ইউএনও কার্যালয় থেকে নিয়োগ ফাইল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ বিএনপি সভাপতি বিরুদ্ধে
- আপডেট সময় : ০৮:১৭:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬ ২৪০৭৩ বার পড়া হয়েছে
ইউএনও কার্যালয় থেকে নিয়োগ ফাইল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ বিএনপি সভাপতি বিরুদ্ধে
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে ঢুকে একটি কলেজের কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষার কাগজপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে।
জেনে নিন সাহরী, ইফতার ও নামাজের সময়সুচী
- ফজর
- যোহর
- আছর
- মাগরিব
- এশা
- সূর্যোদয়
- ভোর ৪:৩৭
- দুপুর ১১:৫১
- বিকেল ৪:০৬
- সন্ধ্যা ৫:৪৯
- রাত ৭:০২
- ভোর ৫:৪৯
- আল্লাহ্ সর্ব শক্তিমান।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। ঘটনার প্রায় সাড়ে চার মিনিটের একটি ভিডিও ইতোমধ্যে বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল, শীর্ষস্থানীয় অনলাইন সংবাদমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ভাইরাল হয়েছে।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেলে হরিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, উপজেলার মেদনিসাগর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজে আয়া ও পরিচ্ছন্নতা কর্মী পদে নিয়োগের জন্য লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ওই পরীক্ষায় মোট আটজন প্রার্থী অংশগ্রহণ করেন। পরীক্ষা শেষে মৌখিক পরীক্ষার প্রস্তুতি চলছিল।
পড়ুন>> নওগাঁয় আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার
এমন সময় নিয়োগপ্রক্রিয়ায় আওয়ামী লীগের সমর্থিত প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, এমন অভিযোগ তুলে উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দিন কয়েকজন নেতাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে ইউএনও কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। পরে সেখানে উপস্থিত নিরীক্ষকদের কাছ থেকে নিয়োগ পরীক্ষার কাগজপত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
প্রশাসন ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, হরিপুর উপজেলার মেদিনীসাগর বিএম মহাবিদ্যালয়ের পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও আয়া পদে নিয়োগের জন্য সম্প্রতি বিজ্ঞপ্তি দেয় কলেজ কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার ছিল ওই দুই পদের নিয়োগ পরীক্ষা। পরীক্ষা শেষে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলার সময় উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দিন ইউএনওর কার্যালয়ে এসে নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ করার দাবি জানান।
পড়ুন>>রাণীশংকৈলে সড়ক দুর্ঘটনা ও কালবৈশাখী ঝড়ে দেয়াল ধসে স্কুলছাত্রসহ নিহত ২
এ সময় তাঁর সঙ্গে উপজেলা বিএনপি নেতা ইরফান আলী, উপজেলা যুবদলের সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন, যুবদল নেতা মো. ফারুক, মোখলেসুর রহমানসহ প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
একপর্যায়ে তারা ইউএনওর সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন এবং পরে নিয়োগ সংক্রান্ত কাগজপত্র নিয়ে কার্যালয় থেকে বেরিয়ে যান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বাগ্বিতণ্ডার এক পর্যায়ে জামাল উদ্দিন ইউএনওকে উদ্দেশ করে বলেন, “আমি আমার মহাসচিবের সঙ্গে কথা বলে তবেই গাড়িতে উঠেছি। আপনি রাতের বেলায় অফিসে কিছু কিছু ক্লায়েন্টকে নিয়ে এসে…”কথা শেষ হওয়ার আগেই ইউএনও রায়হানুল ইসলাম জবাব দেন,“রাতের বেলায় আমি অফিস করব, সেটা তো একান্ত আমার বিষয়।” এ সময় জামাল উদ্দিন অভিযোগ করেন,“আপনি নিয়োগ নিয়ে বাণিজ্য শুরু করেছেন।
আরও পড়ুন>> কুড়িগ্রামে ব্যাংকে জাল টাকা জমা দিতে গিয়ে আটক
”ভিডিওতে আরও শোনা যায়, উপস্থিত একজন বলেন, “আপনি অফিস দিনে বা রাতে করেন, তাতে আমাদের আপত্তি নেই। এর আগের ইউএনও বিকাশ চন্দ্র বর্মন ছিলেন, তাকেও আমরা এখানে ‘সেভ’ করেছি। ”জবাবে ইউএনও বলেন, “এই মব কালচার করে তখনো কিন্তু এ রকম করা হয়েছিল।”
পরে জামাল উদ্দিন বলেন, “আপনি আওয়ামী লীগের ফ্যাসিস্টদের নিয়োগ দেবেন, এটা মানা হবে না। ”ইউএনও তখন বলেন, “অধ্যক্ষ যদি অবৈধ কিছু করেন, বোর্ডকে বলেন নিয়োগ বাতিল করতে। আমাদের সমস্যা কোথায়?”
এ সময় জামাল উদ্দিন বলেন, “আমরা বারবার বলছি আওয়ামী লীগের ফ্যাসিস্টদের আপনি নিয়োগ দেবেন, আমরা কি ললিপপ চুষবো? এটা তো হবে না।”
এরপর তিনি তাঁর লোকজনকে নির্দেশ দেন, “এই প্রিন্সিপালকে নিয়ে বাইরে চলো।” জামালের সঙ্গে থাকা কয়েকজন তখন মেদিনীসাগর বিএম মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ হারুন অর রশিদকে বাইরে যেতে বলেন এবং একজন অধ্যক্ষের কাছ থেকে ফাইলপত্র কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
অধ্যক্ষ তখন বলেন, “আপনি আমার খাতাপত্র কেড়ে নিতে পারেন?”
আরও পড়ুন>>নীলফামারীতে ডিবি পুলিশের অভিযানে জাল পাসপোর্ট ও বিদেশি জাল মুদ্রাসহ গ্রেফতার ১
এরপর জামাল উদ্দিন কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের প্রতিনিধি জাবেদ আলীকে উদ্দেশ করে বলেন, “আপনি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটা দেখেন তো—কত তারিখে বিজ্ঞপ্তি হয়েছে, কোন পত্রিকায় হয়েছে?”
এ সময় ইউএনও বলেন, “এখন নিয়োগের কাজ চলছে। আপনাদের দেখাতে হবে কেন? আপনারা অবৈধভাবে নিয়োগ বোর্ডে এসেছেন।”
এরপর বিএনপি নেতা-কর্মীরা হট্টগোল শুরু করেন। একপর্যায়ে জামাল উদ্দিন কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের প্রতিনিধির কাছ থেকে নিয়োগ সংক্রান্ত কাগজপত্র নিয়ে নেন।
অন্যদিকে তাঁর সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীরাও কলেজের অধ্যক্ষের কাছ থেকে কিছু কাগজপত্র নিয়ে ইউএনও কার্যালয় থেকে বেরিয়ে যান।
অধ্যক্ষ হারুন অর রশিদও তাঁদের পিছু নেন। মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ও নিয়োগ পরীক্ষার সদস্যসচিব হারুন অর রশিদ বলেন, “উপজেলা বিএনপির সভাপতি লোকজন নিয়ে এসে নিয়োগ পরীক্ষা বন্ধ করার জন্য ইউএনওকে হুমকি–ধমকি দেন। একপর্যায়ে তাঁরা পরীক্ষার কাগজপত্র ছিনিয়ে নিয়ে যান। কাগজপত্র ফেরত পাওয়ার জন্য আমি তাঁদের কাছে হাত-পা পর্যন্ত ধরেছি।”
পড়ুন>> রাজারহাটে প্রাইভেট পড়ানোর সময় ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা
অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দিন বলেন,“আমাদের কাছে তথ্য ছিল ইউএনও নিয়োগের জন্য টাকা লেনদেন করেছেন। তাঁর কার্যালয়ের দরজা বন্ধ করে চারজনের নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছিল। এর প্রতিবাদ করতেই ছেলেরা সেখানে যায়। ইউএনও তাদের পুলিশে দেওয়ার ভয় দেখান। পরে বিষয়টি জানালে আমি সেখানে যাই এবং নিয়োগ-বাণিজ্য নিয়ে তাঁর সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা হয়।”
কাগজপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “পরে কাগজপত্রগুলো আবার ইউএনও অফিসেই ফেলে আসা হয়েছে।”
এ বিষয়ে হরিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রায়হানুল ইসলাম বলেন,“উপজেলা বিএনপির সভাপতি নিয়োগ পরীক্ষা চলাকালে তার দলের লোকজন নিয়ে এসে মব সৃষ্টি করে পরীক্ষা বন্ধ করার দাবি জানান। আমরা রাজি না হওয়ায় তারা উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করেন এবং একপর্যায়ে কাগজপত্র ছিনিয়ে নিয়ে চলে যান। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।”
এদিকে এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ























