মিরসরাইয়ে মৃতদের টাকা আত্মসাৎ, সাবেক চেয়ারম্যানসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে মামলা
- আপডেট সময় : ১২:৫০:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬ ২৬ বার পড়া হয়েছে
চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৫৫টি উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ ভুয়া ভাউচার বানিয়ে আত্মসাৎ এবং অতিদরিদ্রদের কর্মসংস্থান কর্মসূচিতে (ইজিপিপি) মৃত ও প্রবাসী ব্যক্তিদের শ্রমিক হিসেবে দেখিয়ে টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. এনায়েত হোসেন ওরফে নয়নসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এনায়েত হোসেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক।
গত বৃহস্পতিবার দুদক চট্টগ্রামের উপসহকারী পরিচালক জসিম উদ্দিন বাদী হয়ে নিজ কার্যালয়ে মামলা দুটি দায়ের করেন। মামলার তথ্য নিশ্চিত করে দুদকের চট্টগ্রাম কার্যালয়ের উপপরিচালক রিয়াজ উদ্দিন জানান, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন ও তাঁর সহযোগীরা পরস্পর যোগসাজশে প্রবাসীদের ও মৃত ব্যক্তিদের শ্রমিক দেখিয়ে ইজিপিপি প্রকল্পের টাকা উত্তোলন করেন। এ ছাড়া ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়ার নামে ভুয়া ভাউচার বানিয়ে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।
৫৫ প্রকল্পের অর্থ ভুয়া ভাউচারে আত্মসাৎ
দুদকের এজাহার অনুযায়ী, ২০১৭-১৮ অর্থবছর থেকে ২০২১-২২ অর্থবছর পর্যন্ত করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের ১ শতাংশ করের অর্থে বাস্তবায়নের জন্য ৫৫টি উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। প্রকল্পসংক্রান্ত নথিপত্র অনুসন্ধান এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাক্ষ্য গ্রহণ করে দুর্নীতি দমন কমিশন জালিয়াতির প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে। তদন্তে দেখা যায়, প্রকল্পগুলোর অধিকাংশ ভাউচার ছিল সম্পূর্ণ ভুয়া। মূলত কোনো ধরনের কাজ না করেই জাল ভাউচার তৈরি করে সরকারি টাকা আত্মসাৎ করা হয়।
অনুসন্ধান চলাকালে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মালিকেরা দুদক কর্মকর্তাদের জানান, ভাউচারে থাকা লেখা ও স্বাক্ষর তাঁদের নয়। এমনকি প্রকল্প বাস্তবায়নের নিমিত্তে আয়োজিত সভার কার্যবিবরণীসহ নথিপত্রে চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের বাইরে অন্যান্য সদস্যদের দেওয়া অধিকাংশ স্বাক্ষরও জাল করা হয়েছিল। ১ শতাংশ করের অর্থে বাস্তবায়নাধীন এসব প্রকল্পের দায়িত্বে ছিলেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন ও সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যরা।
ইজিপিপি প্রকল্পে মৃত ও প্রবাসীদের নামে জালিয়াতি
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির (ইজিপিপি) ৩০ লাখ ৮৮ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে অপর মামলাটি করা হয়েছে। সেখানে ভুয়া, প্রবাসী ও মৃত ব্যক্তিদের শ্রমিক হিসেবে দেখিয়ে টাকা তোলার পাশাপাশি অনেক সাধারণ শ্রমিকের প্রাপ্য মজুরিও পরিশোধ করা হয়নি বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। বিষয়টি জানতে পেরে তাঁর স্ত্রী হাসিনা বেগম অবাক হন।
- মৃত ব্যক্তির হিসাব থেকে টাকা তোলাএজাহার সূত্রে জানা গেছে, করেরহাট ইউনিয়নের পশ্চিম জোয়ার এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ হারুন ২০১৮ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর মারা যান। কিন্তু মৃত্যুর পর ২০১৯ সালের ২৯ এপ্রিল থেকে ২০২১ সালের ২৯ জুন পর্যন্ত তাঁর ব্যাংক হিসাব থেকে ৪০ হাজার ৫০০ টাকা উত্তোলন করা হয়, যা তাঁর স্ত্রী হাসিনা বেগম জানতেন না।
- অন্যান্য মৃতদের নামে অর্থ লোপাটএকই এলাকার মোস্তফা নামের আরেক ব্যক্তি মারা যাওয়ার পরও তাঁর ব্যাংক হিসাব থেকে জালিয়াতি করে টাকা তোলা হয়। মোস্তফার স্ত্রী শামসুন নাহার জানান, তাঁরা এ ধরনের টাকা উত্তোলনের বিষয়ে কিছুই জানতেন না।
- মামলার অন্যান্য আসামিরাজাল ভাউচারের মামলায় এনায়েত হোসেন ছাড়াও আসামিদের মধ্যে আছেন করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সংরক্ষিত নারী সদস্য কল্পনা রানী চক্রবর্তী, শেলী মজুমদার ও তাহেরা বেগম। এ ছাড়া সাবেক ইউপি সদস্য মো. আবু তাহের (মাস্টার), মো. শহীদ উল্লাহ, মো. বেলাল উদ্দিন, ফেয়ার মিয়া মিন্টু, মো. আজাদ উদ্দিন ও কোরবান আলী আসামির তালিকায় রয়েছেন।
সূত্র: প্রথম আলো

























