ঢাকা ০৫:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেপালে বন্যায় ৩৮৯ জনের প্রাণহানি, নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত

সৃষ্টি আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০২:০১:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬ ১৮ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

নেপালে বন্যায় ৩৮৯ জনের প্রাণহানি, নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত

 

নেপাল ও তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় হিমবাহ ধসে সৃষ্ট ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়েই চলেছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) পর্যন্ত পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে অন্তত ৩৮৯ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো বহু মানুষ আটকা পড়ে থাকায় সময় যত গড়াচ্ছে, জীবিত কাউকে উদ্ধারের সম্ভাবনা ততই ক্ষীণ হয়ে আসছে।

গত বুধবার হিমালয়ের দুর্গম অঞ্চলে হিমবাহের একটি বড় অংশ ধসে পড়ে। এর ফলে বিপুল পরিমাণ বরফ, কাদা, পাথর ও পানি নিচে নেমে এসে রসুয়া ও নুয়াকোটসহ নেপালের বিভিন্ন জনপদ ভাসিয়ে নেয়। একই সঙ্গে তিব্বতের গিরং এলাকাতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বন্যার প্রবল স্রোতে ঘরবাড়ি, বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে। প্রায় ৪০ কিলোমিটার সড়ক ও বেশ কয়েকটি সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দুর্গম এলাকাগুলোতে উদ্ধারকারী দলের পৌঁছানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।

 

পড়ুন>>নভেম্বরে তুরস্ক সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

 

নেপালের সেনাবাহিনী ও উদ্ধারকারী দল হেলিকপ্টার, ড্রোন, ভারী যন্ত্রপাতি এবং প্রশিক্ষিত কুকুর ব্যবহার করে নিখোঁজদের সন্ধানে নিরলস কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে বিচ্ছিন্ন জনপদগুলোতে খাবার ও জরুরি ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। তবে উদ্ধার অভিযান চলাকালীন নতুন এক বিপদের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বন্যার ধ্বংসাবশেষ জমে ভোতেকোশি নদীর ওপর একটি অস্থায়ী হ্রদ তৈরি হয়েছে। এই প্রাকৃতিক বাঁধটি ভেঙে গেলে আবারও ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে সংশ্লিষ্ট অঞ্চল। এ কারণে নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

 

পড়ুন>>লেক অন্টারিওর নাম বদলে ‘লেক আমেরিকা’ করার নির্দেশ দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

এই দুর্যোগে নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে নিখোঁজ রয়েছেন এক হাজারেরও বেশি মানুষ। সীমান্তবর্তী এই পথটি পর্যটক, ট্রেকার ও তীর্থযাত্রীদের যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত হওয়ায় নিখোঁজদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। চীনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, কেবল তিব্বতের গিরং কাউন্টিতেই ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের মধ্যে ২৬০ জনই বিদেশি নাগরিক। বিভিন্ন দেশের শত শত পর্যটক ও তীর্থযাত্রীর সঙ্গে এখনো কোনো ধরনের যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।

হিমবাহ ধসের পর সৃষ্ট এই বিপর্যয় নেপাল ও তিব্বতের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানের পাশাপাশি নতুন করে বন্যা ঠেকানো এবং ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো মেরামতের কাজ এখন কর্তৃপক্ষের প্রধান অগ্রাধিকার। উদ্ধারকারী দল ও স্থানীয় প্রশাসন সম্ভাব্য নতুন বন্যার ঝুঁকি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

নেপালে বন্যায় ৩৮৯ জনের প্রাণহানি, নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত

আপডেট সময় : ০২:০১:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

 

নেপালে বন্যায় ৩৮৯ জনের প্রাণহানি, নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত

 

নেপাল ও তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় হিমবাহ ধসে সৃষ্ট ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়েই চলেছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) পর্যন্ত পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে অন্তত ৩৮৯ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো বহু মানুষ আটকা পড়ে থাকায় সময় যত গড়াচ্ছে, জীবিত কাউকে উদ্ধারের সম্ভাবনা ততই ক্ষীণ হয়ে আসছে।

গত বুধবার হিমালয়ের দুর্গম অঞ্চলে হিমবাহের একটি বড় অংশ ধসে পড়ে। এর ফলে বিপুল পরিমাণ বরফ, কাদা, পাথর ও পানি নিচে নেমে এসে রসুয়া ও নুয়াকোটসহ নেপালের বিভিন্ন জনপদ ভাসিয়ে নেয়। একই সঙ্গে তিব্বতের গিরং এলাকাতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বন্যার প্রবল স্রোতে ঘরবাড়ি, বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে। প্রায় ৪০ কিলোমিটার সড়ক ও বেশ কয়েকটি সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দুর্গম এলাকাগুলোতে উদ্ধারকারী দলের পৌঁছানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।

 

পড়ুন>>নভেম্বরে তুরস্ক সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

 

নেপালের সেনাবাহিনী ও উদ্ধারকারী দল হেলিকপ্টার, ড্রোন, ভারী যন্ত্রপাতি এবং প্রশিক্ষিত কুকুর ব্যবহার করে নিখোঁজদের সন্ধানে নিরলস কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে বিচ্ছিন্ন জনপদগুলোতে খাবার ও জরুরি ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। তবে উদ্ধার অভিযান চলাকালীন নতুন এক বিপদের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বন্যার ধ্বংসাবশেষ জমে ভোতেকোশি নদীর ওপর একটি অস্থায়ী হ্রদ তৈরি হয়েছে। এই প্রাকৃতিক বাঁধটি ভেঙে গেলে আবারও ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে সংশ্লিষ্ট অঞ্চল। এ কারণে নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

 

পড়ুন>>লেক অন্টারিওর নাম বদলে ‘লেক আমেরিকা’ করার নির্দেশ দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

এই দুর্যোগে নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে নিখোঁজ রয়েছেন এক হাজারেরও বেশি মানুষ। সীমান্তবর্তী এই পথটি পর্যটক, ট্রেকার ও তীর্থযাত্রীদের যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত হওয়ায় নিখোঁজদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। চীনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, কেবল তিব্বতের গিরং কাউন্টিতেই ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের মধ্যে ২৬০ জনই বিদেশি নাগরিক। বিভিন্ন দেশের শত শত পর্যটক ও তীর্থযাত্রীর সঙ্গে এখনো কোনো ধরনের যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।

হিমবাহ ধসের পর সৃষ্ট এই বিপর্যয় নেপাল ও তিব্বতের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানের পাশাপাশি নতুন করে বন্যা ঠেকানো এবং ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো মেরামতের কাজ এখন কর্তৃপক্ষের প্রধান অগ্রাধিকার। উদ্ধারকারী দল ও স্থানীয় প্রশাসন সম্ভাব্য নতুন বন্যার ঝুঁকি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

Facebook Comments Box