নিখোঁজ বিমান কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরির সুরতহাল প্রতিবেদনে যা উঠে এসেছে
- আপডেট সময় : ০৪:২৫:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে
তুরাগ নদ থেকে উদ্ধার করা সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তা ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির লাশের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন সম্পন্ন করেছে পুলিশ। টঙ্গী নৌপুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছেন। এতে উল্লেখ করা হয়, বুধবার বিকাল পৌনে ৬টার দিকে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট সংলগ্ন এলাকা থেকে ভাসমান অবস্থায় তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অপমৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থলে বা লাশের কাছে গিয়ে মৃত ব্যক্তির বাহ্যিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে থাকে।
সুরতহাল প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, ২৮ বছর বয়সী তাহসিফের উচ্চতা আনুমানিক ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি। উদ্ধারের সময় তার গায়ে কালো ফুলহাতা কাবলি শার্ট এবং সাদা ট্রাউজার ছিল। পুলিশ জানিয়েছে, বাহ্যিকভাবে শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি, তবে উদ্ধারকালে নাক দিয়ে রক্তক্ষরণ হতে দেখা গেছে। এছাড়া তার চোখ-মুখ বন্ধ ছিল, হাতগুলো সামনের দিকে বাঁকানো ও মুষ্টিবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া গেছে এবং পেট কিছুটা ফোলা ছিল। মাথার চুল কালো, মুখে ছোট ছোট কালো দাড়ি ও গোঁফ ছিল।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, তাহসিফের বুক, পিঠ ও দুই পা স্বাভাবিক ছিল। মরদেহের কাছে পাওয়া একটি আইফোন এবং ঘড়ির সূত্র ধরে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে। নৌ পুলিশের তাৎক্ষণিক প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, তাহসিফের হাতে একটি ঘড়ি ও পকেটে একটি আইফোন পাওয়া যায়।
উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরে বসবাসরত তাহসিফের আদি নিবাস ছিল খুলনার সোনাডাঙ্গায়। প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের দিন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের সময় কুর্মিটোলা বিমানবন্দর থেকে সামরিক বিমানে তার প্রস্থানের দৃশ্য তাহসিফ ক্যামেরাবন্দী করেছিলেন বলে বিভিন্ন মহলে জোর আলোচনা রয়েছে। মাত্র ২৮ বছর বয়সে পাড়ি জমানো তাহসিফ বাস করতেন উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরে; তাঁর নাড়ির টান ছিল খুলনার সোনাডাঙ্গায়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার উত্তাল অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সূত্র: যুগান্তর
























