মাঠে চড়তে দেওয়া ছাগল আর ঘরে ফিরল না। দুশ্চিন্তায় খোঁজ নিতে গিয়ে বিধবা মানিকা খাতুন জানতে পারেন, তিন যুবক একটি কালো ছাগল অটোরিকশায় তুলে নিয়ে গেছে। এরপর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন—আর সেই সূত্র ধরেই বেরিয়ে আসে চুরির রহস্য। অভিযানে তিন যুবককে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী হরিপুর উপজেলা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে চুরি যাওয়া ছাগলটি।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাতে হরিপুর উপজেলার ভূতডাঙ্গী গ্রাম থেকে ছাগলটি উদ্ধার করে রাণীশংকৈল থানা পুলিশ। পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, রাণীশংকৈল পৌরসভার মধ্যভান্ডারা গ্রামের মৃত মোসলেম উদ্দিনের স্ত্রী মানিকা খাতুন (৪৮) সংসারের খরচ মেটাতে তিনটি ছাগল পালন করেন। গত ২৬ আগস্ট সকালে তিনি ছাগলগুলো ভান্ডারা দাখিল মাদ্রাসা মাঠে চড়তে দেন।
বিকেলে মাঠে গিয়ে দেখেন, একটি কালো রঙের হালুয়ান ছাগল নেই। ছাগলটির সন্ধানে আশপাশে খোঁজ শুরু করলে এক প্রতিবেশীর কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পান মানিকা। তিনি জানতে পারেন, ওই দিন বিকেলে তিন যুবক একটি কালো রঙের ছাগল সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে গেছে।
তথ্যটি পুলিশকে জানানো হলে পৌর শহরের ভান্ডারা ডায়াবেটিস মোড়ে অভিযান চালিয়ে শাহীন আলম (২৪) নামে এক যুবককে শনাক্ত করা হয়। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শাহীন আলম, জুয়েল রানা (২১) ও রাসেল রানা (২৪)কে আটক করে।
পরে আটক ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হরিপুর উপজেলার ভূতডাঙ্গী গ্রামের একটি বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকেই উদ্ধার করা হয় প্রায় পাঁচ হাজার টাকা মূল্যের চুরি যাওয়া ছাগলটি। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সাহেদা বেগম (৬০) নামে এক নারী পালিয়ে যান।
পড়ুন>>আক্কিনেনি নাগার্জুনের জন্মদিন: জেনে নিন তার সম্পর্কে ১০টি অজানা তথ্য
উদ্ধার হওয়া ছাগল ও গ্রেপ্তার তিন যুবককে রাণীশংকৈল থানায় নেওয়া হয়েছে।এ ঘটনায় মানিকা খাতুন বাদী হয়ে শাহীন আলম, জুয়েল রানা, রাসেল রানা ও সাহেদা বেগমকে আসামি করে থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন। রাণীশংকৈল থানার তদন্ত ওসি রফিকুল ইসলাম রফিক বলেন,গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
Leave a Reply