প্যারিসে ব্যাংক অব আমেরিকায় ব্যর্থ হামলার নেপথ্যে ইরানপন্থি নেটওয়ার্ক
- আপডেট সময় : ১১:৪৫:১১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
প্যারিসে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংক অব আমেরিকার কার্যালয়ে গত মার্চ মাসে ঘটে যাওয়া একটি ব্যর্থ বোমা হামলার ঘটনার তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। মার্কিন ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) পরিচালিত তদন্তে জানা গেছে, এই ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা ছিল না। এর নেপথ্যে ইরানপন্থি একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিস্তৃত নেটওয়ার্ক সক্রিয় ছিল। গত বৃহস্পতিবার ফরাসি দৈনিক ল্য মন্ডে প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়, এফবিআইয়ের সংগৃহীত তথ্যগুলো ফরাসি সন্ত্রাসবিরোধী বিচারকদের কাছে পাঠানো হয়েছে। ২৯ জুলাই একটি বিচারিক অনুরোধের মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো ফরাসি তদন্তকারীদের হস্তগত হয়।
তদন্ত অনুযায়ী, ইরাকি নাগরিক মোহাম্মদ এ.-এস. প্যারিসের ওই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। চলতি বছরের মার্চ থেকে মে মাসের মধ্যে ইউরোপে মার্কিন স্থাপনা এবং ইহুদি সম্প্রদায়ের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে মোট ১৮টি হামলা অথবা হামলার পরিকল্পনার সঙ্গে তার যোগসূত্র রয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তাকে মে মাসে তুরস্কে গ্রেপ্তার করে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র এবং ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের চেষ্টার অভিযোগে মামলা চলছে।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত ২৭ থেকে ২৮ মার্চের মধ্যবর্তী রাতে। প্যারিসের অষ্টম অ্যারোন্ডিসমেন্টে ব্যাংক অব আমেরিকার কার্যালয়ের সামনে হাতে তৈরি বিস্ফোরক সক্রিয় করার সময় দুই কিশোরকে পুলিশ আটক করে। ফরাসি বিশেষজ্ঞরা বিস্ফোরকটিকে অত্যন্ত শক্তিশালী হিসেবে চিহ্নিত করেন। কিশোরদের ভাষ্যমতে, একজন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে কয়েকশ ইউরোর বিনিময়ে তাদের এই নাশকতার কাজে নিয়োগ করা হয়েছিল, যদিও তারা হামলার মূল উদ্দেশ্য সম্পর্কে পুরোপুরি জানত না। প্যারিসের ব্যাংক অব আমেরিকার ঘটনাতেও এমন একটি কাঠামোর অস্তিত্বের ইঙ্গিত পেয়েছেন তদন্তকারীরা। পরবর্তীতে সেই নজরদারির মধ্যেই দুই কিশোরকে বিস্ফোরকসহ আটক করা সম্ভব হয়।
তদন্তে উঠে এসেছে যে, সন্দেহভাজন মোহাম্মদ এ.-এস. ইরাকভিত্তিক শিয়া সশস্ত্র সংগঠন কাতায়েব হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুক্ত। যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে সংগঠনটিকে সন্ত্রাসী তালিকাভুক্ত করেছে। একই সঙ্গে হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের গভীর সম্পর্কের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও ফ্রান্সের পক্ষ থেকে সরাসরি ইরান সরকারকে এই হামলার নির্দেশদাতা হিসেবে এখনই চিহ্নিত করা হয়নি, তবে তদন্তের মূল লক্ষ্য এখন ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠী, তাদের সহযোগী এবং ইউরোপে সক্রিয় বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারী। ফলে হামলার সঙ্গে ইরান সরকারের সরাসরি সম্পৃক্ততা কিংবা রাষ্ট্রীয় নির্দেশের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।
এফবিআইয়ের তদন্ত থেকে আরও জানা গেছে, হামলায় সরাসরি সদস্যদের ব্যবহার না করে স্থানীয় অপরাধী এবং মাদক পাচারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজে লাগানো হতো। এতে পরিকল্পনাকারীদের পরিচয় গোপন রাখা সহজ হয়। প্যারিসের এই ঘটনার কয়েক দিন আগে টেলিগ্রামে ব্যাংকটির বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। তদন্তে ‘হারাকাত আশাব আল-ইয়ামিন আল-ইসলামিয়া’ (এইচএওয়াইআই) নামের একটি সংগঠনের তথ্যও পাওয়া গেছে, যা কাতায়েব হিজবুল্লাহর একটি ফ্রন্ট সংগঠন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সন্দেহভাজন মোহাম্মদ এ.-এস.-এর একটি কথোপকথনের রেকর্ড থেকে ইউরোপে সংঘটিত কয়েকটি হামলার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলেছে। এছাড়া, মার্কিন একজন গোপন এজেন্ট মেক্সিকোর অপরাধী চক্রের সদস্য সেজে তার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেছিলেন। সেই সুবাদে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে একটি ইহুদি উপাসনালয়ে হামলার জন্য অর্থ ও নির্দেশনা প্রদানের চেষ্টা করেছিলেন।
প্যারিসের ঘটনার প্রেক্ষিতে ফ্রান্সের তদন্তও জোরদার করা হয়েছে। জুলাইয়ের শেষে এবং আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে বেলজিয়াম থেকে বিস্ফোরক পরিবহনের দায়ে দুই বেলজিয়ান নারীকে আটক করা হয়। এখন পর্যন্ত মোট ছয়জন সন্দেহভাজনকে এই মামলার আওতায় আনা হয়েছে। ফরাসি কর্তৃপক্ষ এখন খতিয়ে দেখছে, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে স্থানীয় অপরাধী চক্রকে ব্যবহার করে এমন কোনো সমন্বিত নেটওয়ার্ক বড় ধরনের কোনো পরিকল্পিত নাশকতা চালাচ্ছে কি না। এই ব্যর্থ বোমা হামলাটি ইউরোপের নিরাপত্তা ঝুঁকির এক নতুন এবং উদ্বেগজনক সংকেত বহন করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ওই হুমকির পর ব্যাংকের আশপাশে পুলিশি টহল বাড়ানো হয়। ফ্রান্সসহ ইউরোপীয় দেশগুলোর জন্য এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, বিদেশি সংঘাতের প্রভাব ইউরোপের মাটিতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে কি না।
সূত্র: মানবজমিন
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ

























