বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন আজ শনিবার, ১৫ আগস্ট। ১৯৪৫ সালের এই দিনে দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। এস্কান্দার মজুমদার ও তৈয়বা মজুমদার দম্পতির তৃতীয় সন্তান হিসেবে জন্ম নেওয়া খালেদা জিয়া দীর্ঘ কর্মময় জীবন শেষে গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর পরলোকগমন করেন। মৃত্যুর পর এটিই তার প্রথম জন্মদিন।
জন্মদিন উপলক্ষে এবার কোনো উৎসব বা আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজন রাখেনি বিএনপি। তার রুহের মাগফেরাত কামনায় ঢাকাসহ সারা দেশে দলীয় কার্যালয় ও স্থানীয় মসজিদগুলোতে মিলাদ ও বিশেষ দোয়া মাহফিলের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ বেলা ১১টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত থেকে তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। ২০১৬ সাল থেকেই বিএনপি ১৫ আগস্টে কেক কাটার পরিবর্তে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের মাধ্যমে দিনটি পালন করে আসছে।
চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর, ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট খালেদা জিয়া স্থায়ী মুক্তি লাভ করেন। এর আগে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতির দুই মামলায় তাকে কারাবন্দি করা হয়েছিল।
পরবর্তীতে ২০২০ সালের ২৫ মার্চ করোনাভাইরাস মহামারির শুরুতে সরকারের নির্বাহী আদেশে শর্তসাপেক্ষে সাময়িক মুক্তি পান তিনি। দীর্ঘ সময় নানা জটিল রোগে ভুগে চিকিৎসাধীন থাকার পর ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। পরদিন জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তার জানাজায় মানুষের ঢল নামে এবং স্বামী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়।
রাজনীতিতে খালেদা জিয়ার যাত্রা শুরু হয় ১৯৮১ সালের ৩০ মে স্বামী জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর। ১৯৮২ সালের ২ জানুয়ারি বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদ গ্রহণের মাধ্যমে তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হন। ১৯৮৪ সালে দলের চেয়ারপারসনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি।
স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে আপসহীন নেতৃত্ব দিয়ে ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইতিহাস গড়েন। তিন দফায় প্রধানমন্ত্রী ও দুইবার বিরোধীদলীয় নেতার দায়িত্ব পালন করা খালেদা জিয়া ১৯৯৩ সালে সার্কের প্রথম নারী চেয়ারপারসন হওয়ার গৌরবও অর্জন করেন।
নির্বাচনী রাজনীতিতে খালেদা জিয়ার সাফল্য ছিল ঈর্ষণীয়। পাঁচটি সংসদ নির্বাচনে ২৩টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি সবকটিতেই জয়ী হয়েছেন। ১৯৯১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত চারটি নির্বাচনে পাঁচটি করে আসনে প্রার্থী হয়ে প্রতিবারই তিনি শতভাগ সাফল্য দেখিয়েছেন।
২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনটি আসনে লড়ে তিনটিতেই বিজয়ী হন। ওয়ান-ইলেভেনের সময় ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর তত্ত্বাবধায়ক সরকার তাকে গ্রেপ্তার করেছিল, সে সময় কারাবন্দি অবস্থাতেও তার জন্মদিন পালিত হয়েছিল।
আজকের কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিকেলে ঢাকা-১৭ আসনের মহাখালী কড়াইল বস্তি এলাকার টিঅ্যান্ডটি মাঠে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মাঝে অনুদান বিতরণ ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের।
এছাড়া বগুড়ার শিবগঞ্জসহ সারা দেশের বিভিন্ন উপজেলা পর্যায়েও তিন দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে স্থানীয় মসজিদগুলোতে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের এসব কর্মসূচিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরদিন ৬ আগস্ট স্থায়ী মুক্তি পান তিনি।
বাংলাদেশের রাজনীতি ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা খালেদা জিয়ার রাজনীতিতে আগমন ঘটে ১৯৮১ সালের ৩০ মে স্বামী জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর।
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বিএনপির নেতৃত্বে বর্জন করে দলটি। এরপর থেকে গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় থেকে চিকিৎসা নেন। অসুস্থতার কারণে তাকে একাধিকবার হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়।
উপজেলা বিএনপির তিন দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল বাদ জুমা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বেড়াবালা গরীবপুর গ্রামের বায়তুল মামুর জামে মসজিদে এ আয়োজন করা হয়।
D/ A
Leave a Reply