ঢাকা ০৮:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মহা-হিসাব নিরীক্ষক কার্যালয়ে ৩৪৭ পদে চাকরির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি নতুন ট্রাফিক ও সম্পত্তি আইন পাস করল কাতারের শুরা কাউন্সিল শিল্পাঞ্চল ও কেপিআই নিরাপত্তায় আনসার সদস্যদের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি: মহাপরিচালক সুন্দরবনে দুই বাহিনীর গোলাগুলির ঘটনায় পাঁচ জেলে অপহৃত এআই যেন বেকারত্ব না বাড়ায়, সতর্ক থাকার আহ্বান রাষ্ট্রপতির মোংলা বন্দর হবে দেশের নতুন অর্থনৈতিক হাব: প্রধানমন্ত্রী মুচলেকা দিয়ে আদালত থেকে জামিন পেলেন চিত্রনায়িকা পরীমনি মানিকগঞ্জে ট্রিপল মার্ডার: চার ভাইসহ পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড ও আটজনের যাবজ্জীবন খুলনায় চুইঝালের শতকোটি টাকার বাণিজ্যিক সম্ভাবনা রেল দরপত্র জালিয়াতির তদন্ত নিয়ে গড়িমসি, জানেন না সময়সীমা জিএম

মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে আসা সাংবাদিক আবুল হাসনাত তুহিন: ৪ আগস্টের সেই রক্তাক্ত স্মৃতি, আজও স্বীকৃতির অপেক্ষায়

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১০:৪২:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬ ৪৩ বার পড়া হয়েছে

৪ আগস্ট আন্দোলনে লাইভ সম্প্রচার করার সময় দুর্বৃত্তদের অতর্কিত হামলায় অসুস্থ সাংবাদিক আবুল হাসনাত তুহিন।

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

 

মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে আসা সাংবাদিক আবুল হাসনাত তুহিন: ৪ আগস্টের সেই রক্তাক্ত স্মৃতি, আজও স্বীকৃতির অপেক্ষায়

 

৪ আগস্ট। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি আলোচিত ও বেদনাবিধুর দিন। সেই দিনের সহিংসতার স্মৃতি আজও তাড়া করে বেড়ায় ফেনীর সাংবাদিক আবুল হাসনাত তুহিনকে। তিনি দাবি করেন, ছাত্রদের ওপর হামলার নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে নিজেই ভয়াবহ হামলার শিকার হন। প্রাণে বেঁচে ফিরলেও আজও তিনি মনে করেন, প্রকৃত ঘটনার সাক্ষী ও ভুক্তভোগী হিসেবে ন্যায্য স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

 

আবুল হাসনাত তুহিন জানান, ৪ আগস্ট ফেনীর এসএসকে সড়ক পুলিশ ফাঁড়ির সামনে ছাত্রদের ওপর চলমান হামলার ঘটনা সরাসরি (লাইভ) সম্প্রচার করছিলেন তিনি। একজন পেশাদার সংবাদকর্মী হিসেবে কোনো পক্ষ না নিয়ে ঘটনার বাস্তব চিত্র দেশবাসীর সামনে তুলে ধরাই ছিল তার একমাত্র উদ্দেশ্য।

পড়ুন>>এইচএসসি উত্তরপত্রে শিক্ষার্থীদের দিয়ে কাজ করানোর ভিডিও ভাইরাল

তার দাবি, লাইভ সম্প্রচারের একপর্যায়ে একদল দুর্বৃত্ত তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা তার মাথায় পরপর আঘাত করে তাকে রাস্তায় ফেলে দেয়। এ সময় তার ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোনও ছিনিয়ে নেওয়া হয়। গুরুতর আহত হয়ে তিনি ঘটনাস্থলেই অজ্ঞান হয়ে পড়েন।

পরে উপস্থিত পুলিশ সদস্য ও সহকর্মীদের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে ফেনী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে তিনি প্রাণে বেঁচে ফিরলেও সেই দিনের শারীরিক ও মানসিক ক্ষত এখনো বহন করছেন।

আবুল হাসনাত তুহিনের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই দিনের হামলার ঘটনা দেশের অন্তত ছয়টি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়েছিল। এছাড়া বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজেও তার ওপর হামলার দৃশ্য সংরক্ষিত রয়েছে, যা ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ প্রামাণ্য দলিল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

পড়ুন>>রাতের আঁধারে রহস্যময় বন্যপ্রাণীর তাণ্ডবে রাণীশংকৈলে আহত অন্তত ১০

তবে তার আক্ষেপ, সময়ের ব্যবধানে ইতিহাসের বাস্তবতা যেন ধীরে ধীরে আড়াল হতে বসেছে। তার অভিযোগ, যেসব ব্যক্তি ওই দিনের হামলার শিকারই হননি, তাদের কেউ কেউ নিজেদের “জুলাই যোদ্ধা” হিসেবে পরিচিত করার চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে, জীবনবাজি রেখে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে আসা প্রকৃত ভুক্তভোগীরা এখনো যথাযথ মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি পাননি।

আরও পড়ুন>> সৈয়দপুরে উপজেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ

তিনি বলেন, “আমি কোনো আর্থিক সুবিধা বা অর্থনৈতিক লাভের জন্য স্বীকৃতি চাই না। আমি চাই, একজন নিরপেক্ষ সাংবাদিক হিসেবে সত্য প্রকাশ করতে গিয়ে যে হামলার শিকার হয়েছিলাম, সেই বাস্তবতার স্বীকৃতি। ইতিহাস যেন সত্যকে ধারণ করে, মিথ্যাকে নয়।”

আবুল হাসনাত তুহিনের মতে, ৪ আগস্টের ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু মূল্যায়নের জন্য প্রকাশিত সংবাদ, ভিডিও ফুটেজ, হাসপাতালের চিকিৎসা নথি, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য এবং অন্যান্য প্রমাণ নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

তাহলেই প্রকৃত আহত, নির্যাতিত ও দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তিদের যথাযথ স্বীকৃতি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে ইতিহাস বিকৃত হওয়ার আশঙ্কা কমবে।

 

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে আসা সাংবাদিক আবুল হাসনাত তুহিন: ৪ আগস্টের সেই রক্তাক্ত স্মৃতি, আজও স্বীকৃতির অপেক্ষায়

আপডেট সময় : ১০:৪২:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

 

 

 

মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে আসা সাংবাদিক আবুল হাসনাত তুহিন: ৪ আগস্টের সেই রক্তাক্ত স্মৃতি, আজও স্বীকৃতির অপেক্ষায়

 

৪ আগস্ট। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি আলোচিত ও বেদনাবিধুর দিন। সেই দিনের সহিংসতার স্মৃতি আজও তাড়া করে বেড়ায় ফেনীর সাংবাদিক আবুল হাসনাত তুহিনকে। তিনি দাবি করেন, ছাত্রদের ওপর হামলার নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে নিজেই ভয়াবহ হামলার শিকার হন। প্রাণে বেঁচে ফিরলেও আজও তিনি মনে করেন, প্রকৃত ঘটনার সাক্ষী ও ভুক্তভোগী হিসেবে ন্যায্য স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

 

আবুল হাসনাত তুহিন জানান, ৪ আগস্ট ফেনীর এসএসকে সড়ক পুলিশ ফাঁড়ির সামনে ছাত্রদের ওপর চলমান হামলার ঘটনা সরাসরি (লাইভ) সম্প্রচার করছিলেন তিনি। একজন পেশাদার সংবাদকর্মী হিসেবে কোনো পক্ষ না নিয়ে ঘটনার বাস্তব চিত্র দেশবাসীর সামনে তুলে ধরাই ছিল তার একমাত্র উদ্দেশ্য।

পড়ুন>>এইচএসসি উত্তরপত্রে শিক্ষার্থীদের দিয়ে কাজ করানোর ভিডিও ভাইরাল

তার দাবি, লাইভ সম্প্রচারের একপর্যায়ে একদল দুর্বৃত্ত তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা তার মাথায় পরপর আঘাত করে তাকে রাস্তায় ফেলে দেয়। এ সময় তার ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোনও ছিনিয়ে নেওয়া হয়। গুরুতর আহত হয়ে তিনি ঘটনাস্থলেই অজ্ঞান হয়ে পড়েন।

পরে উপস্থিত পুলিশ সদস্য ও সহকর্মীদের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে ফেনী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে তিনি প্রাণে বেঁচে ফিরলেও সেই দিনের শারীরিক ও মানসিক ক্ষত এখনো বহন করছেন।

আবুল হাসনাত তুহিনের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই দিনের হামলার ঘটনা দেশের অন্তত ছয়টি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়েছিল। এছাড়া বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজেও তার ওপর হামলার দৃশ্য সংরক্ষিত রয়েছে, যা ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ প্রামাণ্য দলিল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

পড়ুন>>রাতের আঁধারে রহস্যময় বন্যপ্রাণীর তাণ্ডবে রাণীশংকৈলে আহত অন্তত ১০

তবে তার আক্ষেপ, সময়ের ব্যবধানে ইতিহাসের বাস্তবতা যেন ধীরে ধীরে আড়াল হতে বসেছে। তার অভিযোগ, যেসব ব্যক্তি ওই দিনের হামলার শিকারই হননি, তাদের কেউ কেউ নিজেদের “জুলাই যোদ্ধা” হিসেবে পরিচিত করার চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে, জীবনবাজি রেখে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে আসা প্রকৃত ভুক্তভোগীরা এখনো যথাযথ মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি পাননি।

আরও পড়ুন>> সৈয়দপুরে উপজেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ

তিনি বলেন, “আমি কোনো আর্থিক সুবিধা বা অর্থনৈতিক লাভের জন্য স্বীকৃতি চাই না। আমি চাই, একজন নিরপেক্ষ সাংবাদিক হিসেবে সত্য প্রকাশ করতে গিয়ে যে হামলার শিকার হয়েছিলাম, সেই বাস্তবতার স্বীকৃতি। ইতিহাস যেন সত্যকে ধারণ করে, মিথ্যাকে নয়।”

আবুল হাসনাত তুহিনের মতে, ৪ আগস্টের ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু মূল্যায়নের জন্য প্রকাশিত সংবাদ, ভিডিও ফুটেজ, হাসপাতালের চিকিৎসা নথি, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য এবং অন্যান্য প্রমাণ নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

তাহলেই প্রকৃত আহত, নির্যাতিত ও দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তিদের যথাযথ স্বীকৃতি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে ইতিহাস বিকৃত হওয়ার আশঙ্কা কমবে।

 

 

 

Facebook Comments Box