আমার বাবা বেঁচে আছে : দৈনিক সৃষ্টি নিউজ
  1. admin@sristy.net : admin :
আমার বাবা বেঁচে আছে : দৈনিক সৃষ্টি নিউজ
রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৪৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস ২০২৬: বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ বাংলাদেশে মর্যাদা ও অধিকার চাই কাউনিয়া রেলবাজার পরিবহন সমিতির নির্বাচন সভাপতি ফিরোজ, সম্পাদক সিরাজুল ঠাকুরগাঁওয়ে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় নিহত ২ বিশ্বনাথে সরকারী আদেশ অমান্য করে রাতের আধাঁরে গেইট নির্মাণের অভিযোগ ঠাকুরগাঁওয়ে মাছ ধরতে গিয়ে নদীতে ডুবে বৃদ্ধের মৃত্যু অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তিস্তা মহাপরিকল্পনার পাইলট প্রকল্পের কাজ শুরু হবে: পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী কুড়িগ্রামে ঐতিহ্যবাহী শহীদ মিনার ও শাপলা চত্বর ভাঙায় জনমনে ক্ষোভ চলনবিলে আধুনিক পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে- পর্যটন মন্ত্রী মইজ্যারটেক চেকপোস্টে বিশাল ইয়াবা চালানসহ একই পরিবারের তিনজন গ্রেপ্তার তাড়াশে কুড়িয়ে পাওয়া মাটির ব্যাংক ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ

আমার বাবা বেঁচে আছে

মুস্তাকিম বিল্লাহ
  • প্রকাশিত : শুক্রবার, ৩ মে, ২০২৪
আমার বাবা বেঁচে আছে

আমার বাবা বেঁচে আছে

বড় মামা এসে বললো, অনন্যা এবার যে পাত্রপক্ষ তোকে দেখতে আসবে ছেলের পরিবার বেশ ভালো। বাবা, মা দুজনেই হজ্ব করে এসেছে, ছেলেরা দুই ভাইবোন, বোনের বিয়ে হয়েছে এখন তাঁরা ছেলেকে বিয়ে করানোর জন্যে মেয়ে খুঁজতেছে।

আমি মামার পাশে বসে তাঁর এক শ্বাসে বলা পাত্রপক্ষের বর্ণনা শুনতেছিলাম। মামা একটু থেমে বললো এবার আর এমন কিছু করিস না যাতে উল্টাপাল্টা কিছু হয়।

আমি বললাম মামা আমি এমন কি করি? মামা রাগী চোখে বললো, তুই কি করিস তুই নিজেই ভালো জানো। মামা আবার বললেন তুই এবার বলবি তোর বাবা মৃত।

আমি বসা থেকে উঠে বললাম, আমি বলতে পারবো না, আমার বাবা জীবিত তাকে মৃত বলতে পারবো না। মামা রাগ করে বললেন, ‘তুই তোর বাপের মতোই হইছিস’। বাপ যেমন পাগল মেয়েও তেমন পাগল।

আমার অভ্যেস মন খারাপে খাবার না খেয়ে থাকি, বিছানায় শুয়ে কাঁথা মুড়ো দিয়ে কাঁদি। এই খবরটা শুধু আমার মা জানতেন, মা যখন বকতো এমন কাঁথা মুড়ো দিয়ে কাঁদতাম। মামাদের এখানে থাকবার পর থেকে মন খারাপে বা কেউ রাগ করলে এমন কাঁথা মুড়ো দিয়ে কাঁদতে যেয়ে আমার মামাতো বোন লিলি আপু সেবার দেখে ফেলে। লিলি আপুর বিয়ে হয়েছে দুবছর হয় এখন আর কেউ দেখে ফেলবার ভয় নেই।

রাগ করে না খেয়ে থাকবার অভ্যেস আমার মায়ের ছিলো। মামীকেও দেখেছি মামার সাথে রাগ করে খাবার খায় না। আমার মনে হয় মেয়েরা রাগে বা মন খারাপে খাবার খেতে পারে না।কিন্তু এদিক থেকে পুরুষরা ভিন্ন মামীর সাথে ঝগড়া করে মামা দুই প্লেটা ভাত খেয়ে উঠে।

বাবার সাথে ঝগড়া হলে মা না খেয়ে থাকতো। তারপর দেখতাম বাবা এসে মায়ের সাথে হেসে হেসে কথা বলতো রাগ ভাঙিয়ে ভাত খাওয়াতো, তখন শুরু হতো মায়ের রাগ। বাবা হাসতো, আর মা তাঁর মনের মতো বকে যেতো। একসময় বকতে বকতে মা নিজেও হেসে দিতো।

মা যখন মারা যায় তখন আমি ক্লাস নাইনে পড়ি। মায়ের মৃত্যুর পরে বাবা একটু উদ্ভট হয়ে গেলো। প্রথমে প্রথমে সবকিছু ভুলে যেতো, ব্যাবসার কাগজ বাসায় রেখেই চলে যেতো। একবার এমন হলো দুই পায়ে আলাদা জুতো পরে একটা বিয়ের অনুষ্ঠানে চলে গেলো।

বাবা একদিন বাহির থেকে ফিরলো তখন দেখলাম বাবার হাতে কিছু রিপোর্ট। বাবা ওয়াশরুমে যাওয়ার পরে কাগজ ঘেটে দেখলাম বাবা সাইকিয়াট্রি দেখাচ্ছেন। বাবা নিজেও হয়তো তাঁর এমন অস্বাভাবিকতা টেরে পেয়ে গেলেন। হুটহাট রেগে যাওয়ার অভ্যেস শুরু হয়। প্রায় রাতে বাড়িতে আসতেন না, মানুষের কাছে শুনতাম বাবা নাকি রাতে রাস্তায় একা একা হাঁটে, পথের পাশে বসে থাকে।

একদিন দুপুরে দুইদিন পরে বাবা বাসায় আসলো, তাঁর গায়ের জামাকাপড়ে ময়লা। বাবা বললো ভাত দে মা, আমি ভাত দিলাম। বাবা ভাত না খেয়ে প্লেট ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে বললো এই তরকারি দিয়ে আমি ভাত খাবো না। বাবার সেই ভয়ার্ত চোখের দিকে তাকিয়ে আমি ভয়ে কুঁকড়ে গেলাম।

মামারা যখন এসব জানতে পারে আমাকে তাঁদের কাছে নিয়ে নেয়। বড় মামা যেদিন আমাকে নিতে আসলো বাবা তখন চেয়ারে বসা, আমি ব্যাগ গুছাচ্ছি বাবা তাকিয়ে দেখছে। যাওয়ার সময় বললাম বাবা আসি, বাবা শুধু তাকিয়ে দেখলো কিছুই বললো না। সেদিন বাবাকে ছেড়ে যেতে ভীষণ কষ্ট হয়েছে, কিন্তু আমার কিছুই করবার ছিলো না।

কলেজে যাবার সময় বাবাকে প্রায়ই দেখতাম রাস্তায় মায়লা কাপড়চোপড় নিয়ে হাঁটতেছে, কখনো রাস্তার পাশে শুয়ে থাকে। বাবাকে বেশ কয়েকবার আমার কলেজের পাশে দেখেছি, দূর থেকে তাকিয়ে থাকতো আমাকে দেখে আবার চলে যেতো। তবে সবসময় না মাসে দুই একবার।

মানুষ বলতো আমার বাবা পাগল তবে যখন কলেজের সামনে বাবা আসতো আমার মনে হতো বাবাকে চিকিৎসা করালে হয়তো ঠিক হবে। কিন্তু কে চিকিৎসা করাবে? বাবার ব্যাবসা ছিলো আমার ছোটো চাচার সাথে শেয়ারে, বাবা যখন এমন মানসিক রোগী হলেন চাচা ব্যাবসার টাকা সব নিজে নিয়ে নিলেন। বাবার অস্তিত্ব মুছে ফেললেন।

মামী একদিন তেহারি রান্না করলো। বাবার সবচেয়ে পছন্দের ছিলো মায়ের হাতের রান্না করা তেহারি। মামীকে বললাম এক বাটি তেহারি দিন, মামী বললেন কার জন্যে নিবি? আমি বললাম বাবার জন্যে। মামীকে নিষেধ করলাম যেনো মামা না জানে। সেদিন যখন বাবার কাছে যেয়ে খাবারটা দিলাম বাবা আমার হাত থেকে খাবারটা নিয়ে বললো ‘মা ভালো আছো?’ আমি বললাম হ্যাঁ ভালো আছি, তুমি কেমন আছো বাবা? বাবা চুপ করে রইলো। তারপর কতো কথা জিজ্ঞেস করলাম আর উত্তর দিলো না। আমি চোখ মুছতে মুছতে চলে আসলাম।

মামা বলতে বললো পাত্রপক্ষ দেখতে আসলে এবার যেনো বলি আমার বাবা মৃত। যে মেয়ের বাবা পাগল হয়ে রাস্তায় ঘুরে সেই বাবার মেয়েকে কেউ বিয়ে করতে চায় না। পাত্রপক্ষ আমাকে দেখে পছন্দ করলেও যখন এলাকায় খোঁজ খবর নিতে আসে জানে আমার বাবা পাগল তারপর বিয়ে ভেঙে যায়।

আমি কেন বলবো আমার বাবা মৃত? আমার বাবা বেঁচে আছেন তবে অসুস্থ। আমার বাবাকে দেখেছি সবসময় দামী পারফিউম মাখতেন, আর সেই বাবা এখন ময়লার ভিতরে শুয়ে থাকে।

দরজা খুলবার শব্দ পেয়ে জলদি করে চোখ মুছে নিলাম। মামা এসে ডাক দিয়ে বললো মা ঘুমিয়েছিস? আমি বললাম না। মামা বললো শুনলাম খাবার খাসনি তুই? খাবার খেয়ে নে মা। দেখ তুই যদি বলিস তোর বাবা মানসিক রোগী তাহলে এবার তোর বিয়েটা আবার ভাঙবে, তুই নিজেই যে দেখলি। মা কখনো কখনো কিছু সত্যি চেপে যেতে হয়, মৃত বললেই তো তোর বাবা মারা যাবে না। তোর বাবার জন্যে আমাদেরও আফসোস হয়, এতো ভালো মানুষ ছিলেন আজ এমন অবস্থা হলো দেখে খারাপ লাগে। মামা মাথায় হাত রেখে বললো পরশু পাত্রপক্ষ আসবে, তোর কিছু বলতে হবে না আমি ওদের বলছি তোর বাবা মা মারা গেছে দুজনেই। তুই শুধু তোর কাছে জিজ্ঞেস করলি বলবি হ্যাঁ। আর যদি না জিজ্ঞেস করে তাহলে তো কোনো সমস্যা নেই। আমি মাথা নেড়ে বললাম আচ্ছা। বড় মামা আমার জন্যে অনেক কিছু করেছেন এই মানুষটাকে কষ্ট দিতে ইচ্ছে করতেছে না।

পাত্রপক্ষ দেখে আমাকে পছন্দ করলো। পাত্রের বাবা ধীরে ধীরে কথা বলেন, মনে হয় শীতল গলায় কেউ কথা বলছে, শব্দ পেয়ে ঘরের পাখি উড়ে যাবে এই ভয়ে। পাত্রকে দেখে আমারও পছন্দ হলো। সামনের সোমবারে বিয়ে। যদিও তাঁরা আমার বাবা মৃত কিনা এসব কিছু জিজ্ঞেস করেনি। যেহেতু মামা আগেই বলেছে নতুন করে আমার কাছে জিজ্ঞেস করবার কিছু নেই।

কাবিন নামায় আমার বাবার নাম লিখবার জন্যে কাজী সাহেব জিজ্ঞেস করলো,মেয়ের বাবার নাম কি? আমার মামা বললেন মৃত সৈয়দ শামসুল আলম। বাবার নামের আগে মৃত শুনে আমার পুরো শরীরে যেনো ঘাম দিলো। আমি মামাকে থামিয়ে বললাম আমার বাবা মৃত না। মৃত লিখবেন না।

পাত্রপক্ষ জানলো আমার বাবা একজন মানসিক রোগী, যিনি রাস্তায় ঘুমান, ময়লা জামাকাপড় থাকো যার গায়ে। তবে সুখ সংবাদ এটা পাত্রের পিতা মাতা কারোই তাতে সমস্যা হলো না কোনো, তাঁরা তাঁদের ছেলের বউ হিসেবে আমাকে মেনে নিয়েছে। বিয়েটা হয়ে গেলো।

পুরো ঘরভর্তি ফুল, একসাথে এতো ফুলের ঘ্রাণে দম আঁটকে আসতেছে। আমার বর এসে জানালা খুলে দিলে, বাহিরের বাতাসে ফুলের ঘ্রাণ আর বাতাস মিশে দারুণ একটা ঘ্রাণ পেলাম।

আমার বর পাশে বসে বললো দেখি তোমার হাতটা, আমি দেখলাম হাতের মুঠোয় সুন্দর একজোড়া কানের দুল। সে বললো বাসর রাতে বউকে নাকি ছোট্ট কিছু উপহার দিতে হয়, আমি এই দুলটা আমার বউয়ের জন্যে বানিয়ে রেখেছি পুরোটাই নিজ খরচে আশা করে তোমার পছন্দ হয়েছে। আমি মাথা নেড়ে বললাম সুন্দর। আসলেই সুন্দর।

আমার কেন যেনো মনে হলো মানুষটা মন্দ না। এই মানুষটার সাথে আমি থেকে যেতে পারবো সারাজীবন। মানুষ চিনতে বেশি সময় লাগে না, বহু বছরেও মানুষ চেনা যায় না আবার কিছু মুহুর্তেও মানুষ চেনা যায়।

আমি বললাম একটা কথা ছিলো। সে বললো কি কথা বলো। আমি বললাম আপনাকে যদি এখন আমার সাথে বাহিরে চা খেতে যেতে বলি যাবেন? সে হেসে বললো এতোরাতে সমস্যা হবে অনেক। আমি চুপ করে রইলাম। কিছুক্ষণ পরে বললো আমি নিজে চা করে দেই তোমারে? আমি বললাম না বাহিরের চা খাবো আর আপনার সাথে হাঁটবো। কিছুক্ষণ পরে বললো এখন বের হওয়া ঝামেলার হবে,বাসার কেউ দেখলে জিজ্ঞেস করবে কোথায় যাচ্ছি।

সব পিছুটান উপেক্ষা করে আমরা চা খেতে বের হয়ে যাই। রাতের শহর এতো মিষ্টি। গভীর রাতে হাঁটতে ইচ্ছে হতো খুব আর চা খেতে, কিন্তু সে আর হয়ে উঠেনি কখনো। একবার লিলি আপুর সাথে বের হয়েছিলাম তারপর আর না সেবারও বড় মামা শুনে বকলো লিলি আপুকে অনেক।

আমি আমার পাশে থাকা মানুষটাকে দেখছি। কেমন চুপচাপ হয়ে আছে। যাকে আজকে সন্ধ্যায় তিনবার কবুল বলে স্বামী হিসেবে সারাজীবন এক ঘরে, একসাথে থাকবার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি বললাম একটা রিক্সা নিবেন? সে বললে নেওয়া যায়।

রিক্সাটা চলছে ঠান্ডা বাতাস, চেনা শহরটা অচেনা রূপে দেখছি এই রাতে। কিছু দূর যাবার পরেই রিক্সা থামাতে বললাম। রিক্সা থামলো আমি আমার পাশে বসা বরকে নিয়ে নামলাম পথে।

রাস্তার পাশে ময়লা কাপড়চোপড়ে বসে থাকা লোকটার পাশে দাঁড়লাম, আমি আমার পাশে থাকা বরকে বললাম এই যে লোকটা দেখছেন উনি আমার বাবা। আমার বর দেখলাম পা ছুঁয়ে সালাম করলো।

আমি জিজ্ঞেস করলাম ‘বাবা ভালো আছেন?’ বাবা গম্ভীর গলায় বললেন, জ্বী ভালো। বাবার পাশে কিছুক্ষণ বসে থাকতে ইচ্ছে হলো চুপচাপ, বাবার পাশ থেকে চলে আসবো তখনই পিছন থেকে বাবা অনন্যা বলে ডাক দেয়। হাতে একটা প্যাকেট দেয়। আমি জিজ্ঞেস করি বাবা কি এই প্যকেটে? বাবা আবারও তাঁর সেই চুপচাপ জগৎে চলে যায়। আমি প্যাকেটটা খুলে দেখি একটা শাড়ি আর পাঞ্জাবি।

রিক্সা চলছে আমার পাশে বসা বর আমার হাত ধরে আছে, সে বুঝতে পারছে আমি ভেতর থেকে এই মুহুর্তে কতোটা ভেঙে চুরমার হয়ে যাচ্ছি। জীবনে তেমন কিছু দরকার হয় না, শুধু বুকের ভেতরের কথা বুঝবার মতো একটা মানুষ পাশে থাকলেই জীবনের কঠিন সময়টাও কাটিয়ে উঠা যায়। মানুষটা আমার অবস্থা বুঝতে পেরেই হাতটা ধরলো, সে হয়তো ভাবছে আমি রিক্সা থেকে পড়ে যাবো। আমি যে হোঁচট খাই না এখন।

রিক্সায় বসে প্যাকেটটা আবার খুলে দেখলাম দামী একটা শাড়ি, পাঞ্জাবিটাও দামী; আমার পাশে থাকা মানুষটাকে বললাম, পাঞ্জাবিটা কেমন? সে বললো ভালোই। আমি শাড়িটার দিকে তাকিয়ে আছি আর দু-চোখ বেয়ে পানি ঝরছে। কিছুক্ষণ পরে দেখলাম আমার গালে আমার বরের হাত, সে চোখটা মুছে দিতেছে। অদ্ভুত বিষয় হলো বাবা কিভাবে জানতো আমি আজকে এখানে আসবো, আর সে কি জানতো আমার বিয়ের খবর। আমি আমার বরকে বললাম আপনাকে একটা সত্যি কথা বলি? সে বললো, বলো।

আমি বললাম আসলে চা খাওয়া বা রাতের শহর দেখবার জন্যে আমি বের হইনি, আমি আমার বাবার সাথে দেখা করতেই রাতে আপনাকে নিয়ে বের হয়েছি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর















error: Content is protected !!