পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ভাসমান সেতুই ভরসা: সবজি চাষিদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি : দৈনিক সৃষ্টি নিউজ
  1. admin@sristy.net : admin :
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ভাসমান সেতুই ভরসা: সবজি চাষিদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি : দৈনিক সৃষ্টি নিউজ
শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১২:৫১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
হরমুজ প্রণালিতে মাইন অপসারণ ও শিপিং করিডোর নিয়ে ইরান-কাতার আলোচনা আল নাসরের জয়সূচক গোল করে হাজার গোলের পথে রোনালদো চূড়ান্ত পর্যায়ে নবম পে স্কেলের গেজেট: সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে জারির সম্ভাবনা নেপাল ও চীনে বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানি বেড়ে ৫৮৪, নিখোঁজ আড়াই হাজার জাতিসংঘে বাংলাদেশের নতুন স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব নিলেন আইরিন জুবাইদা খান পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ভাসমান সেতুই ভরসা: সবজি চাষিদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি নেপালে আকস্মিক বন্যায় মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি সংরক্ষণ নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন জাতীয় কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়েই উপেক্ষিত নজরুলের স্মৃতি ও গবেষণা ক্যাপাসিটি চার্জের চাপে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাত: দায় কার? ক্লাব ছাড়ার অপেক্ষায় এনজো ও আলভারেজ: দুই বন্ধুর গন্তব্য এখন অনিশ্চিত

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ভাসমান সেতুই ভরসা: সবজি চাষিদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি

সৃষ্টি ডেস্ক :
  • প্রকাশিত : শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের পাখিমারা খালের ওপর একটি স্থায়ী সেতুর অভাবে দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা। কুমিরমারা, নেয়ামতপুর ও এলেমপুর গ্রামের অন্তত সাড়ে ৫০০ কৃষক তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য নিয়ে প্রতিদিন কাদা মাড়িয়ে, নৌকা পার হয়ে অথবা ঝুঁকিপূর্ণ ভাসমান সেতু দিয়ে পাখিমারার পাইকারি বাজারে যাতায়াত করছেন। এই অঞ্চলে উৎপাদিত সবজি কলাপাড়া উপজেলার মোট চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশ পূরণ করে থাকে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত সবজি ট্রাক ও পিকআপে করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠানো হয়। কৃষকদের তথ্যমতে, এসব গ্রাম থেকে প্রতি বছর প্রায় ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকার সবজি ও কৃষিপণ্য উৎপাদিত হয়।

বর্ষা মৌসুমে কৃষকদের দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। গ্রামগুলোর অভ্যন্তরীণ মাটির রাস্তাগুলো কাদায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়লে কৃষিপণ্য পরিবহনে চরম বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। স্থানীয় কৃষক আব্দুল আজিজ হাওলাদার জানান, প্রায় ৩০০ ফুট প্রশস্ত পাখিমারা খাল পার হওয়ার জন্য বর্তমানে কৃষকরা নিজেদের অর্থায়নে ড্রামের ওপর কাঠের পাটাতন দিয়ে একটি ভাসমান সেতু তৈরি করেছেন, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। প্রবীণ কৃষক সুলতান গাজীর মতে, এত বিপুল পরিমাণ কৃষিপণ্য উৎপাদনের পরেও দীর্ঘ তিন দশকে এখানে একটি পাকা সেতু নির্মিত না হওয়া হতাশাজনক।

সেতু নির্মাণের ইতিহাস নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। ২০১৬ সালে চাকামইয়া এলাকার আরপাঙ্গাশিয়া নদীর ওপর ভেঙে পড়া একটি আয়রন সেতুর মালামাল এনে পাখিমারা খালে পুনরায় ব্যবহার করা হয়েছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেই সময় ভালো মানের খুঁটি ও স্লিপার সরিয়ে নিম্নমানের ও অকেজো মালামাল ব্যবহার করায় সেতুটি টেকেনি। সেই থেকে ভাসমান ড্রাম সেতুই তাদের একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়ে তারা বলছেন, কোটি কোটি টাকার কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণের স্বার্থে এখানে দ্রুত একটি স্থায়ী গার্ডার সেতু নির্মাণ করা জরুরি।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা নাহিদ হাসান জানিয়েছেন, পাখিমারা খালের ওপর একটি গার্ডার সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান জানান, কৃষকদের যোগাযোগ ও পণ্য পরিবহন সুবিধা নিশ্চিত করতে খালের ওপর ৪৯০ মিটার দীর্ঘ একটি গার্ডার সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বর্তমানে একনেকের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে এবং অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এর বাস্তবায়ন কাজ শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর















error: Content is protected !!