ঢাকা ০৮:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইউনিয়ন পরিষদ পুনর্গঠন ও বিভক্তকরণ কার্যক্রম স্থগিত করল সরকার ব্যালন ডি’অর এবং সারাবিশ্বের ক্রীড়াঙ্গনের আজকের সংবাদ ডাক্তার-প্রকৌশলী থেকে পিএইচডি ৩০ ধরনের ডিগ্রিধারী প্রাথমিকের শিক্ষকতায় ডিমলায় বিআরটিসির অবৈধ পাথর বোঝাই ট্রাক আটক রাণীশংকৈলে বৈদ্যুতিক নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন: সভাপতি সুমন, সম্পাদক মান্নান নেতানিয়াহুর প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকট: নতুন ইজরায়েলি রাজনীতির সমীকরণ উচ্চকক্ষের স্পিকারের অধীনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের নতুন প্রস্তাব সন্দ্বীপে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ যুবদল নেতার বিরুদ্ধে ওয়ানডেতে দ্রুততম ১৫০ উইকেটের নতুন রেকর্ড গড়লেন শাহিন আফ্রিদি ফ্রান্সে বিক্ষোভের জেরে প্রায় ১০০০ জন গ্রেপ্তার

প্রাকৃতিক মাছ রক্ষায় কঠোর অবস্থানে ঝিনাইগাতী প্রশাসন: অবৈধ চায়না দুয়ারী জাল ধ্বংস

শেরপুর থেকে মিজানুর রহমান
  • আপডেট সময় : ০৫:২৫:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ জুন ২০২৫ ১১০ বার পড়া হয়েছে

প্রাকৃতিক মাছ রক্ষায় কঠোর অবস্থানে ঝিনাইগাতী প্রশাসন: অবৈধ চায়না দুয়ারী জাল ধ্বংস

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

প্রাকৃতিক মাছ রক্ষায় কঠোর অবস্থানে ঝিনাইগাতী প্রশাসন: অবৈধ চায়না দুয়ারী জাল ধ্বংস

 

 

প্রাকৃতিক মাছ রক্ষায় কঠোর অবস্থানে ঝিনাইগাতী
প্রশাসন: অবৈধ চায়না দুয়ারী জাল ধ্বংস।
শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ধলীবিলে প্রাকৃতিক মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

 

বুধবার (১৮ জুন) উপজেলার সদর ইউনিয়নের সারিকালীনগর ও দড়িকালীনগর গ্রামের মধ্যবর্তী ধলীবিলে এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশরাফুল আলম রাসেল।

 

 

অভিযানে ৩৫টি অবৈধ ‘চায়না দুয়ারী’ জাল জব্দ করা হয়। পরে দিনের ঘাট ব্রিজসংলগ্ন ফাঁকা স্থানে জালগুলো আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। অভিযান পরিচালনায় ইউএনওকে সহায়তা করেন স্থানীয় মৎস্য অফিসের কর্মকর্তারা।

 

 

ইউএনও মো. আশরাফুল আলম রাসেল বলেন, “চায়না দুয়ারী জাল মাছ ধরার একটি অত্যন্ত ক্ষতিকর অবৈধ ফাঁদ। এটি মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ধ্বংস করে দেয়, যা পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। শুধু ব্যবহারকারীরাই নয়, যারা এই জাল সরবরাহ ও বিক্রি করেন, তারাও আইনের আওতায় আসবেন। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে।”

 

 

স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, “একসময় এই বিলে প্রচুর প্রাকৃতিক মাছ পাওয়া যেত। কিন্তু চায়না দুয়ারী জালের কারণে মাছের বংশবৃদ্ধি ব্যাহত হয়েছে, যার ফলে বিল এখন প্রায় মাছশূন্য হয়ে পড়েছে। ইউএনও স্যারের এমন উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে হয়তো আমরা আবার প্রাকৃতিক মাছ খেতে পারব।”

পড়ুন>>রানীশংকৈলে ইসলামী ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ইমামদের ভূমিকা শীর্ষক আলোচনা

 

তবে এলাকাবাসীর মধ্যে কেউ কেউ অভিযানের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, “এই অবৈধ জালের অনেক মালিকই আমাদের গ্রামেরই। তারা অভয়াশ্রমে সেচ দিয়ে মাছ ধরে, আবার স্থানীয় মৎস্য কর্মকর্তার সঙ্গে ঘোরাফেরা করে। তারা আগেভাগেই অভিযানের খবর পেয়ে যায়—এমনটাই সন্দেহ।”

 

 

তিনি আরও বলেন, “অভিযানে সাধারণ মানুষের জালই ধরা পড়ে, প্রকৃত অপরাধীরা থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। তাই অভিযান পরিচালনার তথ্য যেন আগে ফাঁস না হয়, সেদিকে কর্তৃপক্ষের বিশেষ নজর প্রয়োজন।”

 

অভিজ্ঞ মহলের মতে, অবৈধভাবে মৎস্য আহরণে যারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত, তাদের কঠোরভাবে আইনের আওতায় না আনলে প্রকৃত অপরাধীরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়ে যাবে।

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

প্রাকৃতিক মাছ রক্ষায় কঠোর অবস্থানে ঝিনাইগাতী প্রশাসন: অবৈধ চায়না দুয়ারী জাল ধ্বংস

আপডেট সময় : ০৫:২৫:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ জুন ২০২৫

 

 

প্রাকৃতিক মাছ রক্ষায় কঠোর অবস্থানে ঝিনাইগাতী প্রশাসন: অবৈধ চায়না দুয়ারী জাল ধ্বংস

 

 

প্রাকৃতিক মাছ রক্ষায় কঠোর অবস্থানে ঝিনাইগাতী
প্রশাসন: অবৈধ চায়না দুয়ারী জাল ধ্বংস।
শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ধলীবিলে প্রাকৃতিক মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

 

বুধবার (১৮ জুন) উপজেলার সদর ইউনিয়নের সারিকালীনগর ও দড়িকালীনগর গ্রামের মধ্যবর্তী ধলীবিলে এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশরাফুল আলম রাসেল।

 

 

অভিযানে ৩৫টি অবৈধ ‘চায়না দুয়ারী’ জাল জব্দ করা হয়। পরে দিনের ঘাট ব্রিজসংলগ্ন ফাঁকা স্থানে জালগুলো আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। অভিযান পরিচালনায় ইউএনওকে সহায়তা করেন স্থানীয় মৎস্য অফিসের কর্মকর্তারা।

 

 

ইউএনও মো. আশরাফুল আলম রাসেল বলেন, “চায়না দুয়ারী জাল মাছ ধরার একটি অত্যন্ত ক্ষতিকর অবৈধ ফাঁদ। এটি মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ধ্বংস করে দেয়, যা পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। শুধু ব্যবহারকারীরাই নয়, যারা এই জাল সরবরাহ ও বিক্রি করেন, তারাও আইনের আওতায় আসবেন। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে।”

 

 

স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, “একসময় এই বিলে প্রচুর প্রাকৃতিক মাছ পাওয়া যেত। কিন্তু চায়না দুয়ারী জালের কারণে মাছের বংশবৃদ্ধি ব্যাহত হয়েছে, যার ফলে বিল এখন প্রায় মাছশূন্য হয়ে পড়েছে। ইউএনও স্যারের এমন উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে হয়তো আমরা আবার প্রাকৃতিক মাছ খেতে পারব।”

পড়ুন>>রানীশংকৈলে ইসলামী ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ইমামদের ভূমিকা শীর্ষক আলোচনা

 

তবে এলাকাবাসীর মধ্যে কেউ কেউ অভিযানের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, “এই অবৈধ জালের অনেক মালিকই আমাদের গ্রামেরই। তারা অভয়াশ্রমে সেচ দিয়ে মাছ ধরে, আবার স্থানীয় মৎস্য কর্মকর্তার সঙ্গে ঘোরাফেরা করে। তারা আগেভাগেই অভিযানের খবর পেয়ে যায়—এমনটাই সন্দেহ।”

 

 

তিনি আরও বলেন, “অভিযানে সাধারণ মানুষের জালই ধরা পড়ে, প্রকৃত অপরাধীরা থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। তাই অভিযান পরিচালনার তথ্য যেন আগে ফাঁস না হয়, সেদিকে কর্তৃপক্ষের বিশেষ নজর প্রয়োজন।”

 

অভিজ্ঞ মহলের মতে, অবৈধভাবে মৎস্য আহরণে যারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত, তাদের কঠোরভাবে আইনের আওতায় না আনলে প্রকৃত অপরাধীরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়ে যাবে।

 

 

Facebook Comments Box