মাদরাসায় শিক্ষার্থী সুরক্ষা কমিটি গঠনের নির্দেশ হেফাজতে ইসলামের
- আপডেট সময় : ০৮:৪৭:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে
শিক্ষার্থী নিপীড়ন ও অনৈতিক আচরণ নিয়ন্ত্রণে দেশের ছয়টি কওমি মাদরাসা বোর্ড এবং এর আওতাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বাধ্যতামূলকভাবে ‘শিক্ষার্থী সুরক্ষা কমিটি’ গঠন অথবা বিদ্যমান কমিটি সচল করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশ গত ১৯ সেপ্টেম্বর এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে। সংগঠনটির যুগ্মমহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী বিবৃতিটি গণমাধ্যমে প্রেরণ করেছেন।
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা সাজেদুর রহমান জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের নিরাপত্তা ও মানসিক প্রশান্তিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, যে সকল মাদরাসায় সুরক্ষা কমিটি নেই, রয়েছে কিন্তু নিষ্ক্রিয় অথবা কোনো অভিযোগের বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠানের অধিভুক্তি স্থগিত কিংবা বাতিল করা হতে পারে। এছাড়া মাদরাসা বোর্ডগুলোকে শক্তিশালী মনিটরিং সেল গঠন এবং শিক্ষার্থী বা অভিভাবকদের অভিযোগ জানানোর সুবিধার্থে হটলাইন চালু করতে বলা হয়েছে।
অভিযোগ পাওয়ার পর সর্বোচ্চ সাত কার্যদিবসের মধ্যে ঘটনাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে নেতারা আরও বলেন, শিশু নির্যাতন একটি দীর্ঘস্থায়ী সামাজিক সমস্যা, যা কেবল একটি নির্দিষ্ট অঙ্গনের সীমাবদ্ধ নয়; বরং স্কুল-মাদরাসা ও অন্যান্য পরিসরেও এই সমস্যা বিদ্যমান। যেকোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ড বা নিপীড়ন যেমন গ্রহণযোগ্য নয়, তেমনি আইন নিজ হাতে তুলে নেওয়াকেও সমর্থন করে না সংগঠনটি। প্রশাসনিক কাঠামোর ভেতরেই নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন তারা।
শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে কঠোর নীতিমালা অনুসরণ ও সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে সব মাদরাসা ও স্কুল কর্তৃপক্ষকে এই নিয়ম মেনে চলার নির্দেশ দিয়ে বলা হয়, আইন অমান্য করলে বা নৈতিক স্খলনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হলে জড়িত ব্যক্তি উভয় ধরনের—প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনগত—শাস্তি ভোগ করবেন। এক্ষেত্রে কোনো প্রকার আপস করা হবে না। আগামীর ভবিষ্যৎ হিসেবে গড়ে ওঠা শিশুদের শৈশব ও কৈশোরের সুশিক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করায় কোনো শিথিলতা প্রদর্শন করা হবে না বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্র: দৈনিক এইদিন
























