কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী গোলাগুলির ঘটনায় ৬ বছর বয়সী এক শিশু নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটির মা গুলিবিদ্ধ হয়ে বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক ও পুলিশ সুপার রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত বৃহস্পতিবার বিকেলে। এপিবিএন সূত্রে জানা গেছে, রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও) এবং আরাকান রোহিঙ্গা আর্মির (এআরএ) মধ্যে সংঘর্ষের মাধ্যমে এই উত্তেজনার সূচনা হয়। পরবর্তীতে আরও দুটি সশস্ত্র গোষ্ঠী এই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে।
উখিয়ার ৮ নম্বর ইস্ট ক্যাম্পের বি-৪০ ও বি-৪১ ব্লকে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে এই গোলাগুলি চলে। পুলিশ জানায়, আরএসও ও এআরএ সদস্যরা পাহাড়ি ঢালু এলাকা থেকে ক্যাম্পের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা চালায়। এর জবাবে পাহাড়ের চূড়া থেকে আরসা এবং নবী হোসেন গ্রুপের সদস্যরা পাল্টা গুলি ছুড়লে এলাকাটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
সংঘর্ষের এক পর্যায়ে মায়ের কোলে থাকা শিশু মোহাম্মদ ইউসুফ মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়। একই সময় তার মা তাহেরা বেগম, যিনি বি-৪১ ব্লকের নুর আলমের স্ত্রী, পেটে গুলিবিদ্ধ হন।
স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে এমএসএফ হাসপাতালে নিয়ে যায়। অবস্থার অবনতি হলে তাদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে নেওয়ার পথে শুক্রবার ভোরে শিশু ইউসুফের মৃত্যু হয়।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর আধিপত্য বিস্তার ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল বেড়েছে। এর আগে টেকনাফ ক্যাম্পে গুলিতে এক রোহিঙ্গা ‘ডাকাত’ নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল।
এছাড়া পাহাড় ধসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগেও ক্যাম্পগুলোতে প্রাণহানির ঘটনা বাড়ছে; সম্প্রতি মাদ্রাসায় পাহাড় ধসে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।
দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বিভিন্ন অপরাধমূলক ঘটনার তদন্ত চলছে। এর মধ্যে রংপুরে ৪ খুনের ঘটনায় সব তথ্যই গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আরপিএমপি কমিশনার।
এছাড়া দেশে হামের উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৯৬০ জনে দাঁড়িয়েছে এবং নেপাল-তিব্বতে বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৫২ জনে পৌঁছেছে।
Leave a Reply