ঢাকা ০৩:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন: পাঁচ ধাপে ৪৩০০ ইউপিতে ভোটের প্রস্তুতি সংসদ ভবনে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিনের প্রথম জানাজা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ড. ইউনূসের বিমানবন্দরে হেনস্তা নিয়ে যা বললেন সিদ্দিকুর রহমান সাংবাদিকদের নিবন্ধন ও জরিমানার ক্ষমতা চায় প্রেস কাউন্সিল জয়পুরহাটে নিখোঁজের পর অটোভ্যান চালকের মৃত অবস্থায় পাওয়ার ঘটনায় নরসিংদী সিভিল সার্জন কার্যালয়ে ১১৯ পদে নিয়োগ গাজায় গণহত্যায় জড়িতদের বিচার চেয়ে কঠোর হুশিয়ারি শেখ তামিমের টঙ্গীতে এসেনশিয়াল ড্রাগসের কারখানায় আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৩ ইউনিট ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে সরকারি স্কুলে ভর্তির নতুন নীতিমালা প্রকাশ

শিল্পখাতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবি ডিসিসিআইয়ের

ঢাকা মহানগর প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৬:১৩:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬ ২৪ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

শিল্পখাতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবি ডিসিসিআইয়ের

 

দেশের শিল্পখাতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সুদের হার কমানোর ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। শনিবার রাজধানীর মতিঝিলে আয়োজিত ‘২০২৬ অর্থবছরের দ্বি-বার্ষিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, প্রেক্ষিত রাজস্ব ও মুদ্রানীতি এবং বেসরকারিখাতের প্রত্যাশা’ শীর্ষক এক সেমিনারে সংগঠনটি বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশে নেমে আসায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

 

পড়ুন>>নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে ১২ কর্মী নিয়োগ: আবেদনের বিস্তারিত

এছাড়া পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান, আইসিসি বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান, পিআরআই চেয়ারম্যান ড. জায়েদি সাত্তার, সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান এবং ট্রান্সকম গ্রুপের সিইও সিমিন রহমানসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, দীর্ঘমেয়াদী উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও ঋণের উচ্চ ব্যয়ের কারণে বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। সরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ২৫ দশমিক ৯ শতাংশ হলেও বেসরকারি খাতে তা মাত্র ৫ শতাংশে সীমাবদ্ধ রয়েছে, যা বিনিয়োগ পরিস্থিতির জন্য উদ্বেগজনক। তিনি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার আরও কমিয়ে সহনীয় পর্যায়ে আনার আহ্বান জানান।

পড়ুন>>কাতারের কাছে ৪.৫ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির অনুমোদন যুক্তরাষ্ট্রের

সিএমএসএমই খাতের নাজুক অবস্থার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, এ খাতে প্রকৃত ঋণ প্রবাহের লক্ষ্যমাত্রা ২৫ শতাংশ থাকলেও বাস্তবে তা ১৬ দশমিক ৮ শতাংশে আটকে আছে। ব্যবসার খরচ বেড়ে যাওয়ায় এই খাতে খেলাপি ঋণের হার বেড়ে ২৪ দশমিক ১ শতাংশে পৌঁছেছে। এই সংকট উত্তরণে প্রচলিত জামানতনির্ভর ঋণের পরিবর্তে ডিজিটাল ক্রেডিট স্কোরিং পদ্ধতি চালু এবং সাশ্রয়ী মূল্যে যন্ত্রপাতি কেনার জন্য বিশেষ তহবিল গঠনের প্রস্তাব দেন তিনি।

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাসকীন আহমেদ আমদানির উৎস বহুমুখী করার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি অস্থিরতা মোকাবিলায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণে অফশোর গ্যাস ও জ্বালানি অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন। এছাড়া বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি পর্যালোচনার মাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় ভর্তুকির চাপ কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল বিদ্যুতের দাম নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

কৃষি খাতের উন্নয়নে তিনি ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য সৌরচালিত সেচ ব্যবস্থায় বিনিয়োগ সহজ করতে স্বল্পসুদের ঋণ চালুর পরামর্শ দেন। শিল্পাঞ্চলগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি লজিস্টিক ব্যবস্থার আধুনিকায়নে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) আওতায় বড় বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

আরও পড়ুন>>সিরাজগঞ্জে হারিয়ে যাওয়া ৫৩টি মোবাইল ফোন উদ্ধার, মালিকদের কাছে হস্তান্তর

সরকারের সংস্কারমূলক উদ্যোগের প্রশংসা করে ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, কোম্পানি নিবন্ধন প্রক্রিয়া ৪৮ ঘণ্টায় সম্পন্ন করা, বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা বাড়ানো এবং নতুন ১০টি খাতকে শুল্কমুক্ত সুবিধার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত ইতিবাচক।

 

এছাড়া কর ব্যবস্থাপনায় অটোমেশন, কাস্টমস প্রক্রিয়া দ্রুত করা এবং এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি হিসেবে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে পিটিএ ও এফটিএ চুক্তি দ্রুত সম্পন্ন করার ওপর জোর দেন তিনি।

তাসকীন আহমেদ আরও বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৩ দশমিক ১ শতাংশ হলেও বাণিজ্য বাধা, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট এবং পণ্য পরিবহনের খরচ দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ায় অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে। তবে যথাযথ নীতিগত সমন্বয়, কার্যকর সংস্কার এবং সরকারি-বেসরকারি খাতের নিবিড় অংশীদারত্বের মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জগুলোকে সুযোগে রূপান্তর করা সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আরও পড়ুন>>সংবাদপত্র শিল্পের সংকট ও উত্তরণের পথ: কেন এটি একটি জাতীয় বিনিয়োগ?

বেসরকারি খাতের প্রত্যাশা তুলে ধরে ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ধীরে ধীরে সুদের হার কমিয়ে সহনীয় পর্যায়ে আনতে হবে, যদিও এরই মধ্যে ৫০ বেসিস পয়েন্ট হ্রাস পেয়েছে।

 

তিনি বলেন, ঘোষিত সিএমএসএমই সহায়তা প্যাকেজের ৫ হাজার কোটি টাকার কার্যকর বাস্তবায়ন, স্বচ্ছ তদারকি এবং প্রকৃত উৎপাদনমুখী উদ্যোক্তাদের কাছে সহজে অর্থ পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে।

এর মধ্যে কোম্পানি নিবন্ধন প্রক্রিয়া ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে ৪৮ ঘণ্টায় সম্পন্ন করা, চামড়া, পাদুকা ও হোম টেক্সটাইল খাতে বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা আরও তিন বছর বাড়ানো এবং রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে ১০টি নতুন খাতকে শুল্কমুক্ত সুবি।

 

ব্যাংক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, খেলাপি ঋণ হ্রাস এবং আর্থিক খাতের প্রতি জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে।

 

সর্বোপরি, ব্যবসায়ীদের আস্থা ফিরিয়ে এনে স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়াতে হবে।  বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা নিঃসন্দেহে চ্যালেঞ্জপূর্ণ। এর প্রভাব পড়েছে বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যেও।

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

শিল্পখাতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবি ডিসিসিআইয়ের

আপডেট সময় : ০৬:১৩:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

 

শিল্পখাতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবি ডিসিসিআইয়ের

 

দেশের শিল্পখাতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সুদের হার কমানোর ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। শনিবার রাজধানীর মতিঝিলে আয়োজিত ‘২০২৬ অর্থবছরের দ্বি-বার্ষিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, প্রেক্ষিত রাজস্ব ও মুদ্রানীতি এবং বেসরকারিখাতের প্রত্যাশা’ শীর্ষক এক সেমিনারে সংগঠনটি বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশে নেমে আসায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

 

পড়ুন>>নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে ১২ কর্মী নিয়োগ: আবেদনের বিস্তারিত

এছাড়া পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান, আইসিসি বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান, পিআরআই চেয়ারম্যান ড. জায়েদি সাত্তার, সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান এবং ট্রান্সকম গ্রুপের সিইও সিমিন রহমানসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, দীর্ঘমেয়াদী উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও ঋণের উচ্চ ব্যয়ের কারণে বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। সরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ২৫ দশমিক ৯ শতাংশ হলেও বেসরকারি খাতে তা মাত্র ৫ শতাংশে সীমাবদ্ধ রয়েছে, যা বিনিয়োগ পরিস্থিতির জন্য উদ্বেগজনক। তিনি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার আরও কমিয়ে সহনীয় পর্যায়ে আনার আহ্বান জানান।

পড়ুন>>কাতারের কাছে ৪.৫ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির অনুমোদন যুক্তরাষ্ট্রের

সিএমএসএমই খাতের নাজুক অবস্থার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, এ খাতে প্রকৃত ঋণ প্রবাহের লক্ষ্যমাত্রা ২৫ শতাংশ থাকলেও বাস্তবে তা ১৬ দশমিক ৮ শতাংশে আটকে আছে। ব্যবসার খরচ বেড়ে যাওয়ায় এই খাতে খেলাপি ঋণের হার বেড়ে ২৪ দশমিক ১ শতাংশে পৌঁছেছে। এই সংকট উত্তরণে প্রচলিত জামানতনির্ভর ঋণের পরিবর্তে ডিজিটাল ক্রেডিট স্কোরিং পদ্ধতি চালু এবং সাশ্রয়ী মূল্যে যন্ত্রপাতি কেনার জন্য বিশেষ তহবিল গঠনের প্রস্তাব দেন তিনি।

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাসকীন আহমেদ আমদানির উৎস বহুমুখী করার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি অস্থিরতা মোকাবিলায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণে অফশোর গ্যাস ও জ্বালানি অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন। এছাড়া বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি পর্যালোচনার মাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় ভর্তুকির চাপ কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল বিদ্যুতের দাম নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

কৃষি খাতের উন্নয়নে তিনি ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য সৌরচালিত সেচ ব্যবস্থায় বিনিয়োগ সহজ করতে স্বল্পসুদের ঋণ চালুর পরামর্শ দেন। শিল্পাঞ্চলগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি লজিস্টিক ব্যবস্থার আধুনিকায়নে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) আওতায় বড় বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

আরও পড়ুন>>সিরাজগঞ্জে হারিয়ে যাওয়া ৫৩টি মোবাইল ফোন উদ্ধার, মালিকদের কাছে হস্তান্তর

সরকারের সংস্কারমূলক উদ্যোগের প্রশংসা করে ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, কোম্পানি নিবন্ধন প্রক্রিয়া ৪৮ ঘণ্টায় সম্পন্ন করা, বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা বাড়ানো এবং নতুন ১০টি খাতকে শুল্কমুক্ত সুবিধার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত ইতিবাচক।

 

এছাড়া কর ব্যবস্থাপনায় অটোমেশন, কাস্টমস প্রক্রিয়া দ্রুত করা এবং এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি হিসেবে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে পিটিএ ও এফটিএ চুক্তি দ্রুত সম্পন্ন করার ওপর জোর দেন তিনি।

তাসকীন আহমেদ আরও বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৩ দশমিক ১ শতাংশ হলেও বাণিজ্য বাধা, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট এবং পণ্য পরিবহনের খরচ দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ায় অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে। তবে যথাযথ নীতিগত সমন্বয়, কার্যকর সংস্কার এবং সরকারি-বেসরকারি খাতের নিবিড় অংশীদারত্বের মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জগুলোকে সুযোগে রূপান্তর করা সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আরও পড়ুন>>সংবাদপত্র শিল্পের সংকট ও উত্তরণের পথ: কেন এটি একটি জাতীয় বিনিয়োগ?

বেসরকারি খাতের প্রত্যাশা তুলে ধরে ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ধীরে ধীরে সুদের হার কমিয়ে সহনীয় পর্যায়ে আনতে হবে, যদিও এরই মধ্যে ৫০ বেসিস পয়েন্ট হ্রাস পেয়েছে।

 

তিনি বলেন, ঘোষিত সিএমএসএমই সহায়তা প্যাকেজের ৫ হাজার কোটি টাকার কার্যকর বাস্তবায়ন, স্বচ্ছ তদারকি এবং প্রকৃত উৎপাদনমুখী উদ্যোক্তাদের কাছে সহজে অর্থ পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে।

এর মধ্যে কোম্পানি নিবন্ধন প্রক্রিয়া ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে ৪৮ ঘণ্টায় সম্পন্ন করা, চামড়া, পাদুকা ও হোম টেক্সটাইল খাতে বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা আরও তিন বছর বাড়ানো এবং রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে ১০টি নতুন খাতকে শুল্কমুক্ত সুবি।

 

ব্যাংক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, খেলাপি ঋণ হ্রাস এবং আর্থিক খাতের প্রতি জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে।

 

সর্বোপরি, ব্যবসায়ীদের আস্থা ফিরিয়ে এনে স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়াতে হবে।  বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা নিঃসন্দেহে চ্যালেঞ্জপূর্ণ। এর প্রভাব পড়েছে বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যেও।

 

Facebook Comments Box