ঢাবিতে শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম পুনর্বহাল
- আপডেট সময় : ০৬:৫৯:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে
ঢাবিতে শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম পুনর্বহাল
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রধান ফটক থেকে ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ নামফলকটি অপসারণের কাজ শুরু হয়েছে। বুধবার দুপুরের দিকে হল প্রশাসন ফটকে গিয়ে লেখাটি মুছে ফেলার কার্যক্রম শুরু করে। হল সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে সৃষ্ট বিভ্রান্তি দূর করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং চলতি সপ্তাহের মধ্যেই ফটকে পুনরায় ‘শেখ মুজিবুর রহমান হল’ নামটি লিখে দেওয়া হবে। এ সময় ফটকের নামফলকের আগের লেখাটি সরিয়ে নতুন করে নাম লেখার প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
হল প্রশাসনের সিনিয়র অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অফিসার মো. জবান আলী জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষার্থীরা মৌখিকভাবে নাম পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে আসছেন। এই পরিস্থিতিতে বিভ্রান্তি নিরসনে দ্রুত পুরোনো নাম ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই হলটির নাম বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যভাণ্ডারে এখনো ‘শেখ মুজিবুর রহমান হল’ হিসেবেই সংরক্ষিত রয়েছে।
পড়ুন>>বিশ্বসেরা ১০০০ বিশ্ববিদ্যালয়: তালিকায় বাংলাদেশের ৪ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২০ ডিসেম্বর রাতে কিছু শিক্ষার্থী হলের ফটক থেকে মূল নামটি মুছে নিজ উদ্যোগে ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ লিখেছিলেন। এর আগে ১২ ডিসেম্বর ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান বিন হাদি পল্টনে গুলিবিদ্ধ হন এবং পরে ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার মৃত্যুর পর হলের নাম পরিবর্তনের এই ঘটনাটি ক্যাম্পাসে ব্যাপক আলোচনায় আসে। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টন এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন তিনি। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাতে তিনি মারা যান।
পড়ুন>>আল-আকসায় শত শত ইসরাইলির প্রবেশ, চললো নাচ-গান
এই ঘটনার পর গত ৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় শেখ মুজিবুর রহমান হলসহ শেখ পরিবারের নামে থাকা পাঁচটি স্থাপনার নাম পরিবর্তনের সুপারিশ করা হয়েছিল। সভায় শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম পরিবর্তন করে ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ করার প্রস্তাব ওঠে। তবে পরবর্তী সময়ে ২৯ জুন সিনেট অধিবেশনে বিষয়টি উপস্থাপিত হলে সদস্যদের মধ্যে মতভেদ দেখা দেয়।
সিনেট অধিবেশনে ড. সামিনা লুৎফা এবং মো. লুৎফর রহমান নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের বিষয়ে আপত্তি জানান। এছাড়া সিনেট সদস্য ফজলুল হক মিলন হলটির নাম পরিবর্তন করে কাজী নজরুল ইসলামের নামে করার পাল্টা প্রস্তাব দেন।
আলোচনা শেষে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়ায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বিষয়টি পুনরায় সিন্ডিকেটে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তখন ডাকসুর পাঁচ সিনেট সদস্য অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেছিলেন। এর প্রতিবাদে সিনেট অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেন ডাকসুর পাঁচ সিনেট সদস্য- ভিপি সাদেক কায়েম, জিএস এস এম ফরহাদ, এজিএস মুহাম্মদ মহিউদ্দিন, পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ ও সদস্য সাবিকুন্নাহার তামান্না।
এই পুরো প্রক্রিয়ার পর হলের নাম পুনরায় ফিরিয়ে আনার বিষয়ে জানতে হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। তবে প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. জবান আলীর ভাষ্যমতে, বর্তমান পরিস্থিতি এবং দাপ্তরিক নথিপত্র অনুযায়ী হলটির মূল নামই পুনর্বহাল রাখা হচ্ছে।
আরও পড়ুন>>বেনাপোলে পণ্য খালাসে বিভ্রান্তি: তদন্তের আগেই শেড ইনচার্জ ক্লোজ
এর আগে, ঘটনার পরদিন অর্থাৎ ২১ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদের পক্ষ থেকে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীর স্বাক্ষরিত একটি স্মারকলিপি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়া হয়েছিল। প্রশাসনিক পর্যায় ও সিনেট আলোচনার নানান বিতর্ক পেরিয়ে দীর্ঘ প্রায় নয় মাস পর এখন হল প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে নাম সংশোধনের কাজ সম্পন্ন করছে।
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ




















