ঢাকা ০৫:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এআই যেন বেকারত্ব না বাড়ায়, সতর্ক থাকার আহ্বান রাষ্ট্রপতির মোংলা বন্দর হবে দেশের নতুন অর্থনৈতিক হাব: প্রধানমন্ত্রী মুচলেকা দিয়ে আদালত থেকে জামিন পেলেন চিত্রনায়িকা পরীমনি মানিকগঞ্জে ট্রিপল মার্ডার: চার ভাইসহ পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড ও আটজনের যাবজ্জীবন খুলনায় চুইঝালের শতকোটি টাকার বাণিজ্যিক সম্ভাবনা রেল দরপত্র জালিয়াতির তদন্ত নিয়ে গড়িমসি, জানেন না সময়সীমা জিএম ব্রাজিল ফুটবলে নজিরবিহীন কাণ্ড, এক ম্যাচেই ৫৩ লাল কার্ড রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ১১ শিক্ষক নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, আবেদনের শেষ ২৪ নভেম্বর কাতার মধ্যস্থতায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি চুক্তির পথে নতুন মোড় শিশু সাইফকে প্রাণনাশের দায়ে সৎমায়ের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

এআই যেন বেকারত্ব না বাড়ায়, সতর্ক থাকার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:০৩:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই যেন বাংলাদেশের বেকারত্ব সমস্যাকে আরও জটিল করে না তোলে, সে বিষয়ে বিশেষ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, প্রযুক্তি মানুষের সহায়তার জন্য, মানুষ প্রযুক্তির সেবাদাস হওয়ার জন্য নয়। প্রযুক্তির প্রতিটি অগ্রগতি যেন জনকল্যাণ নিশ্চিত করে এবং মানবিক মূল্যবোধকে অক্ষুণ্ণ রাখে, সেটিই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত। তবে এআই ব্যবহারে ঝুঁকির বিষয়টিও তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আয়োজিত এই সামিটের জন্য তিনি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিকে ধন্যবাদ জানান। বিদ্যুতের মতো এআইও যুগান্তকারী পরিবর্তন আনছে এবং সামনে এর প্রভাব আরও বিস্তৃত হবে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বিশ্ব আজ এক বড় পরিবর্তনের মুখোমুখি, আর এই পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান অনুঘটক হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। আগামী এক দশকে এআই বাংলাদেশের কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও বাণিজ্যিক খাতের রূপরেখা বদলে দিতে পারে। এই সম্মেলন নিছক কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এক গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে কাজ করবে। রাষ্ট্রপতি বলেন, একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করে সেই জাতি কত দ্রুত নতুন জ্ঞান-বিজ্ঞানকে আপন করে নিতে পারে, তার ওপর।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতের উন্নয়ন কৌশলে এআইকে চালিকাশক্তি হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো, শিল্পের আধুনিকায়ন, রপ্তানির প্রসার এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে এ প্রযুক্তিকে কৌশলগতভাবে কাজে লাগানো জরুরি। তবে এআই যেন সবকিছুর নিয়ন্ত্রক হয়ে না ওঠে, সেদিকে কড়া নজর রাখতে হবে। কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা না থাকলে মানবসভ্যতা অস্তিত্ব সংকটে পড়ার ঝুঁকিতে থাকবে। উৎপাদন বৃদ্ধি, শিল্পের আধুনিকায়ন, রপ্তানি সম্প্রসারণ, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং কোটি তরুণের জন্য মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান তৈরিতে এ প্রযুক্তিকে কৌশলগতভাবে কাজে লাগাতে হবে।

দেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীকে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের মূল শক্তি হিসেবে অভিহিত করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এই বিপ্লবের সুফল ঘরে তুলতে আমাদের তরুণদের প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। এছাড়া, এআইকে কেবল ব্যয় কমানোর হাতিয়ার হিসেবে না দেখে নতুন পণ্য ও সেবা উদ্ভাবন এবং বাজার সৃষ্টির মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করার জন্য ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

রাষ্ট্রপতি জানান, সরকার এআইয়ের নিরাপদ ও নৈতিক ব্যবহারের জন্য একটি মানবকেন্দ্রিক জাতীয় নীতিমালা তৈরির কাজ করছে। এতে মানবাধিকার রক্ষা এবং দায়িত্বশীল উদ্ভাবনের পাশাপাশি বাংলা ভাষাভিত্তিক এআই সক্ষমতা অর্জনের বিষয়টিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক গবেষণার তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বিশ্ব অর্থনীতিতে এআই ট্রিলিয়ন ডলারের অবদান রাখবে। এই বিপুল সুযোগ গ্রহণের পাশাপাশি বাংলাদেশকে এআই উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিতে হবে। শুধু প্রযুক্তির ব্যবহারকারী নয়, বরং উদ্ভাবক হিসেবে বিশ্বমঞ্চে পরিচিতি পাওয়া আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত। তিনি বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প যেমন বিশ্বে দেশকে পরিচিত করেছে, তেমনি আগামী দিনে এআইশিল্পও বাংলাদেশকে বিশ্বে নতুন পরিচয়ে পরিচিত করতে সক্ষম হবে।

বক্তব্যের শেষে তিনি বলেন, ২০৪১ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার স্বপ্ন পূরণে সরকারি-বেসরকারি খাত, বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষকদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এআই-নির্ভর না হয়ে বরং এআই-সক্ষম, উদ্ভাবনসমৃদ্ধ এবং মানবকল্যাণমুখী একটি স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলাই আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য। তিনি বলেন, সরকারি-বেসরকারি খাত, গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয় এবং তরুণ প্রজন্ম একসঙ্গে কাজ করলে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে ২০৪১ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির যে স্বপ্ন বাংলাদেশ দেখছে, তা পূরণ করা। তারা প্রযুক্তিবান্ধব এবং স্বপ্ন দেখতে জানে।

অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া বিজ্ঞানী, প্রযুক্তিবিদ, উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের অভিনন্দন জানিয়ে রাষ্ট্রপতি আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট-২০২৬’-এর উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

এআই যেন বেকারত্ব না বাড়ায়, সতর্ক থাকার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

আপডেট সময় : ০৫:০৩:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই যেন বাংলাদেশের বেকারত্ব সমস্যাকে আরও জটিল করে না তোলে, সে বিষয়ে বিশেষ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, প্রযুক্তি মানুষের সহায়তার জন্য, মানুষ প্রযুক্তির সেবাদাস হওয়ার জন্য নয়। প্রযুক্তির প্রতিটি অগ্রগতি যেন জনকল্যাণ নিশ্চিত করে এবং মানবিক মূল্যবোধকে অক্ষুণ্ণ রাখে, সেটিই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত। তবে এআই ব্যবহারে ঝুঁকির বিষয়টিও তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আয়োজিত এই সামিটের জন্য তিনি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিকে ধন্যবাদ জানান। বিদ্যুতের মতো এআইও যুগান্তকারী পরিবর্তন আনছে এবং সামনে এর প্রভাব আরও বিস্তৃত হবে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বিশ্ব আজ এক বড় পরিবর্তনের মুখোমুখি, আর এই পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান অনুঘটক হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। আগামী এক দশকে এআই বাংলাদেশের কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও বাণিজ্যিক খাতের রূপরেখা বদলে দিতে পারে। এই সম্মেলন নিছক কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এক গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে কাজ করবে। রাষ্ট্রপতি বলেন, একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করে সেই জাতি কত দ্রুত নতুন জ্ঞান-বিজ্ঞানকে আপন করে নিতে পারে, তার ওপর।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতের উন্নয়ন কৌশলে এআইকে চালিকাশক্তি হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো, শিল্পের আধুনিকায়ন, রপ্তানির প্রসার এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে এ প্রযুক্তিকে কৌশলগতভাবে কাজে লাগানো জরুরি। তবে এআই যেন সবকিছুর নিয়ন্ত্রক হয়ে না ওঠে, সেদিকে কড়া নজর রাখতে হবে। কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা না থাকলে মানবসভ্যতা অস্তিত্ব সংকটে পড়ার ঝুঁকিতে থাকবে। উৎপাদন বৃদ্ধি, শিল্পের আধুনিকায়ন, রপ্তানি সম্প্রসারণ, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং কোটি তরুণের জন্য মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান তৈরিতে এ প্রযুক্তিকে কৌশলগতভাবে কাজে লাগাতে হবে।

দেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীকে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের মূল শক্তি হিসেবে অভিহিত করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এই বিপ্লবের সুফল ঘরে তুলতে আমাদের তরুণদের প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। এছাড়া, এআইকে কেবল ব্যয় কমানোর হাতিয়ার হিসেবে না দেখে নতুন পণ্য ও সেবা উদ্ভাবন এবং বাজার সৃষ্টির মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করার জন্য ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

রাষ্ট্রপতি জানান, সরকার এআইয়ের নিরাপদ ও নৈতিক ব্যবহারের জন্য একটি মানবকেন্দ্রিক জাতীয় নীতিমালা তৈরির কাজ করছে। এতে মানবাধিকার রক্ষা এবং দায়িত্বশীল উদ্ভাবনের পাশাপাশি বাংলা ভাষাভিত্তিক এআই সক্ষমতা অর্জনের বিষয়টিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক গবেষণার তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বিশ্ব অর্থনীতিতে এআই ট্রিলিয়ন ডলারের অবদান রাখবে। এই বিপুল সুযোগ গ্রহণের পাশাপাশি বাংলাদেশকে এআই উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিতে হবে। শুধু প্রযুক্তির ব্যবহারকারী নয়, বরং উদ্ভাবক হিসেবে বিশ্বমঞ্চে পরিচিতি পাওয়া আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত। তিনি বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প যেমন বিশ্বে দেশকে পরিচিত করেছে, তেমনি আগামী দিনে এআইশিল্পও বাংলাদেশকে বিশ্বে নতুন পরিচয়ে পরিচিত করতে সক্ষম হবে।

বক্তব্যের শেষে তিনি বলেন, ২০৪১ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার স্বপ্ন পূরণে সরকারি-বেসরকারি খাত, বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষকদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এআই-নির্ভর না হয়ে বরং এআই-সক্ষম, উদ্ভাবনসমৃদ্ধ এবং মানবকল্যাণমুখী একটি স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলাই আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য। তিনি বলেন, সরকারি-বেসরকারি খাত, গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয় এবং তরুণ প্রজন্ম একসঙ্গে কাজ করলে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে ২০৪১ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির যে স্বপ্ন বাংলাদেশ দেখছে, তা পূরণ করা। তারা প্রযুক্তিবান্ধব এবং স্বপ্ন দেখতে জানে।

অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া বিজ্ঞানী, প্রযুক্তিবিদ, উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের অভিনন্দন জানিয়ে রাষ্ট্রপতি আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট-২০২৬’-এর উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

Facebook Comments Box