ঢাকা ১১:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরকারি বেতন দিতে ব্যাংক থেকে আরও ৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ আকাশে ড্রোন, মাঠে কে-৯: ঠাকুরগাঁও-১আসন উপ-নির্বাচনে ২১ প্লাটুন বিজিবি রংপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের পেছনে বাসের ধাক্কায় নিহত ৩ হুতিদের শান্ত করতে ১০০ কোটি ডলারের প্রস্তাব সৌদি আরবের ইসরাইলের নির্বাচনে ঝুলে আছে নেতানিয়াহুর ভাগ্য, সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং দমনে দীর্ঘমেয়াদি কৌশল জরুরি চুয়েটে ক্লাস শুরু নিয়ে বিভাগীয় প্রধানদের ভিন্নমত কেপটাউন টেস্টে মিচেল স্টার্কের বোলিং তাণ্ডব: ৩২৯ রানে অলআউট দক্ষিণ আফ্রিকা বাংলাদেশে ৬.৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে আগ্রহী জাপান: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সফটওয়্যার প্রোগ্রামার নিয়োগ: আবেদনের সুযোগ

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং দমনে দীর্ঘমেয়াদি কৌশল জরুরি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:২৭:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কুমিল্লা নগরের টাউন হল মাঠ, কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ও রেলস্টেশন এলাকা—যেখানে এক মাস আগেও গভীর রাতে মাদকের আসর এবং মোটরসাইকেলের মহড়া আতঙ্কের কারণ ছিল, সেখানে এখন জনমনে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। জেলা পুলিশ টানা এক মাস বিশেষ অভিযান চালিয়ে কিশোর গ্যাংগুলোর তৎপরতা বন্ধ করতে সক্ষম হওয়ায় শ্রমজীবীসহ সাধারণ মানুষ এখন রাতে নির্ভয়ে চলাচল করতে পারছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এ সমন্বিত উদ্যোগ প্রশংসা কুড়িয়েছে, তবে প্রশ্ন রয়ে গেছে, এই সাময়িক শান্তি কীভাবে টেকসই করা যাবে।

দীর্ঘদিন ধরে কিশোর অপরাধের বিষয়টি আলোচনায় থাকলেও গত সেপ্টেম্বরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের স্কুলপড়ুয়া সন্তান হত্যাকাণ্ডের পর পরিস্থিতির ভয়াবহতা সামনে আসে। ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জনগণের দাবির মুখে পুলিশ জেলাজুড়ে চিরুনি অভিযান শুরু করে। গত এক মাসে সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি মানুষকে আটক এবং প্রায় এক হাজারের বেশি গ্যাং লিডার ও অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। একই সঙ্গে অপরাধী কিশোরদের আটক করে অভিভাবকদের জিম্মায় মুচলেকা নিয়ে ছাড়ার মাধ্যমে কঠোরতা ও সংশোধনের সুযোগ তৈরি করেছে পুলিশ।

তবে সমাজ সচেতনরা মনে করছেন, শুধু অভিযান চালিয়ে রাস্তাঘাট খালি করলেই কিশোর অপরাধ পুরোপুরি নির্মূল হবে না। স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন বা অপরাধ জগতের প্রভাবশালী ও ‘বড় ভাই’ তকমাধারী ব্যক্তিরা নিজেদের স্বার্থে কিশোরদের ব্যবহার করে। এসব নেপথ্য কারিগর ও মদদদাতাদের আইনের আওতায় না আনলে এবং তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত না করলে, অভিযানের চাপ কমলে নতুন নামে আবার এসব গ্যাং মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকট কাটাতে কেবল লোকদেখানো ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’-এ সীমাবদ্ধ থাকা যাবে না; পুলিশের নিয়মিত পেশাদার নজরদারি ও ধারাবাহিক তৎপরতা বজায় রাখতে হবে। পাশাপাশি মাদকের সহজলভ্যতা রোধ করা অপরিহার্য। সেই সঙ্গে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেও দায়িত্ব নিতে হবে। অভিভাবক ও শিক্ষকদের নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন—সন্তানেরা কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের কার্যকলাপ কেমন। পৃষ্ঠপোষকদের গ্রেপ্তার, মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এবং সামাজিক সচেতনতার মাধ্যমেই কুমিল্লাকে প্রকৃত অর্থে নিরাপদ নগরে পরিণত করা সম্ভব। কুমিল্লার এই উদ্যোগ সফল হলে অন্যান্য জেলায়ও এটি মডেল হিসেবে কাজ করবে।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং দমনে দীর্ঘমেয়াদি কৌশল জরুরি

আপডেট সময় : ০৯:২৭:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

কুমিল্লা নগরের টাউন হল মাঠ, কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ও রেলস্টেশন এলাকা—যেখানে এক মাস আগেও গভীর রাতে মাদকের আসর এবং মোটরসাইকেলের মহড়া আতঙ্কের কারণ ছিল, সেখানে এখন জনমনে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। জেলা পুলিশ টানা এক মাস বিশেষ অভিযান চালিয়ে কিশোর গ্যাংগুলোর তৎপরতা বন্ধ করতে সক্ষম হওয়ায় শ্রমজীবীসহ সাধারণ মানুষ এখন রাতে নির্ভয়ে চলাচল করতে পারছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এ সমন্বিত উদ্যোগ প্রশংসা কুড়িয়েছে, তবে প্রশ্ন রয়ে গেছে, এই সাময়িক শান্তি কীভাবে টেকসই করা যাবে।

দীর্ঘদিন ধরে কিশোর অপরাধের বিষয়টি আলোচনায় থাকলেও গত সেপ্টেম্বরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের স্কুলপড়ুয়া সন্তান হত্যাকাণ্ডের পর পরিস্থিতির ভয়াবহতা সামনে আসে। ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জনগণের দাবির মুখে পুলিশ জেলাজুড়ে চিরুনি অভিযান শুরু করে। গত এক মাসে সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি মানুষকে আটক এবং প্রায় এক হাজারের বেশি গ্যাং লিডার ও অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। একই সঙ্গে অপরাধী কিশোরদের আটক করে অভিভাবকদের জিম্মায় মুচলেকা নিয়ে ছাড়ার মাধ্যমে কঠোরতা ও সংশোধনের সুযোগ তৈরি করেছে পুলিশ।

তবে সমাজ সচেতনরা মনে করছেন, শুধু অভিযান চালিয়ে রাস্তাঘাট খালি করলেই কিশোর অপরাধ পুরোপুরি নির্মূল হবে না। স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন বা অপরাধ জগতের প্রভাবশালী ও ‘বড় ভাই’ তকমাধারী ব্যক্তিরা নিজেদের স্বার্থে কিশোরদের ব্যবহার করে। এসব নেপথ্য কারিগর ও মদদদাতাদের আইনের আওতায় না আনলে এবং তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত না করলে, অভিযানের চাপ কমলে নতুন নামে আবার এসব গ্যাং মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকট কাটাতে কেবল লোকদেখানো ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’-এ সীমাবদ্ধ থাকা যাবে না; পুলিশের নিয়মিত পেশাদার নজরদারি ও ধারাবাহিক তৎপরতা বজায় রাখতে হবে। পাশাপাশি মাদকের সহজলভ্যতা রোধ করা অপরিহার্য। সেই সঙ্গে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেও দায়িত্ব নিতে হবে। অভিভাবক ও শিক্ষকদের নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন—সন্তানেরা কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের কার্যকলাপ কেমন। পৃষ্ঠপোষকদের গ্রেপ্তার, মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এবং সামাজিক সচেতনতার মাধ্যমেই কুমিল্লাকে প্রকৃত অর্থে নিরাপদ নগরে পরিণত করা সম্ভব। কুমিল্লার এই উদ্যোগ সফল হলে অন্যান্য জেলায়ও এটি মডেল হিসেবে কাজ করবে।

Facebook Comments Box