ঢাকা ১০:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নেতানিয়াহুর ব্যর্থতার তদন্ত চেয়ে উত্তাল তেল আবিব কুয়েটে শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ, আবেদন অনলাইনে ইরানে যেকোনো দিন হামলা হতে পারে, হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের ভোলার লালমোহনে শিমগাছ রোপণ নিয়ে দ্বন্দ্বে যুবদল নেতা নিহত মাদরাসায় শিক্ষার্থী সুরক্ষা কমিটি গঠনের নির্দেশ হেফাজতে ইসলামের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী |: নোট অব ডিসেন্টে পরিবর্তন চাইলে বৈঠকে আসতে হবে এল ক্লাসিকোর পাশাপাশি থাকছে আজকের দিনের ফুটবল ম্যাচ মার্কিন নাগরিকদের হত্যার চূড়ান্ত ছক কষছে ইরান: গোয়েন্দা সতর্কবার্তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান কে হবেন দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান: সিডনির নতুন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শুরু বাণিজ্যিক ফ্লাইট

ভোলার লালমোহনে শিমগাছ রোপণ নিয়ে দ্বন্দ্বে যুবদল নেতা নিহত

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:১৭:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভোলার লালমোহনে শিমগাছ রোপণ নিয়ে বিরোধের জেরে ধারালো দায়ের কোপে গুরুতর আহত মো. ফিরোজ (৪৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। শনিবার বিকেলে ঢাকার সুপারম্যাক্স হেলথ কেয়ার লিমিটেড হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত ফিরোজ উপজেলার কালমা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বারের দোকান এলাকার বাসিন্দা এবং কালমা ইউনিয়ন (উত্তর) যুবদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তার মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া; বিশেষ করে তার ১২ বছরের শিশু কন্যা রিতুর আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে বাড়ির পরিবেশ। আমগো কী হইবো, আমরা কেমনে থাকমু?’- বাবার মৃত্যু শোকে এমন বুকফাটা আর্তনাদ ১২ বছরের শিশু মোসা। ‘আমার বাবারে আইন্না দেও, আমার বাবার কী দোষ ছিল। কখনো দিগ্বিদিক ছুটছে, কখনো বাবার জামা-কাপড় বুকে জড়িয়ে বিলাপ করছে সে। শোকে স্তব্ধ স্বজনরা, দিশেহারা পুরো পরিবার।

ঘটনার সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার, যখন ফিরোজ তার বাড়ির পাশে নিজের জমিতে শিমগাছ রোপণ করে সেখানে বাঁশের ঝোপ তৈরি করেন। শুক্রবার জুমার নামাজের পর প্রতিবেশী কাজলের স্ত্রী জান্নাত ওই বাঁশ কেটে ফেলেন। নামাজের পর ফিরোজ বাড়ি ফিরে বিষয়টি জানতে পেরে প্রতিবাদ জানালে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে কাজলের হস্তক্ষেপে বিষয়টি চরম আকার ধারণ করে এবং তিনি দা দিয়ে ফিরোজকে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করেন। এই হামলায় ফিরোজ গুরুতর জখম হন। নামাজ শেষে বাড়িতে ফিরে বিষয়টি দেখে জান্নাতকে বাধা দেন ফিরোজ।

আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভোলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে দ্রুত তাকে ঢাকায় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করার পর চিকিৎসকরা তাকে লাইফ সাপোর্টে রেখেছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। ফিরোজ তিন মেয়ে ও এক ছেলে সন্তানের জনক ছিলেন, তার এই অকাল মৃত্যুতে পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। কিন্তু তার কান্না শুনে আর ফিরবে না বাবা।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার খবর পেয়ে এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে এবং অভিযুক্ত কাজলকে ইতোমধ্যে আটক করা হয়েছে। লালমোহন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নূরুল আমিন নিহতের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আইনি ব্যবস্থা ও মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ভোলার লালমোহনে শিমগাছ রোপণ নিয়ে দ্বন্দ্বে যুবদল নেতা নিহত

আপডেট সময় : ০৯:১৭:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

ভোলার লালমোহনে শিমগাছ রোপণ নিয়ে বিরোধের জেরে ধারালো দায়ের কোপে গুরুতর আহত মো. ফিরোজ (৪৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। শনিবার বিকেলে ঢাকার সুপারম্যাক্স হেলথ কেয়ার লিমিটেড হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত ফিরোজ উপজেলার কালমা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বারের দোকান এলাকার বাসিন্দা এবং কালমা ইউনিয়ন (উত্তর) যুবদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তার মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া; বিশেষ করে তার ১২ বছরের শিশু কন্যা রিতুর আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে বাড়ির পরিবেশ। আমগো কী হইবো, আমরা কেমনে থাকমু?’- বাবার মৃত্যু শোকে এমন বুকফাটা আর্তনাদ ১২ বছরের শিশু মোসা। ‘আমার বাবারে আইন্না দেও, আমার বাবার কী দোষ ছিল। কখনো দিগ্বিদিক ছুটছে, কখনো বাবার জামা-কাপড় বুকে জড়িয়ে বিলাপ করছে সে। শোকে স্তব্ধ স্বজনরা, দিশেহারা পুরো পরিবার।

ঘটনার সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার, যখন ফিরোজ তার বাড়ির পাশে নিজের জমিতে শিমগাছ রোপণ করে সেখানে বাঁশের ঝোপ তৈরি করেন। শুক্রবার জুমার নামাজের পর প্রতিবেশী কাজলের স্ত্রী জান্নাত ওই বাঁশ কেটে ফেলেন। নামাজের পর ফিরোজ বাড়ি ফিরে বিষয়টি জানতে পেরে প্রতিবাদ জানালে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে কাজলের হস্তক্ষেপে বিষয়টি চরম আকার ধারণ করে এবং তিনি দা দিয়ে ফিরোজকে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করেন। এই হামলায় ফিরোজ গুরুতর জখম হন। নামাজ শেষে বাড়িতে ফিরে বিষয়টি দেখে জান্নাতকে বাধা দেন ফিরোজ।

আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভোলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে দ্রুত তাকে ঢাকায় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করার পর চিকিৎসকরা তাকে লাইফ সাপোর্টে রেখেছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। ফিরোজ তিন মেয়ে ও এক ছেলে সন্তানের জনক ছিলেন, তার এই অকাল মৃত্যুতে পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। কিন্তু তার কান্না শুনে আর ফিরবে না বাবা।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার খবর পেয়ে এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে এবং অভিযুক্ত কাজলকে ইতোমধ্যে আটক করা হয়েছে। লালমোহন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নূরুল আমিন নিহতের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আইনি ব্যবস্থা ও মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

Facebook Comments Box