ঢাকা ০৯:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সিলেটের মাটিতে জয়ের খরায় থাকা বাংলাদেশের লক্ষ্য ঘুরে দাঁড়ানো ৯ম শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ডিসেম্বরে হতে পারে: এনটিআরসিএ মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও সামুদ্রিক চলাচল নিয়ে চীন-কাতার ফোনালাপ সাতক্ষীরা সীমান্তে বিজিবি’র অভিযানে সাড়ে ৩ লাখ টাকার পণ্য জব্দ ইউএনওর সহযোগিতায় রাণীশংকৈলে নবজাতকের  জন্ম, মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন পা হারিয়েও মেলেনি চিকিৎসার সহযোগিতা! ক্ষোভে জলঢাকায় যাত্রীবাহী বাস আটক শিল্পাঞ্চলে অস্থিরতা, শান্তি বজায় রাখতে ২৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরেছেন ড. আবদুল মঈন খান ২০২৭ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ শিরোপার দাবিদার নয়: মাইকেল ভন চলতি মৌসুমে দেশে ৬টি শৈত্যপ্রবাহের পূর্বাভাস আবহাওয়া অফিসের

সিলেটের মাটিতে জয়ের খরায় থাকা বাংলাদেশের লক্ষ্য ঘুরে দাঁড়ানো

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:০৪:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চা-বাগানের সবুজ বেষ্টনী, টিলা পাহাড় আর মেঘে ঢাকা আকাশের নিচে সিলেটের পরিবেশ বরাবরই যেকোনো দলের জন্য প্রশান্তিদায়ক। তবে মাঠের বাইরে এই সৌন্দর্যের স্নিগ্ধতা থাকলেও বাংলাদেশ দলের অন্দরমহলে বিরাজ করছে অস্বস্তি। অস্ট্রেলিয়ার ডারউইনে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ের পর বাংলাদেশ আর কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচে জয়ের মুখ দেখেনি। টানা সাত ম্যাচ জয়হীন থাকার তিক্ত অভিজ্ঞতার বৃত্ত ভেঙে এবার সিলেটের মাঠে নতুন করে শুরুর আশায় স্বাগতিকরা। যদিও এই ভেন্যুর সঙ্গে বাংলাদেশের কিছু সুখস্মৃতি জড়িয়ে আছে, যা আত্মবিশ্বাস জোগানোর বড় মাধ্যম হতে পারে।

মঙ্গলবার সিলেটে সিরিজের প্রস্তুতির ফাঁকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে যোগ দিয়েছিলেন টাইগারদের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স। বাস থেকে নামার সময় রবি রামপল ও ফ্লয়েড রেইফারদের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের সময় পরিবেশটা খানিকটা হালকা হলেও, সিমন্স তার পেশাদারিত্বের জায়গা থেকে নড়চড় করেননি। প্রতিপক্ষের কোচের ভূমিকায় থাকলেও স্বদেশি খেলোয়াড়দের সঙ্গে হাসি-ঠাট্টায় মেতেছিলেন তিনি। তবে মাঠের লড়াই শুরুর আগে পরিস্থিতি আর এত সহজ থাকবে না, সেটি স্পষ্ট।

ডারউইনের পর কেন বাংলাদেশ তার ছন্দ হারিয়েছে, তা ব্যাখ্যা করা বেশ কঠিন বলে মনে করেন ফিল সিমন্স। তার ভাষ্যমতে, ব্যাটিংয়ের ব্যর্থতা এখন বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি জানান, ডারউইনে দল যে ইতিবাচক মানসিকতা ও দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছিল, পরের সংস্করণগুলোতে তা আর দেখা যায়নি। তবে তিনি উইকেট দেখে আশাবাদী। তার মতে, গত বছরের কিংবা এই বছরের শুরুতে পাকিস্তানের বিপক্ষে যে উইকেটে খেলা হয়েছিল, এবারের উইকেটটি অনেকটা তেমনই হতে পারে এবং ভালো ক্রিকেটের উপযোগী হবে।

দলের অনুশীলনের তীব্রতা বা পরিশ্রম নিয়ে কোনো আপস করছেন না সিমন্স। তার দাবি, ডারউইন কিংবা পাকিস্তান সফরের আগে ছেলেরা যেভাবে কঠোর পরিশ্রম করেছিল, এখনো তারা একইভাবে ঘাম ঝরাচ্ছে। তিনি বলেন, ডারউইন কিংবা পাকিস্তান সফরের আগে আমরা যেভাবে এবং যে তীব্রতা নিয়ে অনুশীলন করেছি, ছেলেরা এখনো একইভাবে কঠোর পরিশ্রম করছে। মূল সমস্যা হলো অনুশীলনের সেই প্রতিফলন ম্যাচে ঘটাতে না পারা। এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠার জন্য কাজ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

ফিল্ডিং নিয়েও দলের অস্বস্তি কাটছে না। সর্বশেষ টেস্টে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ক্যাচ মিসের মাশুল গুনতে হয়েছে বাংলাদেশকে। তবে কোচ একটি ম্যাচের ব্যর্থতা দিয়ে পুরো ফিল্ডিং ইউনিটের মান বিচার করতে নারাজ। তিনি বলেন, প্রস্তুতি ভালো হয়েছে। ম্যাচে ক্যাচ পড়তেই পারে। ভালো ফিল্ডিং করা দলও অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ ক্যাচ ছাড়ে, তবে এই পর্যায়ের ক্রিকেটে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।

স্পিন আক্রমণের অন্যতম ভরসা তাইজুল ইসলামের সাম্প্রতিক ফর্ম ও কাঁধের চোট কোচকে ভাবনায় ফেলেছে। তবে তাইজুলের ওপর ভরসা রেখেছেন তিনি। সিমন্সের মতে, তাইজুল দলের অন্যতম প্রধান স্পিনার এবং তার সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স নিয়ে সে নিজেও চিন্তিত। তার ভাষায়, সে আমাদের দলের অন্যতম প্রধান স্পিনার। চোটের বিষয়ে চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনেই এগোচ্ছেন তারা। সিমন্স জানান, আরব আমিরাতে সমস্যা থাকলেও এখন সে পূর্ণ শক্তিতে বোলিং ও থ্রো করতে পারছে। গতদিনের অনুশীলনেও কোনো ঘাটতি ছিল না। অন্যদিকে, দলে চোটের কারণে লিটন দাসের অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হলেও মুশফিকুর রহিম পুরোপুরি ফিট আছেন এবং মুমিনুল হকের অনুপস্থিতিতে তাকে তিন নম্বর পজিশনে দেখা যেতে পারে।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সিলেটের মাটিতে জয়ের খরায় থাকা বাংলাদেশের লক্ষ্য ঘুরে দাঁড়ানো

আপডেট সময় : ০৯:০৪:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

চা-বাগানের সবুজ বেষ্টনী, টিলা পাহাড় আর মেঘে ঢাকা আকাশের নিচে সিলেটের পরিবেশ বরাবরই যেকোনো দলের জন্য প্রশান্তিদায়ক। তবে মাঠের বাইরে এই সৌন্দর্যের স্নিগ্ধতা থাকলেও বাংলাদেশ দলের অন্দরমহলে বিরাজ করছে অস্বস্তি। অস্ট্রেলিয়ার ডারউইনে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ের পর বাংলাদেশ আর কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচে জয়ের মুখ দেখেনি। টানা সাত ম্যাচ জয়হীন থাকার তিক্ত অভিজ্ঞতার বৃত্ত ভেঙে এবার সিলেটের মাঠে নতুন করে শুরুর আশায় স্বাগতিকরা। যদিও এই ভেন্যুর সঙ্গে বাংলাদেশের কিছু সুখস্মৃতি জড়িয়ে আছে, যা আত্মবিশ্বাস জোগানোর বড় মাধ্যম হতে পারে।

মঙ্গলবার সিলেটে সিরিজের প্রস্তুতির ফাঁকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে যোগ দিয়েছিলেন টাইগারদের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স। বাস থেকে নামার সময় রবি রামপল ও ফ্লয়েড রেইফারদের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের সময় পরিবেশটা খানিকটা হালকা হলেও, সিমন্স তার পেশাদারিত্বের জায়গা থেকে নড়চড় করেননি। প্রতিপক্ষের কোচের ভূমিকায় থাকলেও স্বদেশি খেলোয়াড়দের সঙ্গে হাসি-ঠাট্টায় মেতেছিলেন তিনি। তবে মাঠের লড়াই শুরুর আগে পরিস্থিতি আর এত সহজ থাকবে না, সেটি স্পষ্ট।

ডারউইনের পর কেন বাংলাদেশ তার ছন্দ হারিয়েছে, তা ব্যাখ্যা করা বেশ কঠিন বলে মনে করেন ফিল সিমন্স। তার ভাষ্যমতে, ব্যাটিংয়ের ব্যর্থতা এখন বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি জানান, ডারউইনে দল যে ইতিবাচক মানসিকতা ও দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছিল, পরের সংস্করণগুলোতে তা আর দেখা যায়নি। তবে তিনি উইকেট দেখে আশাবাদী। তার মতে, গত বছরের কিংবা এই বছরের শুরুতে পাকিস্তানের বিপক্ষে যে উইকেটে খেলা হয়েছিল, এবারের উইকেটটি অনেকটা তেমনই হতে পারে এবং ভালো ক্রিকেটের উপযোগী হবে।

দলের অনুশীলনের তীব্রতা বা পরিশ্রম নিয়ে কোনো আপস করছেন না সিমন্স। তার দাবি, ডারউইন কিংবা পাকিস্তান সফরের আগে ছেলেরা যেভাবে কঠোর পরিশ্রম করেছিল, এখনো তারা একইভাবে ঘাম ঝরাচ্ছে। তিনি বলেন, ডারউইন কিংবা পাকিস্তান সফরের আগে আমরা যেভাবে এবং যে তীব্রতা নিয়ে অনুশীলন করেছি, ছেলেরা এখনো একইভাবে কঠোর পরিশ্রম করছে। মূল সমস্যা হলো অনুশীলনের সেই প্রতিফলন ম্যাচে ঘটাতে না পারা। এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠার জন্য কাজ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

ফিল্ডিং নিয়েও দলের অস্বস্তি কাটছে না। সর্বশেষ টেস্টে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ক্যাচ মিসের মাশুল গুনতে হয়েছে বাংলাদেশকে। তবে কোচ একটি ম্যাচের ব্যর্থতা দিয়ে পুরো ফিল্ডিং ইউনিটের মান বিচার করতে নারাজ। তিনি বলেন, প্রস্তুতি ভালো হয়েছে। ম্যাচে ক্যাচ পড়তেই পারে। ভালো ফিল্ডিং করা দলও অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ ক্যাচ ছাড়ে, তবে এই পর্যায়ের ক্রিকেটে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।

স্পিন আক্রমণের অন্যতম ভরসা তাইজুল ইসলামের সাম্প্রতিক ফর্ম ও কাঁধের চোট কোচকে ভাবনায় ফেলেছে। তবে তাইজুলের ওপর ভরসা রেখেছেন তিনি। সিমন্সের মতে, তাইজুল দলের অন্যতম প্রধান স্পিনার এবং তার সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স নিয়ে সে নিজেও চিন্তিত। তার ভাষায়, সে আমাদের দলের অন্যতম প্রধান স্পিনার। চোটের বিষয়ে চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনেই এগোচ্ছেন তারা। সিমন্স জানান, আরব আমিরাতে সমস্যা থাকলেও এখন সে পূর্ণ শক্তিতে বোলিং ও থ্রো করতে পারছে। গতদিনের অনুশীলনেও কোনো ঘাটতি ছিল না। অন্যদিকে, দলে চোটের কারণে লিটন দাসের অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হলেও মুশফিকুর রহিম পুরোপুরি ফিট আছেন এবং মুমিনুল হকের অনুপস্থিতিতে তাকে তিন নম্বর পজিশনে দেখা যেতে পারে।

Facebook Comments Box