
সরকারি চাকরি করেও আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক পদে থেকে মহা দাপটে চলছে সকল জায়গায় ক্ষমতার অপব্যবহার।
দলীয় ক্ষমতার অপব্যবহার, সরকারি কাজে বাঁধাদান, শিক্ষা কর্মকর্তাকে তুলে নেয়ার হুমকি, গোপনে সরকারি বই বিক্রিসহ নানা অপকর্মের জন্ম দিয়ে আলোচনার শীর্ষে জননিন্দিত কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা!
রৌমারী উপজেলার সরকারি সিজি জামান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবু হোরায়রা ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত। তিনি শিক্ষকতার পাশাপাশি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে আছেন। নিয়মিত অংশ নেন দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে!
রৌমারী উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ২০২২ সালের ২৯শে নভেম্বর রৌমারী উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলনে হট্টগোল।
কেন্দ্রীয় নেতাদের অবরুদ্ধ, হুমকিসহ নানা নাটকীয়তার মধ্যদিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেনের সুপারিশে রৌমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটিতে আবু হোরায়রা সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা-কর্মী বলেন, প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেনের ছত্রছায়ায় আবু হোরায়রা দলীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে লাঞ্চিত এবং বিনামূল্যে দেয়া শিক্ষার্থীদে জন্য সরকারি বই বিক্রি এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও নীতিমালা উপেক্ষা করে স্থানীয় নেতা-কর্মীদের কথায় কথায় বহিস্কার করে থাকেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সরকারি সিজি জামান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ২০১২ সালে বিনামূল্যে বিতরণের দেয়া সরকারি বই বেআইনিভাবে বিক্রির অভিযোগে উপজেলা মাধ্যমিক কার্যালয়ের অফিস সহকারী বাদী হয়ে কুড়িগ্রাম স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-৩ এ ১৯শে মে ২০১২ইং তারিখে একটি মামলা করা করেন। যার নং-০৬।
এছাড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক রোকন উদ্দিনকে চারিত্রিক স্খালন জনিত অভিযোগ তুলে কেন্দ্র কিংবা জেলা নেতাদের মতামত না নিয়েও দল থেকে বহিস্কার করেন। যা গঠনতন্ত্র পরিপন্থী।
তৎকালীন উপজেলা একাডেমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (বর্তমানে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা) মো. মুকতার হোসেনকে সরকারি কাজে বাঁধা দেন এবং আবু হোরায়রার মনোনীত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কোন রকম প্রতিবেদন দাখিল না করার হুমকি প্রদান করেন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।
পরবর্তীতে প্রাণনাশের আশঙ্কায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ওই শিক্ষা কর্মকর্তা গত ২১.০১.২০২৩ইং তারিখে রৌমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বরাবর একখানা সাধারণ ডায়েরী করেন।
তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, বিদ্যালয় চলাকালেও আওয়ামী লীগের কর্মসূচিতে তার (আবু হোরায়রা) উপস্থিতি নজরে পড়ে। এমন কোন কর্মসূচি নেই যেখানে আবু হোরায়রা উপস্থিত থাকেন না।
জেলা শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের ২১শে মে রৌমারী সিজি জামান উচ্চ বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ হয় এবং প্রধান শিক্ষক হিসেবে আবু হোরায়রার চাকুরী ১৮ ডিসেম্বর ২০২২ সালে জাতীয়করণের মধ্য দিয়ে ২০২৩ সালের জুন থেকে সরকারি চাকুরীবি হিসেবে সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন তিনি।
একই সাথে সরকারি চাকুরি এবং দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন নীতিমালা পরিপন্থী কিনা-এমন প্রশ্নে রৌমারী সরকারি সিজি জামান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও রৌমারী উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আবু হোরায়রা জানান, আওয়ামীলীগের গঠনতন্ত্রে কোথাও বলা নাই যে, সরকারি চাকুরি করলে দলীয় পদে থাকা যাবে না।
এটা নিয়ে সাংবাদিকদের এতো মাথাব্যথা কেন? এটা অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় না। কেন এ বিষয়ে নিউজ করতে হবে আপনাদের? এমন নানা প্রশ্ন উল্টা তিনি এ প্রতিবেদককে ছুঁড়ে দেন।
জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান সাজু বলেন, জেলা আওয়ামীলীগের বর্ধিত সভায় কন্ডিশন দেয়া হয়েছে চাকরির জাতীয়করণ হলে দলীয় পথ ছাড়তে হবে।
এ ব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমান উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু জনান, রৌমারী উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আবু হোরায়রা সংশ্লিষ্ট ডিজি অফিস এবং জেলা নেতাদের কাছেও পদত্যাগ পত্রের কপি জমা দিয়েছেন। এখন দলীয় দায়িত্ব পালনে বাঁধা নাই।
এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শামছুল আলম জানান, রৌমারী সরকারি সিজি জামান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আবু হোরায়রা অদ্য ২৫শে জুলাই’২৩ইং তারিখ পর্যন্ত পদত্যাগ পত্রের কপি জেলা শিক্ষা অফিস, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস, রৌমারী ইউএনও অফিস কিংবা ট্রেজারীতে জমা দেন নাই।
একই সাথে সরকারি চাকুরি ও দলীয় দায়িত্ব পালনের বিষয়টি প্রমাণ হলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মন্তব্য করুন