হাদিস: ঘুমানোর আগে সুরা মুলক তিলাওয়াতের ফজিলত, কী
- আপডেট সময় : ১২:১৯:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬ ২৮ বার পড়া হয়েছে
পবিত্র কোরআনের ২৯তম পারার প্রথম সুরা হলো সুরা মুলক, যা ক্রমানুসারে কোরআনের ৬৭তম সুরা। ত্রিশটি আয়াতবিশিষ্ট এই সুরাটি পাঠকারীর জন্য সুপারিশকারী হিসেবে কাজ করে এবং তাকে ক্ষমা না করা পর্যন্ত আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা চালিয়ে যায়। আল্লাহর অসীম সার্বভৌমত্ব, কর্তৃত্ব এবং মহত্ত্বের বর্ণনা দিয়ে শুরু হওয়া এই সুরায় মহাবিশ্বের সৃষ্টিতত্ত্ব এবং আসমানি গ্রহ-নক্ষত্র সৃষ্টির মাধ্যমে মহান আল্লাহর কুদরতের নিদর্শন স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
সুরা মুলকের ফজিলত সম্পর্কে বিভিন্ন হাদিসে বর্ণনা পাওয়া যায়, যেখানে এই সুরা তিলাওয়াতের মাধ্যমে ক্ষমা লাভ এবং কবরের আজাব থেকে সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত একটি হাদিস অনুযায়ী, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, পবিত্র কোরআনে এমন ৩০ আয়াতের একটি সুরা রয়েছে যা পাঠকারীর পক্ষে ক্রমাগত সুপারিশ করতে থাকে যতক্ষণ না তিনি ক্ষমা পান। এই সুরাটি হলো সুরা মুলক, যা ‘তাবারাকাল্লাজি বিইয়াদিহিল মুলক’ নামেও পরিচিত।
রাসুলুল্লাহ (সা.) রাতে সুরা মুলক পাঠ না করে ঘুমাতেন না বলে হাদিসে উল্লেখ রয়েছে। অন্য একটি বর্ণনায় পাওয়া যায়, তিনি রাতে ঘুমানোর আগে সুরা আস-সাজদা ও সুরা মুলক তিলাওয়াত করতেন। এ কারণে রাতে নিদ্রার আগে এই সুরা পাঠ করাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত হিসেবে গণ্য করা হয়।
কবর হলো আখিরাতের প্রথম ধাপ। হজরত উসমান (রা.) যখন কবরের পাশ দিয়ে যেতেন, তখন তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে কাঁদতেন। তিনি বলতেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে তিনি শুনেছেন, কবর হলো আখিরাতের প্রথম মঞ্জিল। যদি কেউ সেখানে মুক্তি পেয়ে যায়, তবে পরবর্তী ধাপগুলো অনেক সহজ হয়ে যায়। আর সেখানে মুক্তি না পেলে পরবর্তী পরিস্থিতি আরও কঠিন ও ভয়াবহ হয়।
কবরের আজাব থেকে বাঁচার ক্ষেত্রে সুরা মুলকের বিশেষ ভূমিকার কথা আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)-এর বর্ণনায় এসেছে। তিনি বলেন, কবরের ভেতর ফেরেশতারা যখন শাস্তি দেওয়ার জন্য মৃত ব্যক্তির পায়ের দিক দিয়ে আসতে চাইবে, তখন পা বলবে যে এদিক দিয়ে আসার পথ নেই, কারণ সে সুরা মুলক পাঠ করত। একইভাবে বুক, পেট এবং মাথার দিক দিয়েও ফেরেশতাদের বাধা দেওয়া হবে। সুরাটি যেন কবরের আজাব প্রতিরোধকারী ঢাল হিসেবে কাজ করবে।
সুরা মুলক রাতের যেকোনো সময় তিলাওয়াত করা যায়, তবে ঘুমানোর আগে পড়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এটি মুখস্থ থাকলে তিলাওয়াত করা উত্তম, তবে মুখস্থ না থাকলে কোরআন দেখে অর্থ বুঝে পড়াও ফজিলতের কারণ হবে। পবিত্র অবস্থায় তিলাওয়াতের কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা না থাকলেও রাতের শান্ত সময়ে এটি পড়ার আমল অনেক বেশি কার্যকর।
আল্লাহ সুরাটির দ্বিতীয় আয়াতে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি জীবন ও মৃত্যু সৃষ্টি করেছেন যাতে মানুষকে পরীক্ষা করা যায়—তাদের মধ্যে কে কর্মের দিক থেকে উত্তম। এখানে মৃত্যুকে জীবনের সমাপ্তি হিসেবে নয়, বরং আল্লাহর একটি সৃষ্টি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। যিনি মৃত্যু সৃষ্টি করেছেন, তিনি নিজে এর ঊর্ধ্বে এবং তিনি অত্যন্ত পরাক্রমশালী ও ক্ষমাশীল।
কেয়ামতের দিন সুরাটি পাঠকারীর পক্ষে আল্লাহর কাছে সুপারিশ করবে এবং জাহান্নাম থেকে রক্ষার কারণ হবে বলে হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেছেন। এই আমলটি পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীদের শেখানোর প্রতিও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
কবরের মুনকার ও নাকির ফেরেশতার জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হওয়ার জন্য মুসলিমদের প্রস্তুত থাকা প্রয়োজন। এর পাশাপাশি কবরের আজাব থেকে মুক্তি পেতে রাসুলুল্লাহ (সা.) যে দোয়াটি শিখিয়েছেন তা পাঠ করা জরুরি। তিনি দোয়ায় বলতেন, ‘হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে জাহান্নাম ও কবরের আজাব, দাজ্জালের ফিতনা এবং জীবন-মৃত্যুর বিপদাপদ থেকে আশ্রয় চাই।’ এই দোয়াটি তিনি সাহাবীদের কোরআনের সুরা শেখানোর মতো করে গুরুত্ব দিয়ে শেখাতেন। নিয়মিত সুরা মুলক তিলাওয়াত ও এর শিক্ষা অনুসরণ করার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও ক্ষমা লাভ সম্ভব।
সূত্র: Chattogram Pratidin























