বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুল খালেকের বহিষ্কারাদেশ কার্যকরে চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপ কামনা
- আপডেট সময় : ১১:৫২:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬ ১৪১১১ বার পড়া হয়েছে
বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুল খালেকের বহিষ্কারাদেশ কার্যকরে চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপ কামনা
গুলশান কার্যালয়ে অভিযোগ দাখিল বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুল খালেকের বহিষ্কারাদেশ কার্যকরে চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপ কামনা।
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল এবং কেন্দ্রীয় বহিষ্কারাদেশ অমান্য করার অভিযোগে রংপুর বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল খালেকের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে। এ বিষয়ে দলের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য তাসভীর উল ইসলাম।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগপত্রটি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক প্রতিনিধি হমান–এর নিকট উপস্থাপনের জন্য ২৩ ফেব্রুয়ারি জমা দেওয়া হয়। তাসভীর উল ইসলাম কুড়িগ্রাম-২৭–৩ (উলিপুর) আসনে দলীয় মনোনীত প্রার্থী ছিলেন।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ড চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণার পরও আব্দুল খালেক বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন এবং নির্ধারিত সময়ে তা প্রত্যাহার না করে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করেন। পরবর্তীতে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা তাঁর মনোনয়ন বাতিল করলেও তিনি ও তাঁর অনুসারীরা দলীয় প্রতীক ‘ধানের শীষ’-এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে কেন্দ্রীয়ভাবে বহিষ্কারাদেশ জারি হওয়ার পরও পদবী সংক্রান্ত ত্রুটির অজুহাতে সংশ্লিষ্ট নেতা তা কার্যকর নয় বলে দাবি করেন। অভিযোগকারী দাবি করেন, দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই তা কার্যকর হয়; ফলে বহিষ্কারাদেশ অমান্য করাও পুনরায় শৃঙ্খলাভঙ্গের শামিল।
তাসভীর উল ইসলাম বলেন, “দল একটি আদর্শ ও শৃঙ্খলার ভিত্তিতে পরিচালিত সংগঠন। কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ডের সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়া এবং বহিষ্কারাদেশের পরও নিজেকে পদে বহাল দাবি করা সংগঠনের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক। এতে তৃণমূল পর্যায়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয় এবং কর্মীদের মনোবল ক্ষতিগ্রস্ত হয়।”
তিনি আরও বলেন, “একই ধরনের অভিযোগে অতীতে অনেকের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এখানে যদি সিদ্ধান্ত ঝুলে থাকে, তাহলে দলীয় শৃঙ্খলার প্রশ্নে নেতিবাচক বার্তা যাবে। আমরা আশা করছি, চেয়ারম্যান বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন।”
এদিকে উলিপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রশিদ বলেন, “কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করা দলীয় গঠনতন্ত্রের পরিপন্থী। বহিষ্কারাদেশ কার্যকর না হলে তৃণমূলের কাছে ভুল বার্তা যায়।”
উপজেলার কর্মী আব্দুল বাতেন সরকার বলেন,
“নির্বাচনের সময় আমরা মাঠে কাজ করেছি। কিন্তু অভ্যন্তরীণ গ্রুপিং ও বিভ্রান্তির কারণে অনেক কর্মী হতাশ হয়েছেন। কেন্দ্রীয়ভাবে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত দরকার।”
জেলার যুবদল কর্মী ইমরুল কায়েসের ভাষ্য,
“একই ধরনের অভিযোগে অন্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হয়েছে। এখানে সিদ্ধান্ত বিলম্বিত হলে কর্মীদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়।”
এ ব্যাপারে বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল খালেক বলেন, “আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিলেই হল? তাছাড়া আমি শুধু একাই মনোনয়নপত্র দাখিল করি নাই। সারা বাংলাদেশে ১০০র অধিক নেতা মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে আমি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছি। আর মনোনয়নপত্র দাখিল করা অপরাধ নয়। ”
রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ জানিয়েছেন, কুড়িগ্রাম-৩ আসনে আব্দুল খালেক স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। তবে যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় মনোনয়নপত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও তথ্যগত ত্রুটি পরিলক্ষিত হওয়ায় বিধি অনুযায়ী তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করেই এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছিল।
দলীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সাংগঠনিক ফোরামে উত্থাপিত হয়ে যাচাই-বাছাই শেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। এখন নজর কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ

























