ঢাকা ০২:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মার্কিনরা বিরক্ত হলে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী হব: ট্রাম্প স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: প্রযুক্তিনির্ভর সীমান্ত ব্যবস্থাপনা অপরিহার্য যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদে এগিয়ে ডেমোক্র্যাটরা তৈরি পোশাক খাতের অস্থিরতার মাঝে মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা আজ মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রভাব ফেলছে অর্থনৈতিক ও অভিবাসন ইস্যু মার্শাল আর্ট কনফেডারেশনের নেতৃত্বে নতুন অ্যাডহক কমিটি গাজীপুরে শ্রমিক বিক্ষোভ: হামলায় আহত শ্রমিকের মৃত্যু, অর্ধশত কারখানায় ছুটি বার্সেলোনার জয়যাত্রা: রাফিনিয়ার জোড়া গোলে ধসে পড়ল অ্যাস্টন ভিলা সংশয় আর কৌতূহল চাকরিপ্রার্থীদের: ৫২তম বিসিএসও কি বিশেষ হতে যাচ্ছে আপাতত ইরানে নতুন কোনো হামলার পরিকল্পনা নেই: ডোনাল্ড ট্রাম্প

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: প্রযুক্তিনির্ভর সীমান্ত ব্যবস্থাপনা অপরিহার্য

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:০৮:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশের জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে আধুনিক, সমন্বিত ও প্রযুক্তিনির্ভর সীমান্ত ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। বুধবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) আয়োজিত ‘বাংলাদেশে ইমিগ্রেশন ও বর্ডার গভর্ন্যান্স সংক্রান্ত আইওএম কৌশলগত রূপরেখা (২০২৭-২০৩১)’ বিষয়ক এক ব্রিফিংয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এ মন্তব্য করেন। তবে ভ্রমণের ধরন ও কার্যক্রমের প্রয়োজনীয়তা পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর ব্যবস্থা, দক্ষ জনবল এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করা প্রয়োজন হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বর্তমানে বাংলাদেশ বহির্বিশ্বের সঙ্গে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি সংযুক্ত। বৈধ ভ্রমণ ও বাণিজ্যকে গতিশীল করার পাশাপাশি সীমান্ত অতিক্রমকারী বিভিন্ন ঝুঁকি মোকাবিলা করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। এই লক্ষ্য অর্জনে সরকার আন্তর্জাতিক মানের একটি ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।

সরকারের জাতীয় সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কৌশল ২০২৬-২০৩১ এবং পাঁচ বছর মেয়াদি উন্নয়ন রূপরেখার আওতায় বেশ কিছু আধুনিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এগুলোর মধ্যে ডিজিটাল রূপান্তর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দায়িত্বশীল ব্যবহার, কাগজবিহীন প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং সরকারি সেবাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধিকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) ভূমিকার কথা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিমানবন্দর, স্থলবন্দর ও ইমিগ্রেশন চেকপোস্টগুলোর কার্যক্ষমতা বাড়াতে আধুনিক প্রযুক্তি ও নীতিগত সিদ্ধান্তের কোনো বিকল্প নেই। তবে প্রযুক্তির ব্যবহারের পাশাপাশি মানবাধিকার ও সুরক্ষার বিষয়টিও সমান গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় রাখা হবে।

সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কোনো একক সংস্থার দায়িত্ব নয় বলে উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ আন্তমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, মানবপাচার, বহুজাতিক অপরাধ ও অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয়, দপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সম্মিলিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য।

আইওএমের প্রস্তাবিত ২০২৭-২০৩১ মেয়াদের কৌশলগত রূপরেখাকে স্বাগত জানিয়ে মন্ত্রী উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর প্রতি প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সহায়তা আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে আইওএম বাংলাদেশ মিশনের প্রধান ড. লরা টম বন্ডে বলেন, বাংলাদেশ অভিবাসন ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। তিনি সরকারের অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে কারিগরি দক্ষতা ও অংশীদারত্বের মাধ্যমে সহায়তা দিতে আইওএমের আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

আইওএমের প্রস্তাবিত রূপরেখায় চারটি মূল সহযোগিতার ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলো হলো—সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল তথ্য আদান-প্রদান ব্যবস্থা, প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নির্বাচিত সীমান্ত পয়েন্টে অবকাঠামো ও সেবার মান উন্নয়ন। এই রূপরেখা তৈরিতে সরকারের জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০৩১ মেয়াদের কৌশলগত সংস্কার পরিকল্পনাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, যুগ্মসচিব রেবেকা খান, পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. কামরুল আহসান ও উপপুলিশ মহাপরিদর্শক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন। এছাড়া কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং ও ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রোসহ অংশীদার সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় মানবপাচার রোধ ও পরিচয় জালিয়াতি মোকাবিলার বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও বহিরাগমন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান, পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. কামরুল আহসান এবং উপপু।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: প্রযুক্তিনির্ভর সীমান্ত ব্যবস্থাপনা অপরিহার্য

আপডেট সময় : ১২:০৮:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

দেশের জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে আধুনিক, সমন্বিত ও প্রযুক্তিনির্ভর সীমান্ত ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। বুধবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) আয়োজিত ‘বাংলাদেশে ইমিগ্রেশন ও বর্ডার গভর্ন্যান্স সংক্রান্ত আইওএম কৌশলগত রূপরেখা (২০২৭-২০৩১)’ বিষয়ক এক ব্রিফিংয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এ মন্তব্য করেন। তবে ভ্রমণের ধরন ও কার্যক্রমের প্রয়োজনীয়তা পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর ব্যবস্থা, দক্ষ জনবল এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করা প্রয়োজন হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বর্তমানে বাংলাদেশ বহির্বিশ্বের সঙ্গে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি সংযুক্ত। বৈধ ভ্রমণ ও বাণিজ্যকে গতিশীল করার পাশাপাশি সীমান্ত অতিক্রমকারী বিভিন্ন ঝুঁকি মোকাবিলা করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। এই লক্ষ্য অর্জনে সরকার আন্তর্জাতিক মানের একটি ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।

সরকারের জাতীয় সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কৌশল ২০২৬-২০৩১ এবং পাঁচ বছর মেয়াদি উন্নয়ন রূপরেখার আওতায় বেশ কিছু আধুনিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এগুলোর মধ্যে ডিজিটাল রূপান্তর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দায়িত্বশীল ব্যবহার, কাগজবিহীন প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং সরকারি সেবাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধিকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) ভূমিকার কথা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিমানবন্দর, স্থলবন্দর ও ইমিগ্রেশন চেকপোস্টগুলোর কার্যক্ষমতা বাড়াতে আধুনিক প্রযুক্তি ও নীতিগত সিদ্ধান্তের কোনো বিকল্প নেই। তবে প্রযুক্তির ব্যবহারের পাশাপাশি মানবাধিকার ও সুরক্ষার বিষয়টিও সমান গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় রাখা হবে।

সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কোনো একক সংস্থার দায়িত্ব নয় বলে উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ আন্তমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, মানবপাচার, বহুজাতিক অপরাধ ও অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয়, দপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সম্মিলিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য।

আইওএমের প্রস্তাবিত ২০২৭-২০৩১ মেয়াদের কৌশলগত রূপরেখাকে স্বাগত জানিয়ে মন্ত্রী উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর প্রতি প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সহায়তা আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে আইওএম বাংলাদেশ মিশনের প্রধান ড. লরা টম বন্ডে বলেন, বাংলাদেশ অভিবাসন ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। তিনি সরকারের অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে কারিগরি দক্ষতা ও অংশীদারত্বের মাধ্যমে সহায়তা দিতে আইওএমের আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

আইওএমের প্রস্তাবিত রূপরেখায় চারটি মূল সহযোগিতার ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলো হলো—সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল তথ্য আদান-প্রদান ব্যবস্থা, প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নির্বাচিত সীমান্ত পয়েন্টে অবকাঠামো ও সেবার মান উন্নয়ন। এই রূপরেখা তৈরিতে সরকারের জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০৩১ মেয়াদের কৌশলগত সংস্কার পরিকল্পনাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, যুগ্মসচিব রেবেকা খান, পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. কামরুল আহসান ও উপপুলিশ মহাপরিদর্শক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন। এছাড়া কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং ও ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রোসহ অংশীদার সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় মানবপাচার রোধ ও পরিচয় জালিয়াতি মোকাবিলার বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও বহিরাগমন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান, পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. কামরুল আহসান এবং উপপু।

Facebook Comments Box