তাহসিফের মৃত্যুরহস্য: তদন্তের শুরুতেই নৌপুলিশ ও পিবিআইয়ের সামনে একাধিক প্রশ্ন
- আপডেট সময় : ১১:৩০:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে
বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির (২৮) রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনাটি এখনো উদ্ঘাটন হয়নি। গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় উত্তরার বাসা থেকে বন্ধুর ডাকে বের হওয়ার পর ঠিক কী ঘটেছিল, কীভাবে তিনি তুরাগ নদের নির্জন রাজাবাড়ী ঘাট এলাকায় পৌঁছালেন এবং সেখানে সঙ্গে থাকা বন্ধুস্থানীয় ছোট ভাই আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের ভূমিকা কী ছিল—এসব নিয়ে চরম ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। এছাড়া নদের নির্জন এলাকা থেকে নম্বরপ্লেটবিহীন একটি মোটরসাইকেল উদ্ধারের পর সেটি কীভাবে সেখানে এল, তাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। বর্তমানে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মূল তদন্ত পরিচালনা করছে নৌপুলিশ। পাশাপাশি ঘটনাটি জাতীয় গুরুত্ব বিবেচনায় ছায়াতদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তবে এখন পর্যন্ত তাহসিফের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি পুলিশ। তবে এ তথ্যের ভিত্তিতে তাহসিফ বা দীপের সঙ্গে মাদক কারবারিদের কোনো বিরোধ ছিল কিংবা ঘটনাস্থলে মাদক কারবারিরা উপস্থিত ছিলেন—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি পিবিআই। ওদের সুইমিংয়ের কোর্স করা এবং তার ওপর সার্টিফিকেট আছে।
তদন্তের শুরুতেই উঠে আসছে যেসব জটিল প্রশ্ন
তদন্তের শুরুতেই কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে। তাহসিফ ও দীপের শেষ যাত্রার প্রকৃত গন্তব্য কোথায় ছিল? রাতের কোন সময়ে তারা রাজাবাড়ী ঘাট এলাকায় গিয়েছিলেন এবং সেখানে তাদের মূল উদ্দেশ্য কী ছিল? ওই নির্জন অঞ্চলে তাহসিফ কীভাবে পৌঁছালেন তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন স্বজনরা। পরিবারের একজন সদস্যের মতে, ওই অঞ্চলে সে কখনোই গিয়েছে বলে আমি মনে করি না। এছাড়া শেষবার একসঙ্গে বের হওয়ার পর তাদের মধ্যে ঠিক কী ঘটেছিল, তা উদ্ঘাটনে কাজ করছেন গোয়েন্দারা।
সিসিটিভি ফুটেজ ও শেষ বার একসঙ্গে বের হওয়া
পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় উত্তরার বাসা থেকে বের হন কে এম তাহসিফ সাউরি। বের হওয়ার আগে পরিবারের সদস্যদের কাছে তিনি জানান যে, দীপ নামের তার বন্ধুস্থানীয় এক ছোট ভাই এসেছেন এবং তার সঙ্গেই তিনি ঘুরতে বের হচ্ছেন। উত্তরার বাসার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সেদিন সন্ধ্যা ৬টা ২৪ মিনিটের দিকে দীপ তাহসিফদের বাসার গ্যারেজে আসেন। কিছুক্ষণ পর তাহসিফ নিচে নেমে আসেন এবং সন্ধ্যা ৬টা ৩১ মিনিটে দুজনকে পৃথক দুটি মোটরসাইকেলে করে গ্যারেজ থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থানের অনেক সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে সংস্থাটি।
বৃহস্পতিবার এ ঘটনার বিষয়ে একাধিক গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেন আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ। তার দেওয়া ভাষ্য অনুযায়ী, তাহসিফের মোটরসাইকেলটি নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে তিনি তার বাসায় গিয়েছিলেন। এরপর দুজনে মিলে বাইক সারানোর উদ্দেশ্যে বের হন। দীপের প্রাথমিক দাবি ছিল, রাত ১২টার দিকে তারা পৃথক হয়ে যান এবং বাসায় ফিরে তাহসিফকে ফোন করা হলে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে পরবর্তীতে পিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদে দীপ সম্পূর্ণ ভিন্ন তথ্য দেন। তিনি নতুন করে জানান যে, তাদের বিচ্ছেদ রাত ১২টায় হয়নি, বরং তারা রাতে আরও দীর্ঘ সময় একসঙ্গে বিভিন্ন স্থানে ঘুরেছিলেন। পরে ওয়ার্কশপে নিয়ে মোটরসাইকেলটি মেরামত ও তেল পরিবর্তন করান। খাবার শেষে হাউস বিল্ডিং এলাকায় এসে আলাদা হয়ে যান। বৃহস্পতিবার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।
দীপের বক্তব্যে ধোঁয়াশা ও পিবিআইয়ের সন্দেহ
পিবিআইয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দীপের প্রাথমিক বা পরবর্তী কোনো বক্তব্যই তারা সরাসরি বা অন্ধভাবে বিশ্বাস করছেন না। তার প্রতিটি বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করতে সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল কল ডিটেইলস রেকর্ড (সিডিআর) এবং অন্যান্য ডিজিটাল আলামত মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ঘটনাস্থল ও আশপাশের কয়েকটি জায়গা পরিদর্শন করেছেন তদন্তকারীরা। পরিদর্শনকালে তারা তুরাগ নদ সংলগ্ন এলাকার ভৌগোলিক অবস্থান এবং যোগাযোগের পথ পর্যবেক্ষণ করেন।
কাদের দেখে দৌড়েছিলেন দীপ ও তাহসিফ?
পিবিআই কর্মকর্তাদের কাছে দীপের দেওয়া বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনার রাতে তাহসিফ ও তিনি তুরাগ নদের কাছাকাছি একটি নির্জন এলাকায় অবস্থান করছিলেন। সেখানে পুলিশের মতো পোশাক পরা দুই ব্যক্তিকে দেখে তারা ভয়ে দৌড় দিয়েছিলেন বলে দাবি করেন দীপ। সেখানে কাদের দেখে তারা দৌড় দিয়েছিলেন বলে দাবি করছেন দীপ—তা নিয়ে চরম ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। তবে দীপের এই বক্তব্যকে সম্পূর্ণ ‘হাস্যকর’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম। শুক্রবার দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে তিনি বলেন, এটি অত্যন্ত হাস্যকর ও বানানো গল্প। তার মতে, ঘটনার মূল সত্য ঢাকতেই দীপ এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছেন।
পিবিআইয়ের ঢাকা মেট্রো উত্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. এনায়েত হোসেন মান্নান শুক্রবার সাংবাদিকদের জানান, কথিত ধাওয়াকারীরা প্রকৃতই আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ছিলেন নাকি কোনো অপরাধী চক্র বা ভুয়া পুলিশ ছিল, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি জানান, ওই রাতে রাজাবাড়ী ঘাট বা সংলগ্ন কোনো এলাকায় পুলিশের কোনো অফিশিয়াল টহল দল ছিল কি না, তা-ও যাচাই করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞ মতামত ও তদন্তের গতিপথ
দীপের বক্তব্যে উঠে আসা অসংগতি নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছেন ডিজিটাল ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা। তার প্রশ্ন, ধাওয়ার কথিত ঘটনাটি সত্য হলে সেই ধাওয়াকারীরা কারা ছিল এবং তাদের আসল পরিচয় কী? যদি তারা প্রকৃত পুলিশ কর্মকর্তা বা অপরাধী হয়ে থাকে, তবে ঘটনা সম্পর্কে তারা কেন পুলিশে খবর দিলেন না? তানভীর হাসান জোহার মতে, দীপ যদি তাহসিফকে সশরীরে নদীতে ঝাঁপ দিতে দেখে থাকেন, তবে তার প্রথম বক্তব্যে বা সাক্ষাৎকারে সেই চাঞ্চল্যকর তথ্য কেন গোপন রাখা হলো, সেটিই তদন্তের প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
- পিবিআই কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া পরবর্তী তথ্য বিশ্লেষণ করে রাত ২টার দিকে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় তাহসিফ ও দীপের উপস্থিতির প্রমাণ বা ইঙ্গিত মিলেছে।
- তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, রাজাবাড়ী ঘাট ও তার আশপাশের চরাঞ্চল মাদকসংশ্লিষ্ট নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য আগে থেকেই পরিচিত। তবে শুধু এই তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তাহসিফ বা দীপের সঙ্গে মাদকের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
- তাহসিফের সঙ্গে বাসা থেকে বের হওয়া মোটরসাইকেলটি নিখোঁজ ছিল। তবে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকা থেকে একটি নম্বরপ্লেটবিহীন কালো রঙের মোটরসাইকেল উদ্ধার করে পুলিশ।
মোটরসাইকেল উদ্ধার ও সুরতহাল রিপোর্ট
পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ জানিয়েছেন, উদ্ধার করা নম্বরপ্লেটবিহীন মোটরসাইকেলটির ইঞ্জিন নম্বর, চেসিস নম্বর এবং অন্যান্য তথ্যাদি গভীরভাবে যাচাই করা হচ্ছে। সঠিক পরিচয় ও মালিকানা নিশ্চিত হওয়ার আগে এই বাইকটি তাহসিফের কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য করা সম্ভব নয়। গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে স্থানীয় চায়ের দোকানি জুবাইদা বেগমের বরাতে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলটি তার দোকানের পাশের রাস্তায় প্রায় দুদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। কোনো মালিক বা চালক এটি নিতে না আসায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী খবর পেয়ে তা উদ্ধার করে। এছাড়া বাসা থেকে দুটি বাইকে বের হওয়ার পর শেষ পর্যন্ত কোন বাইকটি কার কাছে ছিল, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
শেষ বার্তা ও আইফোনে মিলতে পারে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র
তাহসিফের মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটনে তার মায়ের কাছে পাঠানো শেষ বার্তাটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে দেখছেন গোয়েন্দারা। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত ১টা ৩৫ মিনিটে তাহসিফ তার মায়ের হোয়াটসঅ্যাপে একটি সংক্ষিপ্ত বার্তা পাঠান। এর কিছু পরেই তার ব্যবহৃত আইফোনটি বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে তুরাগ নদ থেকে মরদেহ উদ্ধারের সময় তাহসিফের পকেটে সেই আইফোনটি পাওয়া যায় এবং তার হাতঘড়িটিও সম্পূর্ণ অক্ষত ছিল। লাশের পকেটে থাকা আইফোনের মাধ্যমেই দ্রুত তার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়। বর্তমানে ফরেনসিক ল্যাবে আইফোনের ডাটা আনলক করার চেষ্টা চলছে। ডিজিটাল ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহাও মনে করেন, রাত ১টা ৩৫ মিনিটের শেষ বার্তা, উদ্ধার হওয়া আইফোনের ডিজিটাল তথ্য, সিসিটিভি ফুটেজ ও মেডিকোলিগ্যাল রিপোর্ট মেলালেই মৃত্যুর আসল কারণ বেরিয়ে আসবে। কিন্তু সেই চেষ্টার পরিবর্তে কাউকে হত্যা করা এবং হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করতে না পারার দায় এ ধরনের ঘটনা বাড়িয়ে দেয়। তার ভাষ্য, কেউ কাউকে হত্যা করে দায় থেকে মুক্ত হয়ে যেতে পারলে কিংবা বিচারের মুখোমুখি হওয়া থেকে দূরে থাকতে পারলে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়বে।
পরিবারের অভিযোগ ও পুলিশের পদক্ষেপ
তাহসিফের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পিবিআই কর্মকর্তারা সাফ জানিয়েছেন, এটি কোনো পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড নাকি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা—কোনো সম্ভাবনাই তারা তদন্তের বাইরে রাখছেন না। তাহসিফের সুরতহাল প্রতিবেদনে শরীরে দৃশ্যমান বড় ধরনের কোনো আঘাতের চিহ্ন না পাওয়া গেলেও নাক দিয়ে রক্ত বের হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। দীপ দাবি করেছেন, তাহসিফ নিজেই নদে ঝাঁপ দিয়েছেন। তবে তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম স্পষ্ট জানিয়েছেন যে তার ছেলে ভালো সাঁতার জানতেন, ফলে পানিতে ডুবে হুট করে তার মৃত্যুর দাবি রহস্যজনক। এনায়েতুল করিমের অভিযোগ, তার ছেলের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা হিসেবে চালিয়ে দিয়ে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা চলছে। তিনি বিষয়টিকে হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছেন। তাহসিফের শরীরে কোনো নেশাজাতীয় দ্রব্য, অ্যালকোহল বা বিষের উপস্থিতি ছিল কি না, সেটিও পরীক্ষার মাধ্যমে জানা যাবে বলে জানিয়েছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তদন্তের অংশ হিসেবে দীপকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
উত্তরখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, তাহসিফের বাবাকে সুনির্দিষ্ট মামলা দায়েরের জন্য থানায় আসতে বলা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো বক্তব্য, পরিবারের অভিযোগ এবং শেষ সঙ্গী দীপের বয়ানের মধ্যে চরম অমিল রয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো জানিয়েছে, প্রচলিত আইন ও নীতি অনুসরণ করে তদন্ত চালানো হচ্ছে। এই ঘটনার নেপথ্য রহস্য উদ্ঘাটন করে দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে। পুরো প্রতিবেদনটি বাংলাট্রিবিউন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি। পরিবার মামলা না করলে পুলিশই বাদী হবে।
সূত্র: দৈনিক এইদিন

















