ঢাকা ১২:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মধ্যপ্রাচ্যে আরও রণতরী ও সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র প্রজন্ম ধরে ভাগ্য নির্ধারণ করছে: প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গোপসাগর প্রজন্মের পর সাতক্ষীরায় মারামারি থামাতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে রুচিরা বেকারির মালিকের ছেলের বাংলামোটরে আগ্নেয়াস্ত্রের আঘাতে ওষুধ ব্যবসায়ী আহত রূপপুরের পথে ইউরেনিয়ামের চালান, জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থা কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৩৬৩ জন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়ল ইউরেনিয়ামের প্রথম ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব হবে দক্ষিণ আফ্রিকা ও নামিবিয়ায় আজকের খেলার সূচি: টিভিতে চোখ রাখুন ৩ অক্টোবর আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতার গুঞ্জন নাকচ করল জামায়াত

পুতিন–মোদি বৈঠকে কী পেল দুই দেশ

সৃষ্টি আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৬:২৫:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫ ১২১ বার পড়া হয়েছে

ছবি রয়টার

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

পুতিন–মোদি বৈঠকে কী পেল দুই দেশ

 

পুতিন–মোদি বৈঠকে কী পেল দুই দেশ।
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কিছুটা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া পুতিনের জন্য এই সফর ছিল কূটনৈতিক দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ। ভারতের দেওয়া লাল গালিচা অভ্যর্থনা পশ্চিমা বিশ্বে নতুন রাজনৈতিক বার্তাও পাঠিয়েছে।

 

 

প্রোটোকল, কামানের সালাম, প্রাসাদীয় নৈশভোজ—সব মিলিয়ে পুতিনকে দেওয়া অভ্যর্থনা ছিল নজরকাড়া। কিন্তু বৈঠকে বড়মাপের চুক্তি হয়নি। ঘোষিত চুক্তিগুলোর মধ্যে রয়েছে রাশিয়া–ভারত অর্থনৈতিক সহযোগিতা কর্মসূচি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও সরবরাহ শৃঙ্খলা–সম্পর্কিত সমঝোতা এবং রাশিয়ার কালুগা অঞ্চলে যৌথভাবে একটি ওষুধ কারখানা নির্মাণ।

 

 

ভারত গত দুই বছর ধরে ছাড়মূল্যে রুশ তেল কিনছে, যা মস্কোর অর্থনীতির বড় সহায়ক। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ করেছে—ভারত ক্রেমলিনের যুদ্ধ তহবিল শক্তিশালী করছে। ট্রাম্প প্রশাসন ভারতীয় পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপ করে দিল্লিকে চাপ দিচ্ছে রুশ তেল কেনা কমাতে।

 

     পুতিন বৈঠকে বলেছেন, ভারতকে “নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ” দিতে রাশিয়া প্রস্তুত। তবে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বা দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি হয়নি। এখন প্রশ্ন—দিল্লি কি ওয়াশিংটনের চাপ উপেক্ষা করে রুশ তেলের ওপর নির্ভরতা বজায় রাখবে?

 

 

 

 

সফরের আগে জল্পনা ছিল—ভারত কি নতুন রুশ যুদ্ধবিমান বা উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিনতে পারে? কিন্তু কোনো প্রতিরক্ষা চুক্তি ঘোষণা করা হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ভারতের ভারসাম্যের কূটনীতি—রাশিয়াকেও কাছে রাখা, আবার যুক্তরাষ্ট্রকেও দূরে না সরানো।

 

 

তবে এস-৪০০ সিস্টেমের বাকি ইউনিট সরবরাহ বিলম্বিত হওয়া এবং ভবিষ্যৎ যুদ্ধবিমান প্রকল্প—এসব নিয়ে দুই পক্ষ আলোচনা করেছে বলে ধারণা করা হয়।

 

 

রুশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মোদি–পুতিনের অনানুষ্ঠানিক নৈশভোজই ছিল সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সেখানে দু’দেশের সংবেদনশীল রাজনৈতিক, প্রতিরক্ষা ও

 

দুই দেশের বক্তব্যে পরিষ্কার—সফরের কেন্দ্রবিন্দু ছিল বাণিজ্য। বর্তমান দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ২০২০ সালের ৮.১ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে হয়েছে ৬৮.৭২ বিলিয়ন ডলার। এর বড় অংশই এসেছে রুশ তেল আমদানি থেকে।

 

দুই নেতা আগামী পাঁচ বছরে বাণিজ্য ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়েছেন। ভারত একই সঙ্গে ইউরেশিয়ান ইকোনমিক ইউনিয়নের সঙ্গে ফ্রি ট্রেড চুক্তির অগ্রগতিও উল্লেখ করেছে—যা ভবিষ্যতে বাজার সম্প্রসারণে সহায়ক হতে পারে।

পড়ুন>>জাল সনদে কলেজে চাকরি করার অভিযোগ

 

মস্কো ও দিল্লি জাঁকজমকপূর্ণ অভ্যর্থনার মাধ্যমে তাদের কৌশলগত অংশীদারত্ব তুলে ধরলেও বড় কোনো প্রতিরক্ষা বা জ্বালানি চুক্তি হয়নি। তবে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, জ্বালানি সহযোগিতা ও দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক বার্তা—এই সফর দুই পক্ষের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

পুতিন–মোদি বৈঠকে কী পেল দুই দেশ

আপডেট সময় : ০৬:২৫:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫

 

 

পুতিন–মোদি বৈঠকে কী পেল দুই দেশ

 

পুতিন–মোদি বৈঠকে কী পেল দুই দেশ।
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কিছুটা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া পুতিনের জন্য এই সফর ছিল কূটনৈতিক দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ। ভারতের দেওয়া লাল গালিচা অভ্যর্থনা পশ্চিমা বিশ্বে নতুন রাজনৈতিক বার্তাও পাঠিয়েছে।

 

 

প্রোটোকল, কামানের সালাম, প্রাসাদীয় নৈশভোজ—সব মিলিয়ে পুতিনকে দেওয়া অভ্যর্থনা ছিল নজরকাড়া। কিন্তু বৈঠকে বড়মাপের চুক্তি হয়নি। ঘোষিত চুক্তিগুলোর মধ্যে রয়েছে রাশিয়া–ভারত অর্থনৈতিক সহযোগিতা কর্মসূচি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও সরবরাহ শৃঙ্খলা–সম্পর্কিত সমঝোতা এবং রাশিয়ার কালুগা অঞ্চলে যৌথভাবে একটি ওষুধ কারখানা নির্মাণ।

 

 

ভারত গত দুই বছর ধরে ছাড়মূল্যে রুশ তেল কিনছে, যা মস্কোর অর্থনীতির বড় সহায়ক। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ করেছে—ভারত ক্রেমলিনের যুদ্ধ তহবিল শক্তিশালী করছে। ট্রাম্প প্রশাসন ভারতীয় পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপ করে দিল্লিকে চাপ দিচ্ছে রুশ তেল কেনা কমাতে।

 

     পুতিন বৈঠকে বলেছেন, ভারতকে “নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ” দিতে রাশিয়া প্রস্তুত। তবে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বা দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি হয়নি। এখন প্রশ্ন—দিল্লি কি ওয়াশিংটনের চাপ উপেক্ষা করে রুশ তেলের ওপর নির্ভরতা বজায় রাখবে?

 

 

 

 

সফরের আগে জল্পনা ছিল—ভারত কি নতুন রুশ যুদ্ধবিমান বা উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিনতে পারে? কিন্তু কোনো প্রতিরক্ষা চুক্তি ঘোষণা করা হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ভারতের ভারসাম্যের কূটনীতি—রাশিয়াকেও কাছে রাখা, আবার যুক্তরাষ্ট্রকেও দূরে না সরানো।

 

 

তবে এস-৪০০ সিস্টেমের বাকি ইউনিট সরবরাহ বিলম্বিত হওয়া এবং ভবিষ্যৎ যুদ্ধবিমান প্রকল্প—এসব নিয়ে দুই পক্ষ আলোচনা করেছে বলে ধারণা করা হয়।

 

 

রুশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মোদি–পুতিনের অনানুষ্ঠানিক নৈশভোজই ছিল সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সেখানে দু’দেশের সংবেদনশীল রাজনৈতিক, প্রতিরক্ষা ও

 

দুই দেশের বক্তব্যে পরিষ্কার—সফরের কেন্দ্রবিন্দু ছিল বাণিজ্য। বর্তমান দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ২০২০ সালের ৮.১ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে হয়েছে ৬৮.৭২ বিলিয়ন ডলার। এর বড় অংশই এসেছে রুশ তেল আমদানি থেকে।

 

দুই নেতা আগামী পাঁচ বছরে বাণিজ্য ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়েছেন। ভারত একই সঙ্গে ইউরেশিয়ান ইকোনমিক ইউনিয়নের সঙ্গে ফ্রি ট্রেড চুক্তির অগ্রগতিও উল্লেখ করেছে—যা ভবিষ্যতে বাজার সম্প্রসারণে সহায়ক হতে পারে।

পড়ুন>>জাল সনদে কলেজে চাকরি করার অভিযোগ

 

মস্কো ও দিল্লি জাঁকজমকপূর্ণ অভ্যর্থনার মাধ্যমে তাদের কৌশলগত অংশীদারত্ব তুলে ধরলেও বড় কোনো প্রতিরক্ষা বা জ্বালানি চুক্তি হয়নি। তবে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, জ্বালানি সহযোগিতা ও দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক বার্তা—এই সফর দুই পক্ষের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

 

 

Facebook Comments Box