ঢাকা ০২:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ডোমারে পাঁচ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার মানবতার সেবায় অনন্য দৃষ্টান্ত: কাউনিয়ার ‘অটোওয়ালা’ মিজানুর রহমান কাউনিয়ায় এনজিও কর্মী হত্যার প্রধান আসামিসহ তিনজন লক্ষ্মীপুর থেকে গ্রেফতার কাতারের নিরাপত্তায় যোগ দিতে ঢাকা ছাড়লেন নৌবাহিনীর ২৪ সদস্য ভারত বাংলাদেশ-নেপালের চেয়ে খারাপ হতে পারে: মন্ত্রী ইরফান আনসারি চাঁদপুরে ৩৬ জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগের ঘটনা রমজানের আগেই রাজধানীর বাজারে ছোলার দামে বড় ঝাঁকুনি শর্টকাট পথে অর্থ উপার্জনে ভালো আইনজীবী হওয়া সম্ভব নয়: আইনমন্ত্রী ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা নিরসনে ট্রাম্পের সঙ্গে কাতারের আমিরের ফোনালাপ মরিশাসে কাচের বাক্স চাপায় প্রাণ গেল তিন বাংলাদেশির

মাদকের আখড়া নয়-হরিকেশ হোক নিরাপদ আবাসভূমি, মাদক নির্মূলে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ চায় এলাকাবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৯:১৩:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫৬ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

 

মাদকের আখড়া নয়-হরিকেশ হোক নিরাপদ আবাসভূমি, মাদক নির্মূলে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ চায় এলাকাবাসী

‎
‎
‎কুড়িগ্রাম পৌর শহরের চর হরিকেশ। শহরের কাছাকাছি এই জনপদে দিনের ব্যস্ততা শেষ হলেই বাড়ে নানা ধরনের উৎকণ্ঠা। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদকের ব্যপক বিস্তার এখানে।হাতের নাগালে মিলছে হেরোইন, ইয়াবা, গাঁজা, ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্যের কেনাবেচা ও সেবনকারীর উৎপাত। মাদকের প্রভাবে তরুণ প্রজন্ম বিপথে যাচ্ছে—এমন আশঙ্কাও করছেন অভিভাবকেরা।
‎
‎সম্প্রতি মাদকবিরোধী কার্যক্রমের জের ও প্রতিহিংসার জেরে জেলা মাদক প্রতিরোধ কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক,দৈনিক কালবেলার কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি সাইয়েদ আহমেদ বাবু’র শ্বশুর দিনে দুপুরে প্রকাশ্য সড়কে ৮০ বছর বয়সী রোস্তম আলী খোকাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় হরিকেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

 

পড়ুন>> মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর ভিডিও ও ছবি প্রচার করায় ৬ ব্যক্তির নামে সাধারণ ডায়রী করেছে এমপির এপিএস

১৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সকালে চর হরিকেশ এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। ঘটনায় মাদকসেবী আব্দুল জলিল নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশে দেওয়া হয়। পরবর্তী প্রতিবেদনে তাকে গ্রেপ্তারের কথা জানানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
‎
‎স্থানীয়দের অভিযোগ, হরিকেশে মাদকের বিস্তার নতুন কোনো বিষয় নয়। দীর্ঘদিন ধরে মাদকসেবীদের আনাগোনা এবং মাদককেন্দ্রিক নানা অপরাধের কারণে সাধারণ মানুষ উদ্বিগ্ন। তাদের দাবি, মাদকের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি।
‎
‎প্রবীন রোস্তম আলী খোকা হত্যার পর স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে মাদক নিয়ে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও উদ্বেগের কথা সামনে এসেছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে স্থানীয়রা বলেছেন, এলাকায় মাদকের বিস্তারের কারণে চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ বেড়েছে এবং তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

  পড়ুন>>দেশে হামের প্রকোপ: ২৪ ঘণ্টায় প্রাণ গেল ৬ শিশুর
‎
‎

 

গত ৩০ আগস্ট রাতে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার আগমনী বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে চর হরিকেশের বাসিন্দা মো. আবু লাইচ শামসুদোহা শাওনকে ৮০ পিস নিষিদ্ধ ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছিল পুলিশ। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয় এবং আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।এ ছাড়া আগস্টে কুড়িগ্রাম এলাকায় পৃথক অভিযানে ১০ কেজি গাঁজা উদ্ধার ও দুজনকে গ্রেপ্তারের তথ্যও জানিয়েছিল জেলা পুলিশ।অর্থাৎ মাদকবিরোধী অভিযান যে একেবারেই নেই, তা নয়। প্রশ্ন হচ্ছে—অভিযানের পরও মাদকের এমন প্রভাব কমছে কই।
‎
‎

স্থানীয় বাসিন্দার অভিযোগ, মাদকসেবীদের পাশাপাশি মাদক সরবরাহের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতির পরিবর্তন কঠিন। তবে স্থানীয়ভাবে যেসব ব্যক্তি বা পরিবারের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগ উঠেছে, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের স্বাধীন প্রমাণ বা আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার তথ্য ছাড়া তাদের অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা সমীচীন নয়।
‎
‎এলাকাবাসীর দাবি, মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগগুলো তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনা হোক। একই সঙ্গে নিরীহ কাউকে যেন হয়রানি করা না হয়, সেটিও নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
‎
‎‎হরিকেশের মাদক পরিস্থিতি নিয়ে সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন অভিভাবকেরা। তাদের আশঙ্কা, মাদকের সহজলভ্যতা ও অপরাধপ্রবণ পরিবেশ তরুণদের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

 

 

আরও পড়ুন>>কুমিল্লা সীমান্তে ৭৪ লাখ টাকার ভারতীয় শাড়ি জব্দ
‎
‎

 

স্থানীয়দের মতে, শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। মাদকবিরোধী সচেতনতা, খেলাধুলার সুযোগ, তরুণদের সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা এবং মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের উদ্যোগও প্রয়োজন।
‎
‎মাদকের কারণে শুধু রাস্তাঘাটের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিই নয়, পারিবারিক জীবনেও এর প্রভাব পড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। মাদকাসক্ত সদস্যের কারণে পরিবারের অর্থনৈতিক চাপ, দাম্পত্য কলহ ও সামাজিক অস্থিরতা বাড়ছে—এমন অভিযোগও রয়েছে।
‎স্থানীয়দের ভাষ্য, একটি এলাকায় মাদক ছড়িয়ে পড়লে এর প্রভাব একক কোনো পরিবারে সীমাবদ্ধ থাকে না। ধীরে ধীরে তা পুরো এলাকার সামাজিক পরিবেশকে প্রভাবিত করে।
‎
‎রোস্তম আলী খোকা হত্যার পর হরিকেশে নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি প্রশাসনের মাদকবিরোধী অভিযান আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের প্রত্যাশা, মাদকের উৎস ও সরবরাহব্যবস্থা শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং নিয়মিত নজরদারি থাকবে।স্থানীয়দের প্রতাশা হরিকেশের পরিচয় মাদকের আখড়া হিসেবে নয়—একটি নিরাপদ আবাসিক এলাকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হোক।

বৃদ্ধ রোস্তম আলী খোকা হত্যার প্রত্যক্ষদর্শী চর হরিকেশের বাসিন্দা মোঃ এরশাদুল হক (৩২) বলেন, আমি ঘটনার সময় পাশেই ছিলাম, অন্যদিনের মতো রোস্তম আলী ফজরের নামাজ শেষে হাটতে বেরহয়ে এই মোড়ে এসে চা খান।

 

সেদিনও চা খেয়ে বের হওয়া মাত্র খুনি জলিল দৌড়ে এসে তার বুকে ছুড়ি মেরে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে, আমরা পাশের লোকজন তাকে ধরে ফেলি, এবং পুলিশে দেই। আমার জানামতে নিহত একজন ধার্মিক ও ভালো মানুষ ছিলেন, তার কোনো শত্রু ছিলনা, হত্যাকারি জলিল একজন মাদক সেবী ছিলেন এটা এলাকার সবাই জানেন। আমরা এই নির্মম হত্যার বিচার চাই,এবং এই এলাকা মাদক মুক্ত করার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবী জানাই।

 

একই এলাকার আব্দুল মজিদ (৩৪) বলেন, শুধুমাত্র মাদকের বিরুদ্ধে মুরুব্বি রোস্তম আলী চাচা মানুষকে নছিহত করতেন, এমনকি ঐ খুনি জলিলকেও মাদক ছেড়ে ভালো পথে আসতে বলতেন,নামাজ পড়তে বলতেন, আর এটাই ছিল মুরুব্বির অপরাধ, আর জন্যই প্রাণ দিতে হলো তাকে, আমি এই হত্যার বিচার ও এলাকাকে মাদক মুক্ত করতে প্রশাসনের সাড়াসি অভিযানের দাবি জানাই।

আরও পড়ুন>>কাতারে অবকাঠামো ও আবাসন খাতে ৩৮.৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ

হরিকেশ কানি পাড়া এলাকার মোঃ আক্কেল আক্কেল আলী ( ৬৮) জানান, এলাকায় মাদক নির্মূলের জন্য আমরা মসজিদ ভিত্তিক কমিটি করে মাদক সেবী ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধ করার চেষ্টা করে যাচ্ছি, দুঃখজনক হলেও সত্যি যে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন আমাদের সহায়তা করছেনা, আমরা এলাকাবাসী প্রশাসনের কাছে এই জঘন্য হত্যাকান্ড মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থার দাবী জানাই।তানাহলে আমরা এলাকাবাসী রাজপথে কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলব।

জেলা মাদক প্রতিরোধ কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সাইয়েদ আহমেদ বাবু’ বলেন,এটি পরিকল্পিত হত্যা।আমি নিজে মাদকবিরোধী কার্যক্রম করে আসছি ফলে প্রতিহিংসার কারনে আমার শ্বশুরকে মাদকসেবী জলিল নির্মমভাবে হত্যা করে।আমি চাই না আর কেউ এমন প্রতিহিংসার কবলে পরে র্সবশান্ত হয়। তিনি প্রশাসনের কাছে কঠোর আইনি ব্যবসার দাবি জানান।
‎
‎
‎কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন জানিয়েছেন, মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি পুলিশের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।রোস্তম আলী খোকা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আব্দুল জলিলকে গ্রেপ্তার ও হত্যাকান্ডের স্বীকারোক্তি রেকর্ড করার তথ্যও নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানান ওই কর্মকর্তা ।

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

মাদকের আখড়া নয়-হরিকেশ হোক নিরাপদ আবাসভূমি, মাদক নির্মূলে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ চায় এলাকাবাসী

আপডেট সময় : ০৯:১৩:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

 

 

মাদকের আখড়া নয়-হরিকেশ হোক নিরাপদ আবাসভূমি, মাদক নির্মূলে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ চায় এলাকাবাসী

‎
‎
‎কুড়িগ্রাম পৌর শহরের চর হরিকেশ। শহরের কাছাকাছি এই জনপদে দিনের ব্যস্ততা শেষ হলেই বাড়ে নানা ধরনের উৎকণ্ঠা। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদকের ব্যপক বিস্তার এখানে।হাতের নাগালে মিলছে হেরোইন, ইয়াবা, গাঁজা, ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্যের কেনাবেচা ও সেবনকারীর উৎপাত। মাদকের প্রভাবে তরুণ প্রজন্ম বিপথে যাচ্ছে—এমন আশঙ্কাও করছেন অভিভাবকেরা।
‎
‎সম্প্রতি মাদকবিরোধী কার্যক্রমের জের ও প্রতিহিংসার জেরে জেলা মাদক প্রতিরোধ কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক,দৈনিক কালবেলার কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি সাইয়েদ আহমেদ বাবু’র শ্বশুর দিনে দুপুরে প্রকাশ্য সড়কে ৮০ বছর বয়সী রোস্তম আলী খোকাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় হরিকেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

 

পড়ুন>> মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর ভিডিও ও ছবি প্রচার করায় ৬ ব্যক্তির নামে সাধারণ ডায়রী করেছে এমপির এপিএস

১৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সকালে চর হরিকেশ এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। ঘটনায় মাদকসেবী আব্দুল জলিল নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশে দেওয়া হয়। পরবর্তী প্রতিবেদনে তাকে গ্রেপ্তারের কথা জানানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
‎
‎স্থানীয়দের অভিযোগ, হরিকেশে মাদকের বিস্তার নতুন কোনো বিষয় নয়। দীর্ঘদিন ধরে মাদকসেবীদের আনাগোনা এবং মাদককেন্দ্রিক নানা অপরাধের কারণে সাধারণ মানুষ উদ্বিগ্ন। তাদের দাবি, মাদকের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি।
‎
‎প্রবীন রোস্তম আলী খোকা হত্যার পর স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে মাদক নিয়ে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও উদ্বেগের কথা সামনে এসেছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে স্থানীয়রা বলেছেন, এলাকায় মাদকের বিস্তারের কারণে চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ বেড়েছে এবং তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

  পড়ুন>>দেশে হামের প্রকোপ: ২৪ ঘণ্টায় প্রাণ গেল ৬ শিশুর
‎
‎

 

গত ৩০ আগস্ট রাতে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার আগমনী বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে চর হরিকেশের বাসিন্দা মো. আবু লাইচ শামসুদোহা শাওনকে ৮০ পিস নিষিদ্ধ ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছিল পুলিশ। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয় এবং আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।এ ছাড়া আগস্টে কুড়িগ্রাম এলাকায় পৃথক অভিযানে ১০ কেজি গাঁজা উদ্ধার ও দুজনকে গ্রেপ্তারের তথ্যও জানিয়েছিল জেলা পুলিশ।অর্থাৎ মাদকবিরোধী অভিযান যে একেবারেই নেই, তা নয়। প্রশ্ন হচ্ছে—অভিযানের পরও মাদকের এমন প্রভাব কমছে কই।
‎
‎

স্থানীয় বাসিন্দার অভিযোগ, মাদকসেবীদের পাশাপাশি মাদক সরবরাহের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতির পরিবর্তন কঠিন। তবে স্থানীয়ভাবে যেসব ব্যক্তি বা পরিবারের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগ উঠেছে, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের স্বাধীন প্রমাণ বা আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার তথ্য ছাড়া তাদের অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা সমীচীন নয়।
‎
‎এলাকাবাসীর দাবি, মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগগুলো তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনা হোক। একই সঙ্গে নিরীহ কাউকে যেন হয়রানি করা না হয়, সেটিও নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
‎
‎‎হরিকেশের মাদক পরিস্থিতি নিয়ে সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন অভিভাবকেরা। তাদের আশঙ্কা, মাদকের সহজলভ্যতা ও অপরাধপ্রবণ পরিবেশ তরুণদের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

 

 

আরও পড়ুন>>কুমিল্লা সীমান্তে ৭৪ লাখ টাকার ভারতীয় শাড়ি জব্দ
‎
‎

 

স্থানীয়দের মতে, শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। মাদকবিরোধী সচেতনতা, খেলাধুলার সুযোগ, তরুণদের সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা এবং মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের উদ্যোগও প্রয়োজন।
‎
‎মাদকের কারণে শুধু রাস্তাঘাটের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিই নয়, পারিবারিক জীবনেও এর প্রভাব পড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। মাদকাসক্ত সদস্যের কারণে পরিবারের অর্থনৈতিক চাপ, দাম্পত্য কলহ ও সামাজিক অস্থিরতা বাড়ছে—এমন অভিযোগও রয়েছে।
‎স্থানীয়দের ভাষ্য, একটি এলাকায় মাদক ছড়িয়ে পড়লে এর প্রভাব একক কোনো পরিবারে সীমাবদ্ধ থাকে না। ধীরে ধীরে তা পুরো এলাকার সামাজিক পরিবেশকে প্রভাবিত করে।
‎
‎রোস্তম আলী খোকা হত্যার পর হরিকেশে নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি প্রশাসনের মাদকবিরোধী অভিযান আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের প্রত্যাশা, মাদকের উৎস ও সরবরাহব্যবস্থা শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং নিয়মিত নজরদারি থাকবে।স্থানীয়দের প্রতাশা হরিকেশের পরিচয় মাদকের আখড়া হিসেবে নয়—একটি নিরাপদ আবাসিক এলাকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হোক।

বৃদ্ধ রোস্তম আলী খোকা হত্যার প্রত্যক্ষদর্শী চর হরিকেশের বাসিন্দা মোঃ এরশাদুল হক (৩২) বলেন, আমি ঘটনার সময় পাশেই ছিলাম, অন্যদিনের মতো রোস্তম আলী ফজরের নামাজ শেষে হাটতে বেরহয়ে এই মোড়ে এসে চা খান।

 

সেদিনও চা খেয়ে বের হওয়া মাত্র খুনি জলিল দৌড়ে এসে তার বুকে ছুড়ি মেরে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে, আমরা পাশের লোকজন তাকে ধরে ফেলি, এবং পুলিশে দেই। আমার জানামতে নিহত একজন ধার্মিক ও ভালো মানুষ ছিলেন, তার কোনো শত্রু ছিলনা, হত্যাকারি জলিল একজন মাদক সেবী ছিলেন এটা এলাকার সবাই জানেন। আমরা এই নির্মম হত্যার বিচার চাই,এবং এই এলাকা মাদক মুক্ত করার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবী জানাই।

 

একই এলাকার আব্দুল মজিদ (৩৪) বলেন, শুধুমাত্র মাদকের বিরুদ্ধে মুরুব্বি রোস্তম আলী চাচা মানুষকে নছিহত করতেন, এমনকি ঐ খুনি জলিলকেও মাদক ছেড়ে ভালো পথে আসতে বলতেন,নামাজ পড়তে বলতেন, আর এটাই ছিল মুরুব্বির অপরাধ, আর জন্যই প্রাণ দিতে হলো তাকে, আমি এই হত্যার বিচার ও এলাকাকে মাদক মুক্ত করতে প্রশাসনের সাড়াসি অভিযানের দাবি জানাই।

আরও পড়ুন>>কাতারে অবকাঠামো ও আবাসন খাতে ৩৮.৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ

হরিকেশ কানি পাড়া এলাকার মোঃ আক্কেল আক্কেল আলী ( ৬৮) জানান, এলাকায় মাদক নির্মূলের জন্য আমরা মসজিদ ভিত্তিক কমিটি করে মাদক সেবী ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধ করার চেষ্টা করে যাচ্ছি, দুঃখজনক হলেও সত্যি যে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন আমাদের সহায়তা করছেনা, আমরা এলাকাবাসী প্রশাসনের কাছে এই জঘন্য হত্যাকান্ড মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থার দাবী জানাই।তানাহলে আমরা এলাকাবাসী রাজপথে কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলব।

জেলা মাদক প্রতিরোধ কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সাইয়েদ আহমেদ বাবু’ বলেন,এটি পরিকল্পিত হত্যা।আমি নিজে মাদকবিরোধী কার্যক্রম করে আসছি ফলে প্রতিহিংসার কারনে আমার শ্বশুরকে মাদকসেবী জলিল নির্মমভাবে হত্যা করে।আমি চাই না আর কেউ এমন প্রতিহিংসার কবলে পরে র্সবশান্ত হয়। তিনি প্রশাসনের কাছে কঠোর আইনি ব্যবসার দাবি জানান।
‎
‎
‎কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন জানিয়েছেন, মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি পুলিশের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।রোস্তম আলী খোকা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আব্দুল জলিলকে গ্রেপ্তার ও হত্যাকান্ডের স্বীকারোক্তি রেকর্ড করার তথ্যও নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানান ওই কর্মকর্তা ।

 

 

Facebook Comments Box