চট্রগ্রামের অলংকার মোড়ে ফুটপাতের এক হকারকে উঠিয়ে দিয়ে অন্যজনকে বসিয়ে দেয়ার অভিযোগ : দৈনিক সৃষ্টি নিউজ
  1. admin@sristy.net : admin :
চট্রগ্রামের অলংকার মোড়ে ফুটপাতের এক হকারকে উঠিয়ে দিয়ে অন্যজনকে বসিয়ে দেয়ার অভিযোগ : দৈনিক সৃষ্টি নিউজ
রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:৪৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ চিলাহাটিতে গ্রেফতার-১ ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় জামায়াতের দায়িত্বশীলদের অগ্রনী ভূমিকা পালন করতে হবে -মিয়া গোলাম পরওয়ার সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তান প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগদানের সম্ভাবনা যাচাই করছে বাংলাদেশ ফেরদৌস শিপইয়ার্ডে নিহত-আহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের স্কপ এর সংবাদ সম্মেলন ইন্দোনেশিয়ায় আসিয়ান কাপে খেলার সুযোগ পেল বাংলাদেশ কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত পাঁচ বাংলাদেশির মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর আর্সেনালে মার্তিনেল্লির সঙ্গে আচরণে হতাশ ইয়ান রাইট শপথের পর হেয়ার রোডের বাসভবনে নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল, বঙ্গভবনে উঠবেন রোববার শিল্পখাতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবি ডিসিসিআইয়ের দি কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন (কালব) নব নির্বাচিত কমিটির সংবর্ধনা

চট্রগ্রামের অলংকার মোড়ে ফুটপাতের এক হকারকে উঠিয়ে দিয়ে অন্যজনকে বসিয়ে দেয়ার অভিযোগ

চট্টগ্রাম থেকে জিয়াউল ইসলাম জিয়া
  • প্রকাশিত : বুধবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৩
চট্রগ্রামের অলংকার মোড়ে ফুটপাতের এক হকারকে উঠিয়ে দিয়ে অন্যজনকে বসিয়ে দেয়ার অভিযোগ

অলংকার মোড়ে ফুটপাতের এক হকারকে উঠিয়ে দিয়ে অন্যজনকে বসিয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

অলংকার মোড়ে ফুটপাতের এক হকারকে জোরপূর্বক উঠিয়ে দিয়ে অন্য একজনকে বসিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশ ফাঁড়ির এক ইনচার্জের বিরুদ্ধে।

এছাড়া, এই কাজে উপপুলিশ কমিশনার এর নাম ভাঙ্গানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে।। যদিও বিষয়টি  ভিত্তিহীন। এ বিষয়ে অধিকতর খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন সিএমপি’র পশ্চিম বিভাগের উপ পুলিশ কমিশনার জসিম উদ্দিন।

অলংকার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সুমিত বড়ুয়া গত শনিবার (৯ই সেপ্টেম্বর) মধ্যরাত আনুমানিক ৩টার দিকে ২ থেকে ৩ জন লোককে কাজে লাগিয়ে অলংকার মোড়ের হোটেল ড্রীম নাইট সংলগ্ন ও বন্দর বিতান মার্কেটের সামনে ফল বিক্রয়ের ভ্রাম্যমান সরঞ্জাম সরিয়ে দিয়ে একটি নতুন চৌকি স্থাপনের মাধ্যমে দোকানটি দখলে নেন বলে জানান ৭ বছর ধরে সেই স্থানে ভ্রাম্যমাণ ব্যবসা করে আসা হকার রুবেল।

পরের দিন দেখা করে কারণ জানতে চাইলে ফাঁড়ির ইনচার্জ সুমিত বড়ুয়া হকার রুবেলকে জানায়, “ডিসি স্যারের আত্মীয় বিদেশ থেকে এসে বেকার অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। একটা দোকান ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য আমাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে অনেক দিন আগে থেকে।

তোমাদের হকারের নেতারা আমাকে একটা জায়গাও ঠিক করে দিতে পারেনি। স্যার যদি ক্ষিপ্ত হয় তাহলে কিন্তু সব হকারকে উচ্ছেদের মুখোমুখি হতে হবে।

ফুটপাতের জায়গাকে কেউ নিজের জায়গা বলার অধিকার নেই। আমার জায়গা’ এই শব্দটা যদি উচ্চারনণ করো তাহলে কিন্তু সবার ক্ষতি হবে, ৫ মিনিটও লাগবে না।”

এসকল বিষয়ে ভুক্তভোগী সেই হকার রুবেল গণমাধ্যমকে বলেন, “আমি খেটে খাওয়া মানুষ, দিনরাত ফুটপাতে ফল বিক্রি করে পরিবারের সদস্যদের পেট চালাই।

আজকে ৭ বছর ধরে আমি সেই স্থানে ব্যাবসা করছি, শনিবার সকালে এসে দেখি আমার সেই দোকানটি সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

জানতে পারলাম ফাড়ির ইনচার্জ সুমিত স্যার আমার জিনিসপত্র সরিয়ে একটি চৌকি এনে জায়গাটি দখল করেছেন।

রুবেল আরও জানান, এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুমিত স্যার বলেন ডিসি ওয়েস্ট স্যারের নির্দেশে স্যারের এক আত্মীয়ের জন্য আমার দোকানটি দখলে নেওয়া হয়েছে।

সুমিত স্যারকে এই বিষয়ে অনুরোধ করলে তিনি সকল হকারের ক্ষতি করবেন বলে হুমকি দিয়েছেন। তবে হকার রুবেল বলেন, আমার মনে হচ্ছে না যে, ডিসি স্যারের মতো এতো উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা নিজের বিদেশ ফেরত আত্মীয়ের জন্য ফুটপাতের সামান্য হকারকে ক্ষতি করার কথা চিন্তা করবেন।

সত্যতা জানতে সিএমপি’র পশ্চিম বিভাগের উপ পুলিশ কমিশনার জসিম উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ফুটপাতের হকারের দোকান দখলে আমার নির্দেশনার বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যে। বিষয়টি অধিকতর খতিয়ে দেখছি।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ পুলিশ কমিশনার (সদর) আব্দুল ওয়ারিশ বলেন, কোনো পুলিশ সদস্য কর্তৃক কোনো অপরাধ সংঘটিত হওয়ার অভিযোগ থাকলে, অভিযোগকারী পুলিশ কমিশনার মহোদয় বরাবর ঘটনার বিবরণ উল্লেখ করে আবেদন জানালে, কমিশনার মহোদয় বিষয়টি উর্ধতন কর্মকর্তা কর্তৃক তদন্ত করে প্রমাণ পাওয়া গেলে দোষীর বিরুদ্ধে যথাযত ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।

উক্ত অনিয়মের সত্যতার বিষয়ে জানতে চাইলে অলংকার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সুমিত বড়ুয়া অস্বীকার করে গণমাধ্যমকে বলেন, যে লোকটিকে দোকান ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে সে খুবই গরীব মানুষ। ডিসি স্যারের বিষয়টি আসলে সঠিক না, এটা ভুল ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছ, সরাসরি দেখা করলে আপনাকে পরিস্কারভাবে বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে পারবো।

ফুটপাতে পুলিশ ফাঁড়ির প্রভাব সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে জানা যায়,পাহাড়তলী থানাধীন সাগরিকা মোড় থেকে অলংকার মোড় হয়ে এ.কে. খান মোড় পর্যন্ত সড়কের ফুটপাত দখল করে গড়ে উঠা প্রায় ২ শতাধিক হকার নিয়ন্ত্রণ করে একটি হকার’স সংগঠন।

১৭ জন সদস্য বিশিষ্ট সেই হকার সংগঠনের সভাপতি হানিফ, সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহীম ও সাংগঠনিক সম্পাদক শাহজাহানের নেতৃত্বে সংগঠনের নামে আদায় করা হয় দোকান প্রতি নির্দিষ্ট চাঁদা। সেই চাঁদা থেকে নির্দিষ্ট অংক গুনে দিতে হয় সেই এলাকার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সুমিত বড়ুয়াকে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন হকার ব্যবসায়ী জানান, দোকান বসালে সংগঠনকে প্রতিদিন একটা খরচ দিতে হয়, যাদের ব্যবসা ভালো তারা পুলিশ খরচ সহ ২০০ থেকে ২৬০ টাকা এবং যাদের ব্যবসা একটু কম তারা পুলিশ খরচ সহ ১০০ থেকে ১২০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা প্রদান করে।

টাকাটা পরিশোধ করলে আর কোনো সমস্যা হয় না। কোনো সমস্যা হলেও হানিফ ভাইকে জানালে সমাধান করে দেয়। মাঝে মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেট অভিযান দিলে দোকানের ক্ষতি হয়।

হকারে নতুন দোকান বসানো বাবদ খরচের ব্যাপারে ছদ্মবেশে হকার সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহজাহানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, “রাস্তায় দোকান বসালে খরচ তো থাকবেই। কতো টাকা খরচ লাগে তা দোকান বসানোর পর নিজের চোখেই দেখবেন।”

অন্য হকারকে পেশীর জোড় দেখিয়ে অপসারন করে ডিসি’র নাম ভাঙ্গিয়ে সেই জায়গা দখল ও ফুটপাত থেকে চাঁদাবাজীর সাথে ফাঁড়ির ইনচার্জের সংশ্লিষ্টতার তথ্য মিলেছে ২৮ মিনিটের একটি গোপন ভিডিওতে যা গণ্যমাধ্যমের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর















error: Content is protected !!