এলপিজির দাম ও কমিশন পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব নিয়ে বিইআরসির গণশুনানি
- আপডেট সময় : ০৬:১৩:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬ ১৭ বার পড়া হয়েছে
এলপিজির দাম বৃদ্ধি ও ব্যবসায়ীদের কমিশন পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাবের ওপর গণশুনানি শুরু করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাজধানীর ইস্কাটনের বিয়াম মিলনায়তনে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে এলপিজি আমদানিকারকেরা বর্তমান কমিশন দুই থেকে আড়াই গুণ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন। অন্যদিকে, পরিবেশকেরা কমিশন তিন গুণ করার দাবি জানিয়েছেন। বিইআরসিতে জমা দেওয়া আবেদনে দেখা যায়, ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের কমিশন ১৯১ টাকা থেকে বাড়িয়ে ওমেরা ৪৭৮ টাকা, পেট্রোম্যাক্স ৩৪৯ টাকা, ডেল্টা ৩৬০ টাকা এবং মেঘনা গ্রুপ ৩০০ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে। এ ছাড়া পরিবেশকেরা কমিশন ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০ টাকা এবং খুচরা বিক্রেতারা ৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০ টাকা নির্ধারণের আবেদন করেছেন। বর্তমানে দেশে এলপিজি আমদানির ব্যবসায় নিবন্ধিত কোম্পানির সংখ্যা ৩০টি, যার মধ্যে ছয়টি প্রতিষ্ঠান নিয়মিত আমদানি করে থাকে। এছাড়া আমদানিকারকদের কাছ থেকে গ্যাস সংগ্রহ করে নিজস্ব প্ল্যান্টে সিলিন্ডারজাত করার কাজে যুক্ত রয়েছে আরও ১২টি প্রতিষ্ঠান।
সিলিন্ডারের নতুন দাম ও অটোগ্যাসের হার
এর আগে গত ৪ অক্টোবর ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করেছিল বিইআরসি। একই সঙ্গে সাড়ে ৫ কেজি থেকে ৪৫ কেজি পর্যন্ত বিভিন্ন ওজনের সিলিন্ডারের দাম আনুপাতিক হারে বাড়ানো হয়। তখন প্রতি কেজি এলপিজির দাম নির্ধারণ করা হয় ১৫৩ টাকা ৬ পয়সা। এছাড়া অটোগ্যাসের দাম প্রতি লিটার ৭৩ টাকা ৯ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৮৪ টাকা ৬২ পয়সা করা হয়। ৪ অক্টোবরের নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী সিলিন্ডারের দামের তালিকা নিম্নরূপ
- সাড়ে ৫ কেজি ৮৪২ টাকা, ১২ কেজি ১ হাজার ৮৩৭ টাকা এবং সাড়ে ১২ কেজি ১ হাজার ৯১৩ টাকা।
- ১৫ কেজি ২ হাজার ২৯৬ টাকা, ১৬ কেজি ২ হাজার ৪৪৯ টাকা, ১৮ কেজি ২ হাজার ৭৫৫ টাকা এবং ২০ কেজি ৩ হাজার ৬১ টাকা।
- ২২ কেজি ৩ হাজার ৩৬৭ টাকা, ২৫ কেজি ৩ হাজার ৮২৭ টাকা, ৩০ কেজি ৪ হাজার ৫৯২ টাকা, ৩৩ কেজি ৫ হাজার ৫১ টাকা, ৩৫ কেজি ৫ হাজার ৩৫৭ টাকা এবং ৪৫ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৬ হাজার ৮৮৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
বিইআরসি কর্তৃক এই শুনানির মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের দাবি ও প্রান্তিক পর্যায়ের গ্রাহকদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে এলপিজির বর্তমান কমিশন কাঠামো ও মূল্য নির্ধারণের পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে বলে জানা গেছে। তবে পরিবেশকদের তিন গুণ কমিশন বৃদ্ধির দাবি সাধারণ ভোক্তাদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রতিটি আবেদন বিশ্লেষণ করে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। সভায় বিভিন্ন অংশীজন তাদের মতামত তুলে ধরেছেন, যা বিইআরসির পরবর্তী নির্দেশনায় প্রতিফলিত হওয়ার কথা রয়েছে। গ্যাসের বাজার স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে কমিশন বর্তমানে সব কয়টি আবেদনের ওপর বিশদ পর্যালোচনা চালাচ্ছে এবং শুনানি শেষে নতুন নির্দেশনা জারি করা হবে।
সূত্র: দৈনিক এদিন


























