বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বাড়াতে আগ্রহী ফ্রান্স
- আপডেট সময় : ০১:১৭:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে ফ্রান্স প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ফরাসি রাষ্ট্রদূত জঁ-মার্ক সেরে-শার্লে। মঙ্গলবার ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব) আয়োজিত ‘ডিক্যাব টক’ অনুষ্ঠানে তিনি দুই দেশের মধ্যে অভিন্ন মূল্যবোধের ভিত্তিতে সহযোগিতার বিশাল সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক, বহুপক্ষীয় সহযোগিতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পক্ষে থাকা দেশগুলোকে এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সক্রিয় হতে হবে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ১৯৯৮ সাল থেকে সক্রিয় সাংবাদিক সংগঠন ডিক্যাবের প্রশংসা করেন রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্ব এক বড় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশ্ব রাজনীতি আগের চেয়ে অনেক বেশি অনিশ্চিত ও সংঘাতপূর্ণ হয়ে ওঠায় সংলাপ এবং সহযোগিতার গুরুত্ব বহুগুণ বেড়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের দীর্ঘমেয়াদী শান্তি ও সমৃদ্ধির উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ১৯৫০ সালে রবার্ট শুম্যানের সেই সংলাপে শান্তি প্রতিষ্ঠার দর্শন আজও প্রাসঙ্গিক। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁও এই ইউরোপীয় প্রকল্পকে আরও সংস্কারের মাধ্যমে এগিয়ে নিতে আগ্রহী।
মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে রাষ্ট্রদূত জানান, গত ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির ঘোষণা দেন। সৌদি আরবের সঙ্গে সহ-সভাপতি হিসেবে আয়োজিত সেই সম্মেলন ছিল মূলত দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং একই সঙ্গে ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি সম্মিলিত প্রচেষ্টা।
ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ফ্রান্সের ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানের কথা জানিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার যুগে ফ্রান্স বহুপক্ষীয় ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দেয়। ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, জলদস্যুতা রোধ এবং পাচারের মতো নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় অংশীদার রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে মিলে কাজ করতে চায় তার দেশ। এছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো যাতে তাদের নিজস্ব কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখতে পারে, সেই বিষয়েও ফ্রান্স সংবেদনশীল।
দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের বার্ষিক দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ৪.৫ বিলিয়ন ইউরো ছাড়িয়েছে। তবে এই বাণিজ্যে কিছুটা ভারসাম্যহীনতা বিদ্যমান, যার ৯৫ শতাংশই বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের ওপর নির্ভরশীল। ফ্রান্স ভবিষ্যতে এই অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও বৈচিত্র্যময় করতে চায়। ওষুধ শিল্প, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং ডিজিটাল প্রযুক্তি খাতে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। পাশাপাশি জ্বালানি, পরিবহন এবং টেকসই নগর উন্নয়নের মতো বড় অবকাঠামোগত প্রকল্পে ফরাসি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ অব্যাহত থাকবে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ফ্রান্সের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে রাষ্ট্রদূত বলেন, ২০১৫ সালের প্যারিস জলবায়ু চুক্তির অন্যতম প্রবক্তা হিসেবে ফ্রান্স পরিবেশগত ইস্যুকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়। ফরাসি উন্নয়ন সংস্থার তহবিলের ৮০ শতাংশের বেশি এখন জলবায়ু সহনশীলতা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের কাজে ব্যয় হচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ এবং রাজনৈতিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় ফ্রান্স নিয়মিত সহায়তা করছে।
নারীর ক্ষমতায়ন ও জেন্ডার সমতার বিষয়ে রাষ্ট্রদূত জানান, ২০২৫-২০৩০ মেয়াদের নতুন কৌশলপত্রে শিক্ষা, জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এবং অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। সবশেষে তিনি বলেন, বাংলাদেশকে একটি দীর্ঘদিনের ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার মনে করে ফ্রান্স। আগামী দিনে ব্যবসা, বাণিজ্য এবং টেকসই উন্নয়নে বাংলাদেশ-ফ্রান্স সম্পর্ক আরও গভীর ও মজবুত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাঁর মতে, বিভিন্ন দেশের মধ্যে সংঘাত অনেক ক্ষেত্রে যোগাযোগের মাধ্যম হয়ে উঠছে এবং সহযোগিতার পরিসর সংকুচিত হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যুদ্ধ ও সংঘাতের বিস্তার এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কে বলপ্রয়োগের প্রবণতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ১৯৫০ সালে তৎকালীন ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট শুম্যানের উপস্থাপিত ধারণা পরবর্তী সময়ে ইউরোপীয় একীকরণের অন্যতম ভিত্তি হয়ে ওঠে বলেও জানান রাষ্ট্রদূত। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সৌদি আরবের সঙ্গে সহসভাপতিত্বে দ্বিরাষ্ট্র সমাধান নিয়ে আয়োজিত সম্মেলনের প্রেক্ষাপটে ফ্রান্স এ সিদ্ধান্ত নেয় বলে জানান তিনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফ্রান্সের বাংলাদেশ থেকে আমদানির প্রায় ৯৫ শতাংশই টেক্সটাইল, বিশেষ করে পোশাক ও পরিধেয় পণ্য থেকে আসে বলে জানান তিনি।
সূত্র: ডেইলি বাংলাদেশ
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ
























