ঢাকা ১২:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

বাঘায় ছাত্রীর সঙ্গে অশালিন আচরণের অভিযোগে শিক্ষককে তাড়া করে পিটিয়েছে শিক্ষার্থীরা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৫:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ অগাস্ট ২০২২ ৩৭৪ বার পড়া হয়েছে

বাঘায় ছাত্রীর সঙ্গে অশালিন আচরণের অভিযোগে শিক্ষককে তাড়া করে পিটিয়েছে শিক্ষার্থীরা

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জুয়েল আহমেদ বাঘা(রাজশাহী) থেকে : রাজশাহীর বাঘায় এক অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীর সঙ্গে অশালিন আচরণের অভিযোগে শিক্ষককে তাড়া করে পিটিয়েছে শিক্ষার্থীরা। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার (১৭ আগস্ট) সকালে উপজেলার ছাতারী উচ্চ বিদ্যালয়ে।

জানা গেছে, উপজেলার ছাতারী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি গ্রন্থাগারিক জাহিদুল ইসলাম জুয়েল মঙ্গলবার অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীর সাথে অশালিন আচরণ করেন। এতে শিক্ষার্থীরা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। এক পর্যায়ে বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে ওই শিক্ষকের বিচারের দাবিতে প্রধান শিক্ষকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগটি আমলে নিয়ে ঘটনার পরের দিন ওই শিক্ষকের বিচার করা হবে জানিয়ে শিক্ষার্থীদের শান্ত করা হয়। পরের দিন বুধবার বিচারে না বসায় শিক্ষার্থীরা ওই শিক্ষককে দেখে তাড়া দেয়। প্রাণের ভয়ে শিক্ষক পালিয়ে যান। এ সময় শিক্ষার্থীরা উত্তপ্ত হয়ে উঠে।

এক পর্যায়ে প্রধান শিক্ষক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বাঘা থানার পুলিশকে অবগত করেন। তাৎক্ষনিক তারা ঘটনাস্থলে পরিস্থিতি শান্ত করে।এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী জানান, শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম জুয়েল অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীর সঙ্গে অশালিন আচরন করেন । বিষয়টি প্রধান শিক্ষককে লিখিতভাবে অভিযোগ করা হলেও তিনি কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেননি।

এতে শিক্ষার্থীরা উত্তেজিত হয়ে শিক্ষককে দেখা মাত্র তাড়া করে।শিক্ষার্থীদের তাড়া খেয়ে শিক্ষক বাথরুমের মধ্যে পালিয়ে যায়।শিক্ষার্থীরা বাথরুমের দরজা ভেঙ্গে শিক্ষককে বের করে কিলঘুষি মারেন ।এ সময় অন্য শিক্ষকরা এগিয়ে এসে অভিযুক্ত শিক্ষককে রক্ষা করেন।

 

এ বিষয়ে ছাতারী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি গ্রস্থাগারিক জাহিদুল ইসলাম জুয়েল বলেন, আমি ক্লাসে সুন্দরভাবে একটি বিষয় নিয়ে উপস্থাপনা করছিলাম। এক শিক্ষার্থী ক্লাসে কোন খেয়াল করছে না। আমি তাকে কয়েকবার ক্লাসে আন্তরিক হওয়ার জন্য বলি। তারপরও সে কোন আন্তরিক হচ্ছিল না।আমি তাকে একটি চড় মেরেছি। তারপর বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আমার চড় মারার বিচার দাবিতে প্রধান শিক্ষকের কাছে অভিযোগ করেন। পরেরদিন বিদ্যালয়ে আসলে তারা একত্রিত হয়ে আমাকে তাড়া করে। আমি প্রাণ ভয়ে পালিয়ে বাথরুমে যায়। তারা বাথরুমের দরজা ভেঙ্গে আমাকে মারধর করে।

এ বিষয়ে ছাতরী উচ্চ বিদ্যালয়ের (ভারপ্রাপ্ত) প্রধান শিক্ষক নারগিস খাতুন বলেন, এ বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীরা উত্তপ্ত হয়ে উঠছিল। আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বাঘা থানার পুলিশকে অবগত করি। তারা সাথে সাথে এসে পরিস্থিতি শান্ত করে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আখতার বলেন, একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীরা উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌছে তাদের শান্ত করা হয়। তবে এ বিষয়ে উপজেলা পানি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. রোকুজ্জামানকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।তদন্ত টিমের রিপোর্ট পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বাঘায় ছাত্রীর সঙ্গে অশালিন আচরণের অভিযোগে শিক্ষককে তাড়া করে পিটিয়েছে শিক্ষার্থীরা

আপডেট সময় : ০৮:৫৫:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ অগাস্ট ২০২২

জুয়েল আহমেদ বাঘা(রাজশাহী) থেকে : রাজশাহীর বাঘায় এক অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীর সঙ্গে অশালিন আচরণের অভিযোগে শিক্ষককে তাড়া করে পিটিয়েছে শিক্ষার্থীরা। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার (১৭ আগস্ট) সকালে উপজেলার ছাতারী উচ্চ বিদ্যালয়ে।

জানা গেছে, উপজেলার ছাতারী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি গ্রন্থাগারিক জাহিদুল ইসলাম জুয়েল মঙ্গলবার অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীর সাথে অশালিন আচরণ করেন। এতে শিক্ষার্থীরা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। এক পর্যায়ে বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে ওই শিক্ষকের বিচারের দাবিতে প্রধান শিক্ষকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগটি আমলে নিয়ে ঘটনার পরের দিন ওই শিক্ষকের বিচার করা হবে জানিয়ে শিক্ষার্থীদের শান্ত করা হয়। পরের দিন বুধবার বিচারে না বসায় শিক্ষার্থীরা ওই শিক্ষককে দেখে তাড়া দেয়। প্রাণের ভয়ে শিক্ষক পালিয়ে যান। এ সময় শিক্ষার্থীরা উত্তপ্ত হয়ে উঠে।

এক পর্যায়ে প্রধান শিক্ষক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বাঘা থানার পুলিশকে অবগত করেন। তাৎক্ষনিক তারা ঘটনাস্থলে পরিস্থিতি শান্ত করে।এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী জানান, শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম জুয়েল অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীর সঙ্গে অশালিন আচরন করেন । বিষয়টি প্রধান শিক্ষককে লিখিতভাবে অভিযোগ করা হলেও তিনি কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেননি।

এতে শিক্ষার্থীরা উত্তেজিত হয়ে শিক্ষককে দেখা মাত্র তাড়া করে।শিক্ষার্থীদের তাড়া খেয়ে শিক্ষক বাথরুমের মধ্যে পালিয়ে যায়।শিক্ষার্থীরা বাথরুমের দরজা ভেঙ্গে শিক্ষককে বের করে কিলঘুষি মারেন ।এ সময় অন্য শিক্ষকরা এগিয়ে এসে অভিযুক্ত শিক্ষককে রক্ষা করেন।

 

এ বিষয়ে ছাতারী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি গ্রস্থাগারিক জাহিদুল ইসলাম জুয়েল বলেন, আমি ক্লাসে সুন্দরভাবে একটি বিষয় নিয়ে উপস্থাপনা করছিলাম। এক শিক্ষার্থী ক্লাসে কোন খেয়াল করছে না। আমি তাকে কয়েকবার ক্লাসে আন্তরিক হওয়ার জন্য বলি। তারপরও সে কোন আন্তরিক হচ্ছিল না।আমি তাকে একটি চড় মেরেছি। তারপর বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আমার চড় মারার বিচার দাবিতে প্রধান শিক্ষকের কাছে অভিযোগ করেন। পরেরদিন বিদ্যালয়ে আসলে তারা একত্রিত হয়ে আমাকে তাড়া করে। আমি প্রাণ ভয়ে পালিয়ে বাথরুমে যায়। তারা বাথরুমের দরজা ভেঙ্গে আমাকে মারধর করে।

এ বিষয়ে ছাতরী উচ্চ বিদ্যালয়ের (ভারপ্রাপ্ত) প্রধান শিক্ষক নারগিস খাতুন বলেন, এ বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীরা উত্তপ্ত হয়ে উঠছিল। আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বাঘা থানার পুলিশকে অবগত করি। তারা সাথে সাথে এসে পরিস্থিতি শান্ত করে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আখতার বলেন, একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীরা উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌছে তাদের শান্ত করা হয়। তবে এ বিষয়ে উপজেলা পানি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. রোকুজ্জামানকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।তদন্ত টিমের রিপোর্ট পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Facebook Comments Box