দুর্গাপূজায় অসুর রূপে বিশ্বনেতা: শিল্প না রাজনীতি? : দৈনিক সৃষ্টি নিউজ
  1. admin@sristy.net : admin :
দুর্গাপূজায় অসুর রূপে বিশ্বনেতা: শিল্প না রাজনীতি? : দৈনিক সৃষ্টি নিউজ
সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ০২:০০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ফেসবুকে ৩০ জুলাই এসএসসি ফল প্রকাশের গুঞ্জনে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান শিক্ষা বোর্ডের ভিসার ঝামেলা ছাড়াই ভ্রমণ এশিয়ার ৬ দেশ: জেনে নিন তালিকা দেশের ৯ ব্র্যান্ডের টুথপেস্টে মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক নাগেশ্বরীতে প্রান্তিক কৃষকের মাঝে ভ্রাম্যমান সৌরসেচ ব্যবস্থা বিতরণ কাউনিয়ায় মসজিদ থেকে একের পর এক মোটরসাইকেল ও বাইসাইকেল চুরি দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া টুথপেস্টের ৮টি ছাড়া সবগুলোতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক ভাইরাল রিল ভিডিও: প্রধান শিক্ষিকা বিউটি পালের পাশে সহকর্মীরা, ‘শিক্ষকরাও মানুষ’ যাদুকাটায় প্রশাসনের অভিযানে বালু খেকোদের হামলা শুভ সকাল; আজ রবিবার ২৬ জুলাই ২০২৬: আজকের পূর্ণাঙ্গ পঞ্জিকা ভূরুঙ্গামারীতে নসিমনের চাপায় চালক নিহত

দুর্গাপূজায় অসুর রূপে বিশ্বনেতা: শিল্প না রাজনীতি?

মোখলেছুর রহমান
  • প্রকাশিত : সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
দুর্গাপূজায় অসুর রূপে বিশ্বনেতা: শিল্প না রাজনীতি?
দুর্গাপূজায় অসুর রূপে বিশ্বনেতা: শিল্প না রাজনীতি? ছবি নেট

 

 

 

দুর্গাপূজায় অসুর রূপে বিশ্বনেতা: শিল্প না রাজনীতি?

 

 

দুর্গাপূজায় অসুর রূপে বিশ্বনেতা: শিল্প না রাজনীতি?
ধর্মীয় উৎসবের মঞ্চে রাজনৈতিক রূপক ব্যবহার নতুন নয়। তবে এবারের দুর্গাপূজায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বহরমপুরে যে দৃশ্য দেখা গেল, তা নিঃসন্দেহে বিস্ময়কর এবং একই সঙ্গে বিতর্কিত।

 

 

দুটি পূজা মণ্ডপে অসুর রূপে প্রতিমায় চিত্রিত হয়েছেন তিনজন বিশ্বনেতা, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, বাংলাদেশের নোবেল বিজয়ী ড. মোহাম্মদ ইউনূস এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। উৎসবপ্রেমীরা কেউ এটি সাহসী শিল্পকর্ম হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ মনে করছেন ধর্মীয় আবহে রাজনীতির অযাচিত অনুপ্রবেশ।

 

দুর্গাপূজার মূল দর্শন হলো অশুভ শক্তির বিনাশ ও শুভ শক্তির জয়। যুগে যুগে শিল্পীরা এই বার্তাকে প্রতীকী রূপে উপস্থাপন করেছেন। কিন্তু যখন প্রতিমায় জীবিত রাজনৈতিক নেতাদের মুখ ব্যবহার করা হয়, তখন তা নিছক শিল্প নয়, বরং সরাসরি রাজনৈতিক অবস্থান। এর ফলে উৎসবের মূল উদ্দেশ্য শান্তি, সম্প্রীতি ও ঐক্যের বার্তা আড়ালে চলে যায়।

 

 

আয়োজকদের যুক্তি, তারা অসুর চরিত্রে এমন ব্যক্তিত্বদের প্রতিফলিত করেছেন, যাদের নীতি ও কার্যকলাপকে সমাজের জন্য ক্ষতিকর মনে করা হয়।

 

কিন্তু প্রশ্ন হলো, ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক উৎসব কি রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা বা রাষ্ট্রীয় কূটনীতির বার্তা বহনের জায়গা হতে পারে? বিশেষ করে ড. ইউনূসের প্রতিমা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজনকেও এই উৎসবে টেনে এনেছে, যা দুই দেশের সম্পর্ক ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।

 

 

শিল্পের স্বাধীনতা অবশ্যই প্রয়োজনীয়। কিন্তু সেই স্বাধীনতা যেন দায়িত্ববোধের বাইরে চলে না যায়। সমাজের বৃহত্তর অংশে বিভাজন সৃষ্টি বা বিতর্ক উসকে দেওয়ার পরিবর্তে শিল্প ও সংস্কৃতি হওয়া উচিত ঐক্যের প্রতীক। দুর্গাপূজা যেখানে শুভ শক্তির জয়গান, সেখানে রাজনৈতিক বিদ্বেষের প্রতিফলন উৎসবের আবহকে ক্ষুণ্ন করে।

 

অতএব, পূজা মণ্ডপে শিল্পকলার প্রকাশ হোক এমনভাবে, যা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সামাজিক বন্ধন ও মানবিকতার জয়গান গায়। অশুভ শক্তির প্রতীক হোক সর্বজনীন অন্যায়, অবিচার ও বৈষম্য কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নয়। কেবল তবেই দুর্গাপূজার প্রকৃত শিক্ষা সমাজে ছড়িয়ে পড়বে।

 

 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর















error: Content is protected !!