার পৌর এলাকার ৩নং ওয়ার্ড ছোটরাউতা সাহাপাড়া এলাকার স্বর্গীয় দেব রঞ্জন সর্বোঞ্জের ছেলে। পাপন ২০২২ সালের ২৯ জুলাই ডোমার পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি পদ পান।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুর একটার দিকে (ছদ্মনাম) রেখা পাপনের বাড়িতে অবস্থান নেন। ওই নারীকে বাড়িতে দেখে ক্ষিপ্ত হয়ে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে পাপনের বিরুদ্ধে।

নারীর চিৎকার এবং কান্নাকাটি শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসেন। খবর পেয়ে ডোমার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে আসেন। এক সময় সবার অগোচরে বাড়ির পিছন দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন পাপন।

পালানোর সময় এলাকাবাসী ও পুলিশ তাকে ধাওয়া করে আটক করে।পরে পুলিশ হেফাজতে ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়।

এদিকে পাপনের বিয়ে নিয়ে কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আলোচনা সমালোচনার ঝড় বইছিল। ছাত্রলীগ নেতা পাপনের সাথে ওই নারীর একাধিক ছবি ইতিমধ্যে ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।

ভুক্তভোগী ঐ নারী বলেন, পাপনের সাথে ২০১৩ সালে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ি। ২০১৪ সালে পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার বোদেশ্বরী মন্দিরে ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে আমরা বিয়ে করি। বিয়ের পরেও সে আমাকে বলে এখন কাউকে জানাইও না ।

আমার মায়ের হার্টের সমস্যা, আমি আমার মা’কে আস্তে আস্তে ম্যানেজ করে তোমাকে বাড়ী নিয়ে যাবো। এখন তুমি ভাড়া বাড়িতে থাকো। আমি যখন সাহাপাড়া নারু সাহা নামে এক লোকের বাড়িতে ভাড়া ছিলাম।

সে সময় তার মা আমাদের সম্পর্কের কথা জানতে পারে, পরে তার মা আমাকে আজেবাজে ভাষায় গালিগালাজ করে এবং আমাকে মারতে আসে। তারপর আমি যে বাড়িতে ভাড়া ছিলাম সে বাড়িওয়ালাকে বলে আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়।

তিনি আরও বলেন, তারপর আমরা ডোমার ও নীলফামারী শহরের বিভিন্ন জায়গায় বাড়ি ভাড়া করে সংসার করে আসছিলাম। গত একমাস থেকে পাপন আমার সঙ্গে দেখাও করে না, খোঁজ খবর রাখে না।

এমনকি আমার মোবাইল ফোনও রিসিভ করে না। এখন সে আমাকে স্ত্রী বলে স্বীকার করছেনা। আমি যেখানে ভাড়া থাকি, সেখানে গিয়ে জিজ্ঞেস করলে বুঝতে পারবেন আমার স্বামীকে।

আমাকে খারাপ বানানোর জন্য অনেক চেষ্টা করেছে। আমার তিন মাসের পেটের বাচ্চা নষ্ট করে দিয়েছে। আজ আমি তার বাড়িতে অবস্থান নিয়েছি স্ত্রীর মর্যাদা পেতে।

সে আমাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করছে। আমি স্ত্রীর মর্যাদা চাই।

অভিজিৎ সর্বোঞ্জ পাপন বলেন, তার তিনটা স্বামী। সে বিভিন্ন জায়গায় মানুষকে ব্লাকমেইল করে টাকা খায়। আমার কাছে প্রতারণা করে টাকা চায়। তার একটা ছেলে আছে। আমি একটা অবিবাহিত ছেলে। সে আমার মাকে মারধর করেছে । আমি একটা অবিবাহিত হিন্দু সম্প্রদায়ের ব্রাহ্মণ ছেলে।

আমার সম্পর্কে এলাকায় সবাই ভালো জানে। সে আজকে পরিকল্পিত ভাবে আমার মাকে মেরে ঘরে ঢুকেছে।

ডোমার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদ উন-নবী বলেন, এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর পাপন একটু অসুস্থ অনুভব করায় তার আমাদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

 

Facebook Comments Box