১ নভেম্বর থেকে খাদ্য ব্যবসায় লাইসেন্স ও নিবন্ধন বাধ্যতামূলক
- আপডেট সময় : ০৭:২৭:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
দেশের খাদ্য খাতের শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং জনস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে রেস্তোরাঁ, বেকারি, মিষ্টির দোকানসহ বিভিন্ন শ্রেণির খাদ্য ব্যবসার জন্য নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)। শুধু নিবন্ধনই নয়, বিশেষায়িত খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও বিপণনের ক্ষেত্রেও লাইসেন্স গ্রহণ করতে হবে। গত বুধবার বিএফএসএর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামী ১ নভেম্বর থেকে এ নতুন নিয়ম কার্যকর করা হচ্ছে। এর ব্যত্যয় ঘটলে বা লাইসেন্স ও নিবন্ধন ছাড়া ব্যবসা পরিচালনা করলে তা নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। বিএফএসএর আশা, নতুন এ ব্যবস্থার মাধ্যমে খাদ্য ব্যবসায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়বে।
নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, ১৬ শ্রেণির খাদ্য ব্যবসার জন্য নিবন্ধন নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রেস্তোরাঁ, বেকারি, পেস্ট্রি শপ, ফলের রসের দোকান ও ক্যাটারিং সেবা। এছাড়া প্যাকেটজাত খাবার প্রস্তুতকারী, দুগ্ধপণ্য উৎপাদনকারী, মিষ্টির দোকান এবং কাঁচা পণ্য ছাড়া অন্যান্য খাদ্যদ্রব্য আমদানিকারকদেরও এই প্রক্রিয়ার আওতায় আসতে হবে। এমনকি রাস্তার পাশে পিঠা, পুরি বা পেঁয়াজুর মতো খাবার বিক্রেতাদেরও নিবন্ধন নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া মুদি দোকান, কোল্ড স্টোরেজ এবং ভোজ্যতেল ও লবণ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকেও এই নিবন্ধনের আওতায় আনা হয়েছে। প্রথমবারের মতো নিবন্ধন নিতে ব্যবসায়ীদের কোনো ফি দিতে হবে না। এসব ব্যবসার মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্য সহায়ক ও সম্পূরক খাদ্য, বিশেষ পথ্য, চিকিৎসাসংক্রান্ত বিশেষ পথ্য, প্রোবায়োটিক ও প্রিবায়োটিক খাদ্য এবং নিউট্রাসিউটিক্যাল জাতীয় পণ্যের উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ, মজুদ, আমদানি ও বিপণন। নিবন্ধন লাগবে যেসব ব্যবসায় নতুন নিয়মে রেস্তোরাঁ। প্রথমবার নিবন্ধন বিনা ফিতে প্রবিধানমালা অনুযায়ী, প্রচলিত ১৬ শ্রেণির খাদ্য ব্যবসার প্রথমবার নিবন্ধন বিনা ফিতে করা যাবে।
বিশেষায়িত খাদ্যপণ্য, যেমন—জৈব খাদ্য, অভিনব খাদ্য, পুষ্টিসমৃদ্ধ বা ফর্টিফায়েড খাদ্য, বংশগত বৈশিষ্ট্য সংশোধিত খাবার এবং রোগ ঝুঁকি কমানোর দাবিযুক্ত পণ্যের জন্য লাইসেন্স নেওয়া আবশ্যিক। এসব লাইসেন্সের ফি প্রতিষ্ঠানের আয়তনের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হবে। ১০০ বর্গমিটার বা তার ছোট আয়তনের প্রতিষ্ঠানের প্রিমিসেস লাইসেন্স ফি ১০ হাজার টাকা এবং ১০ হাজার বর্গমিটারের চেয়ে বড় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এই ফি ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আবেদন যেভাবে, না মানলে শাস্তি নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রবিধানমালার তফসিল-১০ অনুযায়ী নির্ধারিত ফি প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পরিশোধ করে এবং সংশ্লিষ্ট শর্ত পূরণ করে আবেদন করতে হবে।
নিবন্ধন ও লাইসেন্সের মেয়াদ হবে তিন বছর। প্রতিটি খাদ্যপণ্যের প্যাকেটে নিবন্ধন নম্বর উল্লেখ থাকা বাধ্যতামূলক, যাতে ভোক্তারা পণ্যের তথ্য যাচাই করতে পারেন এবং প্রয়োজনে অভিযোগ জানাতে পারেন। লাইসেন্সের জন্য ৬.১, ৭.১, ৮.১ ও ৯.১ নম্বর ফরম এবং নিবন্ধনের জন্য ৫.১ নম্বর ফরমে আবেদন করতে হবে। প্রাথমিক অবস্থায় সংশ্লিষ্ট জেলা কার্যালয়ে আবেদন জমা দিতে হবে, তবে ভবিষ্যতে পুরো প্রক্রিয়াটি অনলাইনে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। ব্যবসায়ীদের ১ নভেম্বরের আগেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করার জন্য আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর মাধ্যমে ভোক্তারা পণ্যের নিবন্ধন সম্পর্কে জানতে পারবেন এবং অভিযোগের ক্ষেত্রেও নম্বরটি ব্যবহার করতে পারবেন।
সূত্র: মানবজমিন
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ
























