ঢাকা ১০:৫২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গাজার শিশুদের সহায়তায় ১ লাখ পাউন্ড তহবিল সংগ্রহ করলেন হামজা চৌধুরী ইসরাইলে শুরু হয়েছে ‘ডাবল খাম’ বা অবর্তমান ভোটের গণনা আরআরএফ-এ ৪৪০ পদে কর্মী নিয়োগ: ৬ নভেম্বর সিলেটে বাছাই পরীক্ষা লস অ্যাঞ্জেলেস ফ্যাশন উইকে নজর কাড়লেন বাংলাদেশি মডেল রাকিব হাসান টোকিওর আদলে ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন করার প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রীর সালাহউদ্দিন |: তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনতেই হবে, বিকল্প নেই ভূরুঙ্গামারীতে ২৮ অক্টোবরের হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে জামায়াতের বিক্ষোভ ​নাগেশ্বরীতে ২৮ অক্টোবর পল্টন ট্র্যাজেডি দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত নাগেশ্বরীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত বিশ্ব হাত ধোঁয়া দিবস ডোমারে উদযাপন

হলফনামায় বিদেশি সম্পদ গোপন: ছয় প্রার্থী নিয়ে টিআইবির পর্যবেক্ষণ

সৃষ্টি নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৩:৫৯:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬ ১৩১৫১ বার পড়া হয়েছে

টিআইবি লোগো

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

হলফনামায় বিদেশি নাগরিকত্ব ও সম্পদের তথ্য গোপন: ছয় প্রার্থী নিয়ে টিআইবির অনুসন্ধান

 

 

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অন্তত ছয়জন প্রার্থী বিদেশি নাগরিকত্ব এবং বিদেশে থাকা সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। এর মধ্যে দুইজন প্রার্থী যুক্তরাজ্যের নাগরিক হয়েও নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন এবং বাকি চারজন বিদেশে থাকা সম্পদের তথ্য গোপন করে প্রার্থী হয়েছেন।

 

 

 

 

তবে টিআইবি এসব প্রার্থীর নাম-পরিচয় প্রকাশ করেনি।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ‘নির্বাচনী হলফনামায় প্রার্থী পরিচিতি: ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন টিআইবির কর্মকর্তা মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজজামান।

পড়ুন>> কুড়িগ্রাম সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৪২ লাখ টাকার চোরাচালান জব্দ

 

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, হলফনামায় দেওয়া প্রার্থীদের তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। টিআইবির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অন্তত তিনজন প্রার্থী বিদেশে থাকা সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন, যদিও তাদের মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে।

 

 

 

 

পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়, এক প্রার্থী বিদেশে তিনটি ফ্ল্যাটের মালিকানা থাকার ঘোষণা দিলেও প্রকৃত সংখ্যা কমপক্ষে তিন গুণ। ওই প্রার্থীর বিদেশে সম্ভাব্য বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৩৫ কোটি টাকা। টিআইবি নাম প্রকাশ না করলেও, হলফনামায় আরব আমিরাতে তিনটি ফ্ল্যাট থাকার তথ্য দিয়েছেন সম্প্রতি বিএনপিতে ফেরা স্বতন্ত্র প্রার্থী এস কে এ একরামুজ্জামান।

 

 

তিনি দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচন করায় বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হন। সাম্প্রতিক সময়ে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তাকে দলে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। তিনি পরে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান।

আরও পড়ুন>> সুনামগঞ্জে যৌথ অভিযানে একাধিক মামলার আসামী ইয়াবাসহ আটক

 

টিআইবির অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, এক প্রার্থী বিদেশে নিজস্ব মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের তথ্য গোপন করেছেন। অনুসন্ধানে তার ১১টি প্রতিষ্ঠানের সন্ধান পাওয়া গেছে, যার মধ্যে আটটি সক্রিয় বাণিজ্যিক কার্যক্রমে যুক্ত।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২১ জন প্রার্থী হলফনামায় বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। তবে নির্ভরযোগ্য তথ্য থাকা সত্ত্বেও দুইজন প্রার্থী দ্বৈত নাগরিকত্বের তথ্য গোপন করেছেন। টিআইবির তথ্যানুযায়ী, তারা যুক্তরাজ্যের নাগরিক ছিলেন।

পড়ুন>> বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যুবরণ করলেন জমিয়ত প্রার্থী মুফতি নাসির উদ্দিন

 

এছাড়া এক প্রার্থীর নির্ভরশীলের নামে ২০১৩ সালে যুক্তরাজ্যে প্রায় ১৪ লাখ পাউন্ড, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২১০ কোটি টাকা, মূল্যের একটি বাড়ি কেনার তথ্য থাকলেও তা হলফনামায় উল্লেখ করা হয়নি।

 

 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সম্পদ ক্রয়ে শেল কোম্পানির ব্যবহার করা হয়েছিল এবং মূল মালিকানার কোম্পানির নিবন্ধন দেখানো হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে। আরও এক প্রার্থীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে, তিনি বিদেশে থাকা সম্পদের তথ্য দেননি, তবে তার স্ত্রীর নামে দুবাইয়ে একটি ফ্ল্যাট রয়েছে।

 

 

টিআইবির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, একজন প্রার্থীর করস্বর্গ হিসেবে পরিচিত একটি দেশে কোম্পানি নিবন্ধনের তথ্য থাকলেও তা হলফনামায় প্রকাশ করা হয়নি।

শতকোটিপতি ও সম্পদের চিত্র:

 

 

টিআইবির তথ্যানুযায়ী, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া ১ হাজার ৮৮১ প্রার্থীর মধ্যে ৮৯১ জন কোটিপতি। এর মধ্যে ২৭ জন শতকোটিপতি। শতকোটিপতিদের মধ্যে ১৬ জন বিএনপির, নয়জন স্বতন্ত্র—যাদের সবাই বিএনপির নেতা।

প্রার্থীদের মোট সম্পদের পরিমাণ ছয় হাজার ১৮৮ কোটি টাকা। তবে করযোগ্য আয় দেখানো হয়েছে মাত্র ৬৯৩ কোটি টাকা। তারা কর দিয়েছেন ৫৪ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। ২৫৯ প্রার্থীর তুলনায় তাদের নির্ভরশীলদের সম্পদ বেশি এবং ২৮২ প্রার্থীর ক্ষেত্রে স্বামী বা স্ত্রীর সম্পদ বেশি দেখা গেছে।

বৈধ সীমার চেয়ে বেশি জমির মালিক:

 

 

 

আইন অনুযায়ী একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০০ বিঘা কৃষিজমির মালিক হতে পারেন। তবে ১০ প্রার্থী ১৭৩ থেকে প্রায় পৌনে চার হাজার বিঘা জমির মালিক। এর মধ্যে ছয়জন বিএনপির, দুইজন ইসলামী আন্দোলনের, একজন জামায়াতের এবং একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী।

 

 

 

চট্টগ্রাম-১৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. আলী আব্বাস তিন হাজার ৮৭০ বিঘা জমির মালিক। লক্ষ্মীপুর-২ আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হেলাল উদ্দিন ৬৯০ বিঘা এবং সাতক্ষীরা-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী আবদুর রউফ প্রায় ৬৯৩ বিঘা জমির মালিক।

সাড়ে ১৮ হাজার কোটি টাকার ঋণ:

 

 

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রার্থীদের মোট ঋণের পরিমাণ ১৮ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্যাংক ঋণ ১৭ হাজার ৪৭১ কোটি টাকা। বিএনপির ৫৯ দশমিক ৪১ শতাংশ প্রার্থী ঋণগ্রস্ত। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এ হার ৩২ দশমিক ৭৯ শতাংশ এবং জাতীয় পার্টির ২৬ দশমিক ৯৭ শতাংশ।
ব্যবসায়ী ও শিক্ষিত প্রার্থী বেশি, নারী কম টিআইবির তথ্যানুযায়ী, এবারের নির্বাচনে প্রার্থীদের গড় বয়স কমেছে। সবচেয়ে বেশি প্রার্থী রয়েছেন ৩৫ থেকে ৪৪ বছর বয়সী। মোট প্রার্থীর ৭৪ দশমিক ৪২ শতাংশ উচ্চশিক্ষিত। প্রার্থীদের মধ্যে ৪৮ শতাংশের বেশি ব্যবসায়ী।

 

 

 

 

 

তবে নারী প্রার্থীর সংখ্যা এখনও কম। মোট প্রার্থীর মাত্র ৪ দশমিক ০২ শতাংশ নারী, যদিও এটি আগের নির্বাচনের তুলনায় সামান্য বেশি। তথ‍্য সুত্র

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

হলফনামায় বিদেশি সম্পদ গোপন: ছয় প্রার্থী নিয়ে টিআইবির পর্যবেক্ষণ

আপডেট সময় : ০৩:৫৯:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬

 

 

হলফনামায় বিদেশি নাগরিকত্ব ও সম্পদের তথ্য গোপন: ছয় প্রার্থী নিয়ে টিআইবির অনুসন্ধান

 

 

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অন্তত ছয়জন প্রার্থী বিদেশি নাগরিকত্ব এবং বিদেশে থাকা সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। এর মধ্যে দুইজন প্রার্থী যুক্তরাজ্যের নাগরিক হয়েও নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন এবং বাকি চারজন বিদেশে থাকা সম্পদের তথ্য গোপন করে প্রার্থী হয়েছেন।

 

 

 

 

তবে টিআইবি এসব প্রার্থীর নাম-পরিচয় প্রকাশ করেনি।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ‘নির্বাচনী হলফনামায় প্রার্থী পরিচিতি: ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন টিআইবির কর্মকর্তা মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজজামান।

পড়ুন>> কুড়িগ্রাম সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৪২ লাখ টাকার চোরাচালান জব্দ

 

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, হলফনামায় দেওয়া প্রার্থীদের তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। টিআইবির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অন্তত তিনজন প্রার্থী বিদেশে থাকা সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন, যদিও তাদের মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে।

 

 

 

 

পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়, এক প্রার্থী বিদেশে তিনটি ফ্ল্যাটের মালিকানা থাকার ঘোষণা দিলেও প্রকৃত সংখ্যা কমপক্ষে তিন গুণ। ওই প্রার্থীর বিদেশে সম্ভাব্য বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৩৫ কোটি টাকা। টিআইবি নাম প্রকাশ না করলেও, হলফনামায় আরব আমিরাতে তিনটি ফ্ল্যাট থাকার তথ্য দিয়েছেন সম্প্রতি বিএনপিতে ফেরা স্বতন্ত্র প্রার্থী এস কে এ একরামুজ্জামান।

 

 

তিনি দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচন করায় বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হন। সাম্প্রতিক সময়ে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তাকে দলে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। তিনি পরে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান।

আরও পড়ুন>> সুনামগঞ্জে যৌথ অভিযানে একাধিক মামলার আসামী ইয়াবাসহ আটক

 

টিআইবির অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, এক প্রার্থী বিদেশে নিজস্ব মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের তথ্য গোপন করেছেন। অনুসন্ধানে তার ১১টি প্রতিষ্ঠানের সন্ধান পাওয়া গেছে, যার মধ্যে আটটি সক্রিয় বাণিজ্যিক কার্যক্রমে যুক্ত।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২১ জন প্রার্থী হলফনামায় বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। তবে নির্ভরযোগ্য তথ্য থাকা সত্ত্বেও দুইজন প্রার্থী দ্বৈত নাগরিকত্বের তথ্য গোপন করেছেন। টিআইবির তথ্যানুযায়ী, তারা যুক্তরাজ্যের নাগরিক ছিলেন।

পড়ুন>> বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যুবরণ করলেন জমিয়ত প্রার্থী মুফতি নাসির উদ্দিন

 

এছাড়া এক প্রার্থীর নির্ভরশীলের নামে ২০১৩ সালে যুক্তরাজ্যে প্রায় ১৪ লাখ পাউন্ড, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২১০ কোটি টাকা, মূল্যের একটি বাড়ি কেনার তথ্য থাকলেও তা হলফনামায় উল্লেখ করা হয়নি।

 

 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সম্পদ ক্রয়ে শেল কোম্পানির ব্যবহার করা হয়েছিল এবং মূল মালিকানার কোম্পানির নিবন্ধন দেখানো হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে। আরও এক প্রার্থীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে, তিনি বিদেশে থাকা সম্পদের তথ্য দেননি, তবে তার স্ত্রীর নামে দুবাইয়ে একটি ফ্ল্যাট রয়েছে।

 

 

টিআইবির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, একজন প্রার্থীর করস্বর্গ হিসেবে পরিচিত একটি দেশে কোম্পানি নিবন্ধনের তথ্য থাকলেও তা হলফনামায় প্রকাশ করা হয়নি।

শতকোটিপতি ও সম্পদের চিত্র:

 

 

টিআইবির তথ্যানুযায়ী, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া ১ হাজার ৮৮১ প্রার্থীর মধ্যে ৮৯১ জন কোটিপতি। এর মধ্যে ২৭ জন শতকোটিপতি। শতকোটিপতিদের মধ্যে ১৬ জন বিএনপির, নয়জন স্বতন্ত্র—যাদের সবাই বিএনপির নেতা।

প্রার্থীদের মোট সম্পদের পরিমাণ ছয় হাজার ১৮৮ কোটি টাকা। তবে করযোগ্য আয় দেখানো হয়েছে মাত্র ৬৯৩ কোটি টাকা। তারা কর দিয়েছেন ৫৪ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। ২৫৯ প্রার্থীর তুলনায় তাদের নির্ভরশীলদের সম্পদ বেশি এবং ২৮২ প্রার্থীর ক্ষেত্রে স্বামী বা স্ত্রীর সম্পদ বেশি দেখা গেছে।

বৈধ সীমার চেয়ে বেশি জমির মালিক:

 

 

 

আইন অনুযায়ী একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০০ বিঘা কৃষিজমির মালিক হতে পারেন। তবে ১০ প্রার্থী ১৭৩ থেকে প্রায় পৌনে চার হাজার বিঘা জমির মালিক। এর মধ্যে ছয়জন বিএনপির, দুইজন ইসলামী আন্দোলনের, একজন জামায়াতের এবং একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী।

 

 

 

চট্টগ্রাম-১৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. আলী আব্বাস তিন হাজার ৮৭০ বিঘা জমির মালিক। লক্ষ্মীপুর-২ আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হেলাল উদ্দিন ৬৯০ বিঘা এবং সাতক্ষীরা-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী আবদুর রউফ প্রায় ৬৯৩ বিঘা জমির মালিক।

সাড়ে ১৮ হাজার কোটি টাকার ঋণ:

 

 

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রার্থীদের মোট ঋণের পরিমাণ ১৮ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্যাংক ঋণ ১৭ হাজার ৪৭১ কোটি টাকা। বিএনপির ৫৯ দশমিক ৪১ শতাংশ প্রার্থী ঋণগ্রস্ত। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এ হার ৩২ দশমিক ৭৯ শতাংশ এবং জাতীয় পার্টির ২৬ দশমিক ৯৭ শতাংশ।
ব্যবসায়ী ও শিক্ষিত প্রার্থী বেশি, নারী কম টিআইবির তথ্যানুযায়ী, এবারের নির্বাচনে প্রার্থীদের গড় বয়স কমেছে। সবচেয়ে বেশি প্রার্থী রয়েছেন ৩৫ থেকে ৪৪ বছর বয়সী। মোট প্রার্থীর ৭৪ দশমিক ৪২ শতাংশ উচ্চশিক্ষিত। প্রার্থীদের মধ্যে ৪৮ শতাংশের বেশি ব্যবসায়ী।

 

 

 

 

 

তবে নারী প্রার্থীর সংখ্যা এখনও কম। মোট প্রার্থীর মাত্র ৪ দশমিক ০২ শতাংশ নারী, যদিও এটি আগের নির্বাচনের তুলনায় সামান্য বেশি। তথ‍্য সুত্র

 

 

Facebook Comments Box