আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতার গুঞ্জন নাকচ করল জামায়াত
- আপডেট সময় : ০৭:৩৩:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
রাজনৈতিক অঙ্গনে সম্প্রতি কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর সমঝোতা নিয়ে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের চলমান টানাপড়েন এবং দলটির বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে এই আলোচনার সূত্রপাত হয়। তবে জামায়াত এসব জল্পনা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। দলটি জোরালোভাবে বলেছে, ফ্যাসিবাদের সঙ্গে আপসের কোনো সুযোগ তাদের নেই। ফেনীর ফুলগাজীতে গত ১লা অক্টোবর আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্তব্য করেছেন যে, উন্নয়নের ধারা বাধাগ্রস্ত করার লক্ষ্যে স্বৈরাচার ও গুপ্তদল আবারও একজোট হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। এখন ক্ষমতায় থেকে যদি কেউ ফ্যাসিবাদের বয়ান আওড়ান, তাহলে সেটা তার জন্য, তার দলের জন্য এবং দেশবাসীর জন্য নিশ্চয়ই কোনো কল্যাণকর হবে না।
জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সরকারি বাসভবনে আয়োজিত ‘জুলাই এখনো শেষ হয়নি’ শীর্ষক স্থিরচিত্র প্রদর্শনী ঘিরেও রাজনৈতিক উত্তাপ বেড়েছে। ওই প্রদর্শনীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ছবি থাকলেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ছবি না থাকায় বিএনপি আপত্তি জানায়। জামায়াত পরে এর ব্যাখ্যা দিলেও, আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাদের কথিত অ্যালায়েন্স নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়। তৃণমূল পর্যায়ে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার দাবি, গত ১২ই ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে জামায়াতের একটি অংশের সঙ্গে তাদের যোগাযোগের চেষ্টা চলছে।
জামায়াতের সাম্প্রতিক কর্মসূচিতে মূলত জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার, নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, জ্বালানি সংকট সমাধান এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার দাবিই প্রাধান্য পাচ্ছে। এসব ইস্যুকে কেন্দ্র করে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও রংপুরে লংমার্চ করেছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। বর্তমানে বরিশাল, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগে নতুন করে লংমার্চ করার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে। আগামী ১৪ই নভেম্বর ঢাকার মহাসমাবেশের দিনক্ষণ পরিবর্তন হতে পারে বলে জোটের সূত্র জানিয়েছে। লংমার্চ কর্মসূচি শেষে ডিসেম্বরে ঢাকায় বড় কোনো কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে। উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত জোট ৭৭টি আসন নিয়ে বিরোধী দলের আসনে রয়েছে এবং তাদের ১২ জন নারী সংসদ সদস্য সংরক্ষিত আসনে রয়েছেন। জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য ধারাবাহিকভাবে মাঠে কর্মসূচি পালন করছে। শিগগিরই দিনক্ষণ চূড়ান্ত করে জানানো হবে। সংসদের ভেতরে থেকে সরকারের নীতিনির্ধারণ ও আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় নজরদারি, বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন তোলা এবং সংসদীয় কমিটিতে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি রাজপথেও রাজনৈতিক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার কৌশল নিয়ে জোটের মধ্যে আলোচনা চলছে।
আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনা নাকচ করে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, দেশ ও জাতি একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক পরিবেশ প্রত্যাশা করে। তিনি আরও বলেন, যারা জনগণকে হত্যা করেছে এবং ২৪-এর গণহত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের যথাযথ বিচারের আওতায় আনার প্রস্তুতি তাদের রয়েছে। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, ফ্যাসিবাদী বা যারা হত্যাকারী, তারা দেশ ও জাতির শত্রু। তাই এসব শক্তির সঙ্গে আপসের কোনো প্রশ্নই ওঠে না। জামায়াত তার স্বচ্ছ ও সুস্পষ্ট রাজনৈতিক আদর্শের পথেই আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। আমরা দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে সেই প্রস্তুতি রেখেছি। আমাদের রাজনীতি অত্যন্ত স্পষ্ট, অত্যন্ত স্বচ্ছ।
সূত্র: মানবজমিন
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ






















