ঢাকা ১২:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
লক্ষ্মীপুর বিসিক শিল্পনগরীর ২৯ বছরেও কাটেনি নানা সংকট আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের মধ্যে সম্পর্ক সুস্পস্ট: রিজভী নতুন আয়োজনে কুমার বিশ্বজিতের জনপ্রিয় গান ‘যেখানে সীমান্ত তোমার’ দাম্মাম বিমানবন্দরে হামলায় আহত ২ বাংলাদেশি সুস্থ রয়েছেন ওয়ানডেতে দ্রুততম ডাবল সেঞ্চুরির বিশ্ব রেকর্ড হ্যারি ব্রুকের কাউনিয়ায় ডোবার পানিতে গড়িয়ে পড়া খেলনা গাড়ি তুলতে গিয়ে শিশুর মৃত্যু ব্যাটে-বলে বিশ্ব কাঁপানো ১০ অলরাউন্ডারের ক্রিকেট মহাকাব্য কাউনিয়ায় যুবদলের প্রস্তুস্তি সভা ছাত্র-ছাত্রীদের মানবিক মানুষ হওয়ার আহবান হারাগাছ অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে এসএসসি কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও অভিভাবক সমাবেশে প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে টোকিও থাকছেন না রাষ্ট্রদূত দাউদ আলী

মনোনয়ন বঞ্চিত নেতার আবেগঘন বক্তব্য শুনে বিএনপি কর্মীর মৃত‍্যু

সুনামগঞ্জ থেকে আমির হোসেন
  • আপডেট সময় : ০৯:২৩:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৫ ৫০৮৪ বার পড়া হয়েছে

হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি বিএনপিকর্মী মোদাচ্ছির আলমের পাশে কামরুজ্জামান কামরুল।

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

মনোনয়ন বঞ্চিত নেতার আবেগঘন বক্তব্য শুনে বিএনপি কর্মীর মৃত‍্যু

 

মনোনয়ন বঞ্চিত নেতার আবেগঘন বক্তব্য শুনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বিএনপির এক কর্মীর মৃত‍্যু, আরও একজন হাসপাতালে।
সুনামগঞ্জ-১(তাহিরপুর,জামালগঞ্জ,মধ্যনগর ও ধর্মপাশা) আসনে জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি কামরুজ্জামান কামরুল বিএনপির দলীয় মনোনয়ন না পাওয়াতে মনোনয়ন বঞ্চিত নেতার আবেগঘন ও কান্নাজড়িত কণ্ঠে বক্তব্য শুনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বিএনপির এক কর্মী এবং আরেককর্মী হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

 

 

শুক্রবার বিকেলে তাহিরপুরবাজারে ৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবসের আলোচনা সভায় সন্ধ্যায় এই মর্মান্তিক ও হৃদয়বিধারক ঘটনাটি ঘটে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বক্তব্য দেন সুনামগঞ্জ-১ আসনে ধানের শীষের মনোনয়ন বঞ্চিত সবচেয়ে জনপ্রিয় তরুণ নেতা কামরুজ্জামান কামরুল।

পড়ুন>> সহকারী শিক্ষকদের একবারে ১৩তম থেকে দশম গ্রেডে আসার যুক্তি নেই

 

তিনি মনোনয়ন না পাওয়ায় তার প্রতি সংহতি জানিয়ে এবং তাকে মনোনয়ন দানের দাবিতে হাজার হাজার নেতাকমীর্রা বিপ্লব ও সংহতি দিবসের অনুষ্ঠানে এসে যোগ দেন। এই অনুষ্ঠানেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান মধ্য-তাহিরপুর গ্রামের শুলতু মিয়া(৫৫) এবং একই উপজেলার শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের বিএনপির আরেক কর্মী মোদাচ্ছির আলম হৃদরোগে আক্রান্ত হন। মোদাচ্ছির এখন সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

 

উল্লেখ্য কামরুজ্জামান কামরুলকে প্রতিটি সমাবেশে নেতাকর্মীরা ভালোবেসে টাকার মালা, ব্যাংকের চেক উপহার দেন। নারীরাও জমানো টাকা, সোনা গয়না বিক্রি করে তাকে সমাবেশে উপহার দেন।

 

উপস্থিত নেতাকর্মীরা জানান, গত মঙ্গলবার সুনামগঞ্জের ৫টি আসনের মধ্যে তিনটি আসনে দলের প্রাথমিক মনোনীত প্রার্থীও নাম ঘোষণা করে বিএনপি। সুনামগঞ্জ-১ আসনে কামরুজ্জামান কামরুলের বদলে উপজেলা নির্বাচনে কামরুলের কাছে বিপুল ভোটে পরাজিত আনিসুল হককে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়।

 

এই খবরে ওইদিনই অসুস্থ হয়ে পড়েন কামরুজ্জামান কামরুলের রাজনৈতিক ভক্ত ও বিএনপি কর্মী উজান তাহিরপুর গ্রামের শুলতু মিয়া (৫৫)।

পড়ুন>>খোলা আকাশের নিচে দুই শিশু সন্তানসহ রাত্রি যাপন গৃহহীন পরিবারের

 

শুক্রবার কামরুজ্জামান কামরুল বিপ্লব ও সংহতিি দবসে আসবেন এই খবর পেয়ে তিনি অসুস্থ শরীরেও অনুষ্ঠানে অংশ নিতে তাহিরপুর উপজেলা সদরে আসনে। কামরুল যখন আবেগঘন বক্তব্য দিচ্ছিলেন তখন আবার মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে নিচে পড়ে যান তিনি।

 

দলীয় কর্মীরা তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্ নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

এদিকে একই সময়ে বিএনপিকর্মী মোদাচ্ছির আলমও কামরুলের আবেগঘন বক্তব্য শুনে মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েন। তিনিও হৃদরোগে আক্রান্ত হন। তাকে তাৎক্ষণিকভাবে কামরুজ্জামান কামরুল তাকে তৎিক্ষনিক সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানোর পর তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সেখানে তিনি নিজে উপস্থিত থেকে তার চিকিৎসা তত্ত্বাবধান করছেন।

আরও পড়ুন>> গণভোটের তারিখ নভেম্বরের মধ্যেই ঘোষণা করতে হবে -ডা. ফখরুদ্দিন মানিক

হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারী শুলতু মিয়ার ছেলে ছাত্রদল নেতা মাজহারুল ইসলাম নবাব বলেন, আমার বাবা আমাদের নেতা কামরুজ্জামান কামরুলের মনোনয়ন না পাওয়ার খবরে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। বাবা কামরুল সাহেবের অসম্ভব ভক্ত ছিলেন। এই অসুস্থ শরীর নিয়েও তিনি শুক্রবার বিপ্লব ও সংহতি দিবসের আলোচনা সভায় আসেন। কামরুজ্জামান কামরুল যখন আবেগঘন বক্তব্য দিচ্ছিলেন তখন তিনি নিচে পড়ে যান। তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

এদিকে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি বিএনপিকর্মী মোদাচ্ছির আলম বলেন, আমাদের আসনের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও কর্মীবান্ধব নেতা হলেন কামরুল ভাই। তিনি মনোনয়ন না পাওয়ায় খুব কষ্ট পেয়েছি। এই কষ্ট নিয়ে শুক্রবার যখন সমাবেশে যাই তখন তার আবেগঘন বক্তব্য শুনে বুকে ব্যথা অনুভব করি। পরে আমাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে।

 

তিনি বলেন, কামরুল আমাদের হৃদয়ের স্পন্দন। তিনি আমাদের সাধারন জনগনের মনের ভাষা বুঝেন। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা কামরুলের জন্য পাগল। তাকে মনোনয়ন দেওয়া হলে তার প্রতিদ্বন্ধী যে থাকবে তার জামানত থাকবেনা। আমরা দলীয় ফোরামে কামরুল ভাইকে চ‚ড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়ার দাবি জানাই।

আরও পড়ুন>>উলিপুরে বিএনপির প্রার্থী পরিবর্তনের দাবীতে মানববন্ধন

এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ-১ আসনে ধানের শীষের মনোনয়ন বঞ্চিত কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, আমার টাকাপয়সা নেই। আমার সভা সমাবেশে নেতাকর্মীরা খরচ তুলে পরিচালনা করেন। সাধারণ নেতাকর্মীরাই আমার ভালোবাসা। তারা আমাকে কতটা ভালোবাসেন সেটা বুঝানো সম্ভবন না।

 

আমার একজন ভক্ত কর্মী আবেগাপ্লুত হয়ে আমার বক্তব্যের সময় হৃদরোগে মারা গেছেন। আরেকজন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

 

মানুষের ভালোবাসা আছে বলেই অতীতে ফ্যাসিস্ট সরকার আমার বিরুদ্ধে ৭টি মামলা দিয়ে, অসংখ্যবার জেলে নিয়েও আমার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধবংস করতে পারিনি। এসব মানুষের ভালোবাসার প্রতিদান আমি কিভাবে শোধ করবো জানিনা। প্রয়োজনে তাদের জন্য আমিও জীবন দিতে প্রস্তুত আছি। আমি কর্মী হারানোর শোকে স্তব্দ।

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

মনোনয়ন বঞ্চিত নেতার আবেগঘন বক্তব্য শুনে বিএনপি কর্মীর মৃত‍্যু

আপডেট সময় : ০৯:২৩:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৫

 

 

মনোনয়ন বঞ্চিত নেতার আবেগঘন বক্তব্য শুনে বিএনপি কর্মীর মৃত‍্যু

 

মনোনয়ন বঞ্চিত নেতার আবেগঘন বক্তব্য শুনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বিএনপির এক কর্মীর মৃত‍্যু, আরও একজন হাসপাতালে।
সুনামগঞ্জ-১(তাহিরপুর,জামালগঞ্জ,মধ্যনগর ও ধর্মপাশা) আসনে জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি কামরুজ্জামান কামরুল বিএনপির দলীয় মনোনয়ন না পাওয়াতে মনোনয়ন বঞ্চিত নেতার আবেগঘন ও কান্নাজড়িত কণ্ঠে বক্তব্য শুনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বিএনপির এক কর্মী এবং আরেককর্মী হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

 

 

শুক্রবার বিকেলে তাহিরপুরবাজারে ৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবসের আলোচনা সভায় সন্ধ্যায় এই মর্মান্তিক ও হৃদয়বিধারক ঘটনাটি ঘটে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বক্তব্য দেন সুনামগঞ্জ-১ আসনে ধানের শীষের মনোনয়ন বঞ্চিত সবচেয়ে জনপ্রিয় তরুণ নেতা কামরুজ্জামান কামরুল।

পড়ুন>> সহকারী শিক্ষকদের একবারে ১৩তম থেকে দশম গ্রেডে আসার যুক্তি নেই

 

তিনি মনোনয়ন না পাওয়ায় তার প্রতি সংহতি জানিয়ে এবং তাকে মনোনয়ন দানের দাবিতে হাজার হাজার নেতাকমীর্রা বিপ্লব ও সংহতি দিবসের অনুষ্ঠানে এসে যোগ দেন। এই অনুষ্ঠানেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান মধ্য-তাহিরপুর গ্রামের শুলতু মিয়া(৫৫) এবং একই উপজেলার শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের বিএনপির আরেক কর্মী মোদাচ্ছির আলম হৃদরোগে আক্রান্ত হন। মোদাচ্ছির এখন সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

 

উল্লেখ্য কামরুজ্জামান কামরুলকে প্রতিটি সমাবেশে নেতাকর্মীরা ভালোবেসে টাকার মালা, ব্যাংকের চেক উপহার দেন। নারীরাও জমানো টাকা, সোনা গয়না বিক্রি করে তাকে সমাবেশে উপহার দেন।

 

উপস্থিত নেতাকর্মীরা জানান, গত মঙ্গলবার সুনামগঞ্জের ৫টি আসনের মধ্যে তিনটি আসনে দলের প্রাথমিক মনোনীত প্রার্থীও নাম ঘোষণা করে বিএনপি। সুনামগঞ্জ-১ আসনে কামরুজ্জামান কামরুলের বদলে উপজেলা নির্বাচনে কামরুলের কাছে বিপুল ভোটে পরাজিত আনিসুল হককে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়।

 

এই খবরে ওইদিনই অসুস্থ হয়ে পড়েন কামরুজ্জামান কামরুলের রাজনৈতিক ভক্ত ও বিএনপি কর্মী উজান তাহিরপুর গ্রামের শুলতু মিয়া (৫৫)।

পড়ুন>>খোলা আকাশের নিচে দুই শিশু সন্তানসহ রাত্রি যাপন গৃহহীন পরিবারের

 

শুক্রবার কামরুজ্জামান কামরুল বিপ্লব ও সংহতিি দবসে আসবেন এই খবর পেয়ে তিনি অসুস্থ শরীরেও অনুষ্ঠানে অংশ নিতে তাহিরপুর উপজেলা সদরে আসনে। কামরুল যখন আবেগঘন বক্তব্য দিচ্ছিলেন তখন আবার মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে নিচে পড়ে যান তিনি।

 

দলীয় কর্মীরা তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্ নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

এদিকে একই সময়ে বিএনপিকর্মী মোদাচ্ছির আলমও কামরুলের আবেগঘন বক্তব্য শুনে মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েন। তিনিও হৃদরোগে আক্রান্ত হন। তাকে তাৎক্ষণিকভাবে কামরুজ্জামান কামরুল তাকে তৎিক্ষনিক সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানোর পর তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সেখানে তিনি নিজে উপস্থিত থেকে তার চিকিৎসা তত্ত্বাবধান করছেন।

আরও পড়ুন>> গণভোটের তারিখ নভেম্বরের মধ্যেই ঘোষণা করতে হবে -ডা. ফখরুদ্দিন মানিক

হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারী শুলতু মিয়ার ছেলে ছাত্রদল নেতা মাজহারুল ইসলাম নবাব বলেন, আমার বাবা আমাদের নেতা কামরুজ্জামান কামরুলের মনোনয়ন না পাওয়ার খবরে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। বাবা কামরুল সাহেবের অসম্ভব ভক্ত ছিলেন। এই অসুস্থ শরীর নিয়েও তিনি শুক্রবার বিপ্লব ও সংহতি দিবসের আলোচনা সভায় আসেন। কামরুজ্জামান কামরুল যখন আবেগঘন বক্তব্য দিচ্ছিলেন তখন তিনি নিচে পড়ে যান। তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

এদিকে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি বিএনপিকর্মী মোদাচ্ছির আলম বলেন, আমাদের আসনের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও কর্মীবান্ধব নেতা হলেন কামরুল ভাই। তিনি মনোনয়ন না পাওয়ায় খুব কষ্ট পেয়েছি। এই কষ্ট নিয়ে শুক্রবার যখন সমাবেশে যাই তখন তার আবেগঘন বক্তব্য শুনে বুকে ব্যথা অনুভব করি। পরে আমাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে।

 

তিনি বলেন, কামরুল আমাদের হৃদয়ের স্পন্দন। তিনি আমাদের সাধারন জনগনের মনের ভাষা বুঝেন। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা কামরুলের জন্য পাগল। তাকে মনোনয়ন দেওয়া হলে তার প্রতিদ্বন্ধী যে থাকবে তার জামানত থাকবেনা। আমরা দলীয় ফোরামে কামরুল ভাইকে চ‚ড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়ার দাবি জানাই।

আরও পড়ুন>>উলিপুরে বিএনপির প্রার্থী পরিবর্তনের দাবীতে মানববন্ধন

এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ-১ আসনে ধানের শীষের মনোনয়ন বঞ্চিত কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, আমার টাকাপয়সা নেই। আমার সভা সমাবেশে নেতাকর্মীরা খরচ তুলে পরিচালনা করেন। সাধারণ নেতাকর্মীরাই আমার ভালোবাসা। তারা আমাকে কতটা ভালোবাসেন সেটা বুঝানো সম্ভবন না।

 

আমার একজন ভক্ত কর্মী আবেগাপ্লুত হয়ে আমার বক্তব্যের সময় হৃদরোগে মারা গেছেন। আরেকজন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

 

মানুষের ভালোবাসা আছে বলেই অতীতে ফ্যাসিস্ট সরকার আমার বিরুদ্ধে ৭টি মামলা দিয়ে, অসংখ্যবার জেলে নিয়েও আমার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধবংস করতে পারিনি। এসব মানুষের ভালোবাসার প্রতিদান আমি কিভাবে শোধ করবো জানিনা। প্রয়োজনে তাদের জন্য আমিও জীবন দিতে প্রস্তুত আছি। আমি কর্মী হারানোর শোকে স্তব্দ।

 

 

Facebook Comments Box