সালাহউদ্দিন |: তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনতেই হবে, বিকল্প নেই
- আপডেট সময় : ০৭:০৩:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে
নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের বিষয়ে নিজেদের অনড় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন সংবিধান সংশোধন বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এই ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার কোনো বিকল্প নেই এবং এটি অবশ্যই কার্যকর করা হবে। তবে এই সরকারের গঠন প্রক্রিয়া, ক্ষমতা, কার্যপরিধি এবং দায়িত্ব পালনের সময়সীমা কেমন হবে, তা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) জাতীয় সংসদের কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত সংবিধান সংশোধন বিশেষ কমিটির এক বৈঠকে এসব বিষয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। বৈঠকে নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন, সংবিধানের বিভিন্ন ধারা সংশোধন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রস্তাবিত ‘জুলাই সনদ’ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া কমিটির সদস্যরা অতীতে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের জবানবন্দিতে গুম ও নির্যাতনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা শোনেন।
বৈঠক শেষে জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে এক ব্রিফিংয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, ভবিষ্যতে সরকার গঠন নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক এড়াতে সম্ভাব্য সব ধরনের পদ্ধতি যাচাই করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে সার্চ বডি কিংবা নির্বাচন কমিশনকে সম্পৃক্ত করার মতো নানা প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা চলছে। সব প্রস্তাব পর্যালোচনার পর সংসদে সংশোধনী বিল উত্থাপন করা হলে, সেখানে আলোচনার মাধ্যমে আরও নতুন প্রস্তাব যুক্ত করার সুযোগ থাকবে বলে তিনি জানান।
কমিটির সভাপতি আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর জুলাই সনদের ধারাগুলো নিয়ে সমঝোতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রচেষ্টা চলছে। এর পাশাপাশি সুশীল সমাজ, আইন বিশেষজ্ঞ, সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক এবং সম্পাদকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবগুলোও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। জাতীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য ও কার্যকর একটি কাঠামো প্রণয়ন করাই কমিটির মূল লক্ষ্য।
বৈঠকে র্যাঙ্কড চয়েস ভোটপদ্ধতি নিয়ে আলোচনা হলেও তাতে কমিটির পক্ষ থেকে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমত প্রদান করা হয়েছে। সদস্যদের অভিমত হলো, জাতীয় জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে জাতীয় সংসদে বিস্তারিত আলাপ-আলোচনা আবশ্যক। এখন পর্যন্ত সব প্রস্তাবের মূল্যায়ন সম্পন্ন না হওয়ায় চূড়ান্ত কোনো রূপরেখা এখনই নির্ধারণ করা যাচ্ছে না।
তদন্ত ও পর্যালোচনার এই ধারাবাহিকতায় গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের অভিজ্ঞতাও অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। বৈঠকে সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম, হুমাম কাদের চৌধুরী, আনিছুর রহমান ও মোছা. তাহসিনা রুশদী উপস্থিত থেকে অতীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে হওয়া নির্যাতন ও আইনি সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হওয়ার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সংবিধানের মধ্যে শক্তিশালী ও কার্যকর সুরক্ষা ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান তারা।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ পুনরায় নিশ্চিত করেন যে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও এর বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে কাজ চলছে। সংসদ ভেঙে দেওয়ার কত দিনের মধ্যে এই সরকার গঠিত হবে এবং এর ক্ষমতার পরিধি কতটুকু হবে—এসব বিষয় এখনো পর্যালোচনার অধীন।
উল্লেখ্য যে, এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে জাতীয় সংসদ সচিবালয় ও আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রস্তাবিত নতুন সব প্রস্তাব ও মতামতগুলো ধারাবাহিকভাবে পরবর্তী বৈঠকে মূল্যায়ন করা হবে বলেও জানান কমিটির সভাপতি।
সূত্র: দৈনিক এদিন

























