পটিয়ায় অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মৃত্যু: জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্বামী পুলিশ হেফাজতে
- আপডেট সময় : ০৫:৫১:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬ ১৯ বার পড়া হয়েছে
পটিয়ায় অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মৃত্যু: জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্বামী পুলিশ হেফাজতে
চট্টগ্রামের পটিয়ায় ৭২ ঘণ্টার ব্যবধানে আরও একজন অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা তানিয়া কামাল নিহাতের মৃত্যুর ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার স্বামী নূর উদ্দিনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। নিহত তানিয়া পটিয়া উপজেলার কুসুমপুরা ইউনিয়নের হরিনখাইন গ্রামের মো. কামালের মেয়ে। হত্যার অভিযোগের তার স্বামীকে আটক করেছে পুলিশ।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে নিহাতের মা মোর্শেদা বেগম দাবি করেন, শ্বশুড়বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরেই মেয়েকে যৌতুকের জন্য নির্যাতন ও নিপীড়ন করা হচ্ছিল। স্থানীয়ভাবে এ নিয়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হলেও বিবাদ মিমাংসা হয়। পরে কিছু সময় দম্পতিরা নিহাতের বাপের বাড়িতে বসবাস করছিলেন।
পড়ুন>>ঘরোয়া ক্রিকেটে ‘ডি-থ্রি’ ট্রফি চালু করছে বিসিবি
রোববার (২৫ অক্টোবর) স্বামীর অনুরোধে নিহাতকে একদিনের জন্য শ্বশুরবাড়ি পাঠানো হয়। রাত ১টার দিকেও মেয়ের সাথে মোবাইলে কথা বলে তিনি তাকে সুস্থ জেনেছিলেন। ভোর ৪টার দিকে নূর উদ্দিন ফোন করে জানান যে, নিহাত অসুস্থ হয়ে পড়েছে এবং তাকে পটিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) ভোররাত ৪ টার দিকে গৃহবধূ ও তার স্বামী নুর উদ্দিনের শয়ন কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। নিহত গৃহবধূর মা মোর্শেদা বেগম অভিযোগ করে বলেন, শশুড় বাড়ীতে দীর্ঘদিন যাবৎ তার মেয়েকে নানাভাবে যৌতুকের জন্য নির্যাতন ও নিপীড়ন করে আসছিল শাশুড়ী ও ননদসহ শ্বশুড়বাড়ির লোকজন।
এ নিয়ে থানা ও স্থানীয় ভাবে শালিশী একাধিক বৈঠক হয়। এরপর থেকে কয়েক মাস যাবৎ তার স্বামীসহ মেয়ে বাপের বাড়িতেই বসবাস করছিল। তবে শ্বশুড়বাড়ির লোকজন জানান, রোববার নিহাত ৩ বার বিরানি খেয়েছে। পরে রাতে আমরা যার যার শয়ন কক্ষেই ঘুমিয়ে ছিলাম।
পড়ুন>>সরকার অনুমোদন দিলে ক্রসফায়ারেও পিছপা হবে না পুলিশ: আইজিপি
নিহাতের স্বজনরা হাসপাতালে গিয়ে তাকে না পেয়ে শ্বশুরবাড়িতে খোঁজ নিতে গিয়ে দেখেন, নিহাতের মাথায় ও গলায় আঘাতের ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। এদিকে, শ্বশুরবাড়ির লোকজনের দাবি, নিহাত রোববার তিনবার বিরিয়ানি খেয়েছিল এবং ধারণা করা হচ্ছে ফুড পয়জনিং থেকেই তার মৃত্যু হয়েছে। নিহাতের জা যোবাইদা খানম জানান, রাত পর্যন্ত সব স্বাভাবিক ছিল, কিন্তু হঠাৎ অসুস্থবোধ করলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রত্যক্ষদর্শী আবুল কালামও জানান, অসুস্থ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আরও পড়ুন>>ইরানে বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের, নির্দেশ পেলেই ৯৬ ঘণ্টায় অভিযান
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক জানান, পুলিশ নিহাতের মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মর্গে প্রেরণ করেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। বর্তমানে এ ঘটনায় নিহতের স্বামী নূর উদ্দিনকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

























