হরমুজ খুললেও কেন স্বাভাবিক হবে না এলএনজি সরবরাহ?
- আপডেট সময় : ০৬:৩৭:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭২ বার পড়া হয়েছে
হরমুজ খুললেও কেন স্বাভাবিক হবে না এলএনজি সরবরাহ?
হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হলেও কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের এলএনজি রফতানি সহসা স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা নেই। জ্বালানি খাতের শীর্ষ নির্বাহীরা সোমবার জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো এবং আকাশছোঁয়া বিমা খরচের কারণে আগামী কয়েক মাস বা এমনকি বছরজুড়েও জ্বালানি সরবরাহ সীমিত থাকতে পারে।
ব্যাংককে অনুষ্ঠিত গ্যাসটেক কনফারেন্সে শেল-এর সমন্বিত গ্যাসের প্রেসিডেন্ট সেডেরিক ক্রেমার্স সতর্ক করে বলেছেন, প্রণালি খুলে দেওয়া এবং সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়া সম্পূর্ণ আলাদা দুটি বিষয়। যুদ্ধের পূর্বের স্বাভাবিক গ্যাসের প্রবাহ তাৎক্ষণিকভাবে ফিরে আসার কোনো লক্ষণ নেই। ইরানি হামলায় কাতারের ১৪টি রফতানি ট্রেনের মধ্যে দুটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশটির প্রায় ১৭ শতাংশ এলএনজি উৎপাদন ক্ষমতা এখন অকেজো। কাতার এনার্জির তথ্যমতে, এই মেরামত সম্পন্ন করতে তিন থেকে পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে, যা হরমুজ খুলে দেওয়ার পরও দীর্ঘমেয়াদী ঘাটতি বজায় রাখবে।
পড়ুন>>হুথিদের হামলায় ১৩ জন আহত
আন্তর্জাতিক জ্বালানি ফোরামের (আইইএফ) তথ্যানুযায়ী, ২০২৪ সালে বৈশ্বিক এলএনজি বাণিজ্যের প্রায় এক পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়েছে। বিকল্প কোনো পাইপলাইন বা সমুদ্রপথ না থাকায় সরবরাহ ব্যবস্থা চরম ঝুঁকির মুখে রয়েছে। এ ছাড়া যুদ্ধের কারণে ট্যাংকারগুলোর বিমা ব্যয় অত্যধিক বেড়ে গেছে, ফলে পারস্য উপসাগরে স্বাভাবিক সামুদ্রিক প্রবাহ পুনরুদ্ধার করা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পড়ুন>>ইরান যুদ্ধের ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে কাতার এয়ারওয়েজ
ক্রেমার্সের দেওয়া তথ্যমতে, চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত কাতার ও আমিরাত থেকে প্রায় ৩৬ মিলিয়ন টন এলএনজি সরবরাহ বাজার থেকে অনুপস্থিত রয়েছে। এর মধ্যে ২০ মিলিয়ন টন সরবরাহ যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার নতুন উৎপাদনের মাধ্যমে মেটানো গেলেও বাকি অংশ চাহিদা হ্রাস ও মজুদ থেকে পূরণ করতে হচ্ছে। ঐইএফ এবং জাপানের জোগমেকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় এক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো ২০২৫ সালে উদ্বৃত্ত তরলীকরণ ক্ষমতা হরমুজ দিয়ে চলাচলকারী এলএনজির ঘাটতি পূরণে অপর্যাপ্ত প্রমাণিত হয়েছে, যা প্রায় ১০ মিলিয়ন টন গ্যাসের ব্যবধান তৈরি করেছে।
এই জ্বালানি সংকটের ফলে এশিয়ান দেশগুলো বড় ধরণের চাপের মুখে রয়েছে। ২০২৪ সালে ভারত তার মোট এলএনজি চাহিদার প্রায় ৭৫ শতাংশ, পাকিস্তান ৮৭ শতাংশ এবং বাংলাদেশ ৭১ শতাংশই হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে সংগ্রহ করেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এশীয় ক্রেতারা বিকল্প কার্গোর জন্য তীব্র প্রতিযোগিতায় লিপ্ত রয়েছে, অন্যদিকে ইউরোপীয় দেশগুলো শীতকাল আসার আগে গ্যাসের মজুদ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছে।
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ























