কাউনিয়ায় ফুল দিয়ে সাজানো গাড়িতে চড়িয়ে প্রিয় শিক্ষককে বিদায় সংবর্ধনা।
জীবনের বেশির ভাগ সময় ব্যয় করেছেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কাজ এবং ক্লাসে পাঠদানে। বিদ্যালয়ে শিক্ষার মানউন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের সফলতাই ছিল তার সাফল্য।
শিক্ষকতার ৩৫ বছর তিনি বেশিরভাগ সময় পায়ে হেটে যাতায়াত করেছেন স্কুলে। এমন এক শিক্ষকের বিদায় ছিল রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার ভায়ারহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। প্রিয় শিক্ষকের বিদায়কে স্মরণীয় করে রাখতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা করেন ব্যাপক আয়োজন।
আজ বিকেলে ফূলে সজ্জিত প্রাইভেট কারে করে বাড়ী থেকে অবসরে যাওয়া প্রধান শিক্ষক এসএম রেজাউল করিমকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নিয়ে আসেন শিক্ষক ও শিক্ষাথীরা ।
বিদায় সংবর্ধনা পেয়ে প্রধান শিক্ষক এসএম রেজাউল করিম আবেগআপল্ত হয়ে বলেন, আমার চাকরিজীবনের শেষে সুন্দর আড়ম্বরের মধ্য দিয়ে বিদায় হওয়াটা ছিল কল্পনাতীত। আজকের এই বর্ণাঢ্য আয়োজন আমার জীবনের অনেক বড় প্রাপ্তি, যা বাকি জীবনটুকু মনে রাখার মতো।
এসএম রেজাউল করিম বলেন, ১৯৮৯ সালের নভেম্বর মাসে স্থানীয় কয়েকজন মিলে স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করেছিলাম। আমি চেষ্টা করেছি বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া ছুটি না নিতে। শিক্ষার্থীদের সব সময় পড়াশোনার প্রতি খেয়াল রেখেছি।
ভুলত্রুটি হলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।’ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান আব্দুল কাশেম বলেন, রেজাউল করিম ছিলেন ছাত্র ও সহকর্মীদের কাছে অত্যন্ত প্রিয়। তাঁর ন্যায়নীতি ও আদর্শ আমাদের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।
বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী আবু মুসা বলেন, স্যার ছিলেন ন্যায় নীতিবান। অসুস্থ থাকলেও স্যার স্কুলে আসতেন। স্যারের দেওয়া শিক্ষা নিয়ে আজ আমরা নানাভাবে প্রতিষ্ঠিত। স্যার আমাদের আদর্শ।’ বিদায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: তাহের আলী।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় শ্রী সমির কুমার মিত্রের সভাপতিত্বে এবং শিক্ষক আনোয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান আব্দুল কাশেম, ভায়ারহাট বালিকা মাধ্যমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক ভায়ারহাট তৈয়বুর রহমান, মদামদুন মাধ্যমিক স্কুলের আতাউর রহমান, আরাজি সাহাবাজ মাধ্যমিক স্কুলের ফাকের সরকার, আহমদ আলী মাধ্যমিক স্কুলের আশরাফুল ইসলাম, সহকারি শিক্ষক আশরাফ আলী, মৌলভী শিক্ষক আজিজুর রহমান, শিক্ষার্থী রবিউল ইসলাম, ফাতেমা আক্তার প্রমুখ।
এ ছাড়া উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও ভায়ারহাট এলাকার অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন। পরে বিদায়ী শিক্ষককে বিভিন্ন উপহার প্রদান করেন বিদ্যালয়টির বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকাবাসী।
Leave a Reply