আর্থিক সংকটে জর্জরিত বীমা কোম্পানিগুলোর গ্রাহকদের দীর্ঘদিনের বকেয়া দাবি পরিশোধের প্রক্রিয়া আগামী সপ্তাহ থেকে শুরু হতে যাচ্ছে। বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) জানিয়েছে, প্রথম ধাপে সাত থেকে আটটি কোম্পানির সম্পদ বিক্রি এবং ট্রেজারি বন্ড ও এফডিআরসহ বিভিন্ন আর্থিক সম্পদ নগদায়নের মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধে ব্যবহার করা হবে। ইন্স্যুরেন্স রিপোর্টার্স ফোরাম (আইআরএফ) আয়োজিত দুই দিনব্যাপী এক আবাসিক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইডিআরএ চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন এই তথ্য জানান।
মীর নাদিয়া নিভিন জানান, কোম্পানিগুলোর জমি ও অন্যান্য সম্পদ বিক্রির প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ইতিমধ্যে কয়েকটি কোম্পানির সম্পদ থেকে প্রাপ্ত অর্থ আইডিআরএ-এর তদারকিতে থাকা সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবে জমা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘তাদের যত জমি বিক্রি হয়ে লিকুইডেট হতে থাকবে এবং ব্যাংকে টাকা আসবে, আমরা গ্রাহকদের সেই অর্থ দিতে থাকব।’ এই অর্থ বিতরণে ‘ফার্স্ট ইন, ফার্স্ট আউট’ (এফআইএফও) পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে, অর্থাৎ যে গ্রাহকের দাবি আগে এসেছে, তাকেই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অর্থ প্রদান করা হবে।
দাবি পরিশোধের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি কোম্পানির জন্য আলাদা ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে এবং সেখানে নিরীক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কোম্পানিগুলোর সরাসরি অর্থ ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই।
বিশেষ করে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার বকেয়া দাবির বিষয়টি উল্লেখ করে চেয়ারম্যান জানান, কোম্পানিটির ফেনীর জমি ও কিছু বন্ড বিক্রি করে পাওয়া অর্থ দিয়ে আগামী সপ্তাহ থেকেই পরিশোধ কার্যক্রম শুরু হবে। প্রাথমিকভাবে কয়েকশ কোটি টাকা বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এছাড়া ফারইস্টের নতুন প্রিমিয়াম সংগ্রহ বন্ধ রাখা হলেও নবায়ন প্রিমিয়াম গ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে।
আইডিআরএ চেয়ারম্যান আরও জানান, ফারইস্টের সব সম্পদ ও বন্ড তরলীকরণ করা সম্ভব হলে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাওয়া যেতে পারে। এই অর্থ দিয়ে বড় একটি অংশের দাবি নিষ্পত্তির পর কোম্পানিটির ব্যবসায়িক সক্ষমতা ও ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হবে। তিনি মনে করেন, বড় কোম্পানিগুলো যদি সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসায়িক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পারে, তবে সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। ফারইস্টের পাশাপাশি অন্যান্য সমস্যাগ্রস্ত কোম্পানির গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধেও পর্যায়ক্রমে একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বীমা খাতে গ্রাহকদের আস্থা ফেরানোকে আইডিআরএ-এর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করে মীর নাদিয়া নিভিন বলেন, পলিসিহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষা করা কর্তৃপক্ষের মূল দায়িত্ব।
তিনি জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আইডিআরএ একদিকে কোম্পানিগুলোর সম্পদ ও আর্থিক তথ্য যাচাই করছে, অন্যদিকে বকেয়া দাবি পরিশোধে সরাসরি তদারকি করছে।
তিনি বলেন, ‘আমি প্রথম দিন অফিসে এসেই প্রতিশ্রুতি করেছিলাম, আইডিআরএ-এর কোর ম্যান্ডেট অনুযায়ী পলিসিহোল্ডারদের সুবিধা নিশ্চিত করব। দুই মাসের মাথায় সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করতে পেরেছি।’
উল্লেখ্য, আইআরএফ সভাপতি গোলাম মাওলার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. কাজিম উদ্দিন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আইআরএফ সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন। সম্পদ বিক্রি ও নগদায়নের অর্থ হাতে আসার সঙ্গে সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে গ্রাহকদের দাবি পরিশোধের এই কার্যক্রম চলমান থাকবে বলে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।
Leave a Reply