ঢাকা ১১:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আকাশে ড্রোন, মাঠে কে-৯: ঠাকুরগাঁও-১আসন উপ-নির্বাচনে ২১ প্লাটুন বিজিবি রংপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের পেছনে বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ হুতিদের শান্ত করতে ১০০ কোটি ডলারের প্রস্তাব সৌদি আরবের ইসরাইলের নির্বাচনে ঝুলে আছে নেতানিয়াহুর ভাগ্য, সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং দমনে দীর্ঘমেয়াদি কৌশল জরুরি চুয়েটে ক্লাস শুরু নিয়ে বিভাগীয় প্রধানদের ভিন্নমত কেপটাউন টেস্টে মিচেল স্টার্কের বোলিং তাণ্ডব: ৩২৯ রানে অলআউট দক্ষিণ আফ্রিকা বাংলাদেশে ৬.৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে আগ্রহী জাপান: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সফটওয়্যার প্রোগ্রামার নিয়োগ: আবেদনের সুযোগ ভালুকায় সেলুন ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে জখম করে মৃত্যুর ঘটনায় অভিযোগ

হুতিদের শান্ত করতে ১০০ কোটি ডলারের প্রস্তাব সৌদি আরবের

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৩০:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের চলমান সংঘাত থেকে নিবৃত্ত করতে ১০০ কোটি ডলারের একটি বিশাল আর্থিক প্যাকেজের প্রস্তাব সামনে এনেছে সৌদি আরব। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ইসরাইল হায়োমের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান নিজে হারকিউলিস সামরিক পরিবহন বিমানে করে নগদ এই অর্থ তেহরানে নিয়ে গিয়েছিলেন। এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো হুতি বিদ্রোহীদের সৌদি আরবের কৌশলগত স্থাপনা ও অবকাঠামোর ওপর হামলা পুরোপুরি বন্ধ করতে রাজি করানো এবং দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা। উপসাগরীয় অঞ্চলের কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে এই তথ্য সামনে এসেছে। কেন ১০০ কোটি ডলার।

সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্যমতে, প্রিন্স খালিদ বিন সালমানের এই আকস্মিক তেহরান সফর মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা জোটের কার্যক্রমেরই অংশ। এই সফরের উদ্দেশ্য হলো আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমন করা এবং বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে সংলাপ ও কূটনৈতিক সমাধানে উৎসাহিত করা। একই সঙ্গে কাতার ও পাকিস্তানের চলমান মধ্যস্থতার প্রচেষ্টাকে সমর্থন জানানোও ছিল এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী, সদস্যদেশগুলো আক্রান্ত হলে অন্যদের সম্মিলিত সামরিক সহায়তার কথা থাকলেও পাকিস্তান ও তুরস্ক এখন পর্যন্ত সরাসরি যুদ্ধে জড়ায়নি; তারা মূলত সামরিক পরামর্শ প্রদানের মধ্যেই নিজেদের সীমাবদ্ধ রেখেছে।

তেহরানে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধান ইব্রাহিম কালিন উপস্থিত ছিলেন। ইরানের পক্ষে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ি এবং ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আলোচনায় অংশ নেন। সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল অবকাঠামোর ওপর হুতিদের ধারাবাহিক হামলার কারণে দেশটি ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছে। এর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাংকারের ওপর ইরানের হামলার ফলে তেল রপ্তানি ব্যাহত হয়েছে এবং রিয়াদ বিমানবন্দর ও বড় বিনিয়োগ সম্মেলনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বিঘ্নিত হয়েছে। এ ছাড়া একটি বড় বিনিয়োগ সম্মেলন পিছিয়ে দিতে বাধ্য হয় সৌদি আরব।

সৌদি কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হুতিদের সঙ্গে বর্তমান এই উত্তেজনার একটি বড় কারণ তিন বছর আগের চুক্তি বাস্তবায়নে ব্যর্থতা। প্রস্তাবিত এই প্যাকেজটির মাধ্যমে হুতি নিয়ন্ত্রিত এলাকার বেসামরিক অবকাঠামো পুনর্গঠন এবং সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন পরিশোধের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছিল, যার বিনিময়ে বিদ্রোহীরা হামলা বন্ধে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে বলে আশা করা হয়েছিল। তবে বর্তমানে হুতিরা দাবি করছে, সৌদি আরব তাদের করা চুক্তি থেকে সরে এসেছে এবং এই অভিযোগকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেই তারা হামলা অব্যাহত রেখেছে। ইরান এই প্রক্রিয়ায় বিদ্রোহীদের সহায়তা করছে বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও শেষ পর্যন্ত এই বিপুল অর্থের বিনিময় সম্পন্ন হয়েছে কিনা সে বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো তথ্য জানা যায়নি।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

হুতিদের শান্ত করতে ১০০ কোটি ডলারের প্রস্তাব সৌদি আরবের

আপডেট সময় : ১০:৩০:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের চলমান সংঘাত থেকে নিবৃত্ত করতে ১০০ কোটি ডলারের একটি বিশাল আর্থিক প্যাকেজের প্রস্তাব সামনে এনেছে সৌদি আরব। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ইসরাইল হায়োমের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান নিজে হারকিউলিস সামরিক পরিবহন বিমানে করে নগদ এই অর্থ তেহরানে নিয়ে গিয়েছিলেন। এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো হুতি বিদ্রোহীদের সৌদি আরবের কৌশলগত স্থাপনা ও অবকাঠামোর ওপর হামলা পুরোপুরি বন্ধ করতে রাজি করানো এবং দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা। উপসাগরীয় অঞ্চলের কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে এই তথ্য সামনে এসেছে। কেন ১০০ কোটি ডলার।

সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্যমতে, প্রিন্স খালিদ বিন সালমানের এই আকস্মিক তেহরান সফর মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা জোটের কার্যক্রমেরই অংশ। এই সফরের উদ্দেশ্য হলো আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমন করা এবং বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে সংলাপ ও কূটনৈতিক সমাধানে উৎসাহিত করা। একই সঙ্গে কাতার ও পাকিস্তানের চলমান মধ্যস্থতার প্রচেষ্টাকে সমর্থন জানানোও ছিল এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী, সদস্যদেশগুলো আক্রান্ত হলে অন্যদের সম্মিলিত সামরিক সহায়তার কথা থাকলেও পাকিস্তান ও তুরস্ক এখন পর্যন্ত সরাসরি যুদ্ধে জড়ায়নি; তারা মূলত সামরিক পরামর্শ প্রদানের মধ্যেই নিজেদের সীমাবদ্ধ রেখেছে।

তেহরানে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধান ইব্রাহিম কালিন উপস্থিত ছিলেন। ইরানের পক্ষে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ি এবং ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আলোচনায় অংশ নেন। সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল অবকাঠামোর ওপর হুতিদের ধারাবাহিক হামলার কারণে দেশটি ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছে। এর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাংকারের ওপর ইরানের হামলার ফলে তেল রপ্তানি ব্যাহত হয়েছে এবং রিয়াদ বিমানবন্দর ও বড় বিনিয়োগ সম্মেলনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বিঘ্নিত হয়েছে। এ ছাড়া একটি বড় বিনিয়োগ সম্মেলন পিছিয়ে দিতে বাধ্য হয় সৌদি আরব।

সৌদি কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হুতিদের সঙ্গে বর্তমান এই উত্তেজনার একটি বড় কারণ তিন বছর আগের চুক্তি বাস্তবায়নে ব্যর্থতা। প্রস্তাবিত এই প্যাকেজটির মাধ্যমে হুতি নিয়ন্ত্রিত এলাকার বেসামরিক অবকাঠামো পুনর্গঠন এবং সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন পরিশোধের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছিল, যার বিনিময়ে বিদ্রোহীরা হামলা বন্ধে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে বলে আশা করা হয়েছিল। তবে বর্তমানে হুতিরা দাবি করছে, সৌদি আরব তাদের করা চুক্তি থেকে সরে এসেছে এবং এই অভিযোগকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেই তারা হামলা অব্যাহত রেখেছে। ইরান এই প্রক্রিয়ায় বিদ্রোহীদের সহায়তা করছে বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও শেষ পর্যন্ত এই বিপুল অর্থের বিনিময় সম্পন্ন হয়েছে কিনা সে বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো তথ্য জানা যায়নি।

Facebook Comments Box