দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান: সিডনির নতুন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শুরু বাণিজ্যিক ফ্লাইট
- আপডেট সময় : ০৯:২৪:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে দীর্ঘ আট দশকের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে যাত্রা শুরু করছে নতুন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। রোববার পশ্চিম সিডনির ব্যাজেরিস ক্রিকে অবস্থিত ‘ওয়েস্টার্ন সিডনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর’ (ন্যান্সি-বার্ড ওয়ালটন) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাণিজ্যিক যাত্রীবাহী ফ্লাইট কার্যক্রমের সূচনা হতে যাচ্ছে। দেশটিতে পাঁচ দশকের বেশি সময় পর এটি একটি নতুন প্রধান বিমানবন্দর চালুর ঐতিহাসিক ঘটনা। নতুন এই বিমানবন্দর চালু হওয়ায় পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিম সিডনিতে বসবাসরত বিশাল প্রবাসী বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক স্বস্তি দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রস্থল থেকে দূরত্বের বিষয়টি কাটিয়ে পূর্ণ বাণিজ্যিক কার্যকারিতা পেতে কিছুটা সময় লাগলেও এটি পুরো রাজ্য এবং দেশের অর্থনীতিতে এক যুগান্তকারী রূপান্তর ঘটাবে।
সিডনি শহর থেকে প্রায় ৪৪ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত এই বিমানবন্দরটি সার্বক্ষণিক বা ২৪ ঘণ্টা সচল থাকবে। সিডনির প্রধান বিমানবন্দরে রাত ১১টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত ফ্লাইট চলাচলের ওপর যে নৈশকালীন নিষেধাজ্ঞা বা কারফিউ রয়েছে, নতুন এই বিমানবন্দরে তা থাকছে না। ফলে গভীর রাত কিংবা খুব ভোরেও এখানে নিরবচ্ছিন্নভাবে ফ্লাইট ওঠানামা করা সম্ভব হবে।
বিমানবন্দরটির প্রথম পর্যায়ে ৩ দশমিক ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি রানওয়ে এবং সমন্বিত টার্মিনাল চালু করা হয়েছে। এই রানওয়েতে বিশ্বের অন্যতম বড় উড়োজাহাজ এয়ারবাস এ৩৮০ অনায়াসে ওঠানামা করতে পারবে। বর্তমানে বছরে এক কোটি যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা থাকলেও ভবিষ্যতে দ্বিতীয় রানওয়ে ও টার্মিনাল সম্প্রসারণের মাধ্যমে তা আট কোটিতে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর অন্যতম প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য হলো, এখানে কোনো প্রথাগত এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল টাওয়ার নেই, বরং সম্পূর্ণ ডিজিটাল রিমোট ব্যবস্থার মাধ্যমে উড়োজাহাজ নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
এই বৃহৎ অবকাঠামো তৈরির যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৪৬ সালে লেবার সরকারের আমলে। পরবর্তীতে ১৯৮৬ সালে ব্যাজেরিস ক্রিকে ১ হাজার ৭৮০ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ করা হলেও দীর্ঘ রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় প্রকল্পটি থমকে ছিল। দীর্ঘ সময় পর ২০১৪ সালে লিবারেল জোট সরকার প্রকল্পটির চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় এবং ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর থেকে পুরোদমে নির্মাণকাজ শুরু হয়। চলতি বছরের জুলাই মাসে কার্গো বা মালবাহী ফ্লাইট চালুর পর এবার নিয়মিত যাত্রীসেবার যাত্রা শুরু হলো।
জেটস্টার এয়ারলাইনস বর্তমানে অভ্যন্তরীণ রুটে সবচেয়ে বেশি ফ্লাইট পরিচালনার প্রস্তুতি নিয়েছে। এছাড়া সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস, এয়ার নিউজিল্যান্ড ও ভিয়েতজেট আন্তর্জাতিক রুটে কার্যক্রম শুরুর অপেক্ষায় রয়েছে। ২০২৭ সাল নাগাদ কোয়ান্টাস ও কাতার এয়ারওয়েজও এখান থেকে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করবে। নতুন এই বিমানবন্দর পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিম সিডনির বাসিন্দাদের জন্য বড় স্বস্তির কারণ হলেও, দ্রুতগতির রেলসংযোগ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত যাতায়াত ব্যবস্থা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে থাকবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
পুরো প্রকল্প বাস্তবায়নে ৫ দশমিক ৩ বিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার ব্যয় হয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া মেট্রোরেল ও মোটরওয়েসহ অন্যান্য অবকাঠামোগত সহায়তায় ফেডারেল ও এনএসডব্লিউ সরকার মোট ২৫ বিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার বা প্রায় ২ লাখ ১৭ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে।
সূত্র: প্রথম আলো

























