মৃত্যুপুরী রাজধানী ৩০ ঘন্টায় ১৩ প্রাণহানি
- আপডেট সময় : ০৮:৫৫:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬ ২৯৩৬৫ বার পড়া হয়েছে
মৃত্যুপুরী রাজধানী ৩০ ঘন্টায় ১৩ প্রাণহানি
রাজধানীতে ৩০ ঘণ্টায় মৃত্যুমিছিল, সড়কে ঝরল ৪ প্রাণ, হাসপাতালে ৬ নবজাতকসহ নিহত ১৩।
রাজধানী ঢাকায় মাত্র ৩০ ঘণ্টার ব্যবধানে সড়ক দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা, রহস্যজনক মৃত্যু ও হাসপাতালের অব্যবস্থাপনায় নবজাতকের মৃত্যুসহ অন্তত ১৩ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ঘটনা মগবাজারের আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একসঙ্গে ছয় নবজাতকের মৃত্যু।
এদিকে রাজধানীর ভাটারা এলাকায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় স্বামী-স্ত্রীসহ চারজন নিহত হয়েছেন। একই সময়ে মিরপুরে দম্পতির ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় অজ্ঞাত এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাও উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার (২৭ মে) সকাল ৬টা ৫ মিনিটের দিকে প্রগতি সরণির নর্দা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন আজিজ সড়কের সামনে ইসলাম পরিবহন ও আকাশ পরিবহনের দুটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
পড়ুন>> বাঁশজানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের ঈদ পুনর্মিলনী
পুলিশ জানায়, বরিশাল থেকে কুড়িল বিশ্বরোডগামী ইসলাম পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার ডিভাইডার অতিক্রম করে বিপরীত দিক থেকে আসা সদরঘাটগামী আকাশ পরিবহনের বাসকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ইসলাম পরিবহনের বাসটি উল্টে যায় এবং আকাশ পরিবহনের বাসটির ডান পাশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
দুর্ঘটনাস্থলেই নিহত হন আকাশ পরিবহনের যাত্রী লাইজু বেগম (৩৮)। পরে আহতদের কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে খুশি বেগম ও রবিউলকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। গুরুতর আহত কবির জমাদ্দারকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানেও তার মৃত্যু হয়।
নিহতদের মধ্যে কবির জমাদ্দার (৪৭) ও লাইজু বেগম ছিলেন স্বামী-স্ত্রী। তাদের বাড়ি বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার উত্তর হলদিবুনিয়া এলাকায়। নিহত খুশি বেগম (৩৫) তাদের আত্মীয় বলে জানা গেছে। অপর নিহত রবিউলের বাড়ি পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায়।
এ ঘটনায় সড়ক পরিবহন আইনে মামলা হয়েছে এবং দুর্ঘটনাকবলিত দুটি বাস জব্দ করেছে পুলিশ। বাসচালক ও হেলপারদের খুঁজছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পড়ুন>> হেরো বাংলাদেশ মানবিক সংগঠনের কোরবানির মাংস নিতে অসহায় দুঃস্থদের গুণতে হচ্ছে টাকা
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মিরপুর দারুস সালাম থানার হরিরামপুর এলাকার একটি বাসা থেকে নূর মোহাম্মদ হৃদয় (২৫) ও তার স্ত্রী ঝুম আক্তার (১৮)-এর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, প্রায় দুই থেকে তিন বছর আগে তাদের বিয়ে হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহের জেরে তারা আত্মহত্যা করেছেন। ঝুম আক্তার অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন বলেও জানা গেছে।
দারুসসালাম থানার ডিউটি অফিসার উপ-পরিদর্শক (এসআই) দেবব্রত কুমার বিশ্বাস জানান, লাশ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
অন্যদিকে বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার সলিমুল্লাহ হলের সামনে ফুটপাত থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে শাহবাগ থানা পুলিশ।
আরও পড়ুন>> সরকার দাম বাড়ালেও ঠাকুরগাঁওয়ে চামড়া শিল্পে ধস: ন্যায্যমূল্য না পেয়ে হতাশ বিক্রেতারা
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, পথচারীরা প্রায় ৫০ বছর বয়সী ওই ব্যক্তিকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অসুস্থতাজনিত কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।
রাজধানীর মগবাজারের আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একসঙ্গে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) শেখ জাহিদুল ইসলাম জানান, নিহত নবজাতকদের একজনের পরিবারের পক্ষ থেকে অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগ এনে মামলা করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
জানা গেছে, ২৭ মে হাসপাতালের পোস্ট ডেলিভারি ওয়ার্ডে এই ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। স্বজনদের অভিযোগ, ওয়ার্ডে চরম অব্যবস্থাপনা এবং এসি বন্ধ থাকার কারণেই শিশুদের মৃত্যু হয়েছে।
পরিবারগুলো ময়নাতদন্তে অনিচ্ছা প্রকাশ করায় আবেদন সাপেক্ষে নবজাতকদের মরদেহ তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
একদিনে রাজধানীতে একের পর এক মৃত্যুর ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে সড়ক নিরাপত্তা ও হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।


























