ঢাকা ০৯:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

এলপিজি সংকটে বাজার অস্থির

ঢাকা মহানগর প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৮:০৩:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬ ২৫ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

এলপিজি সংকটে বাজার অস্থির

 

তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম পুনর্নির্ধারণ করা হলেও দেশের বাজারে এর সরবরাহ সংকট রয়েই গেছে। খুচরা বিক্রেতা ও পরিবেশকদের অভিযোগ, চাহিদা অনুযায়ী তারা পণ্য পাচ্ছেন না। বর্তমানে দেশে বহুল ব্যবহৃত ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে বিভিন্ন কোম্পানির দামে পার্থক্য থাকায় বাজারে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এলপিজি সিলিন্ডার: পাতে টান পড়েছিল আগেই, এবার কি ভাতেও টান পড়বে।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ৪ অক্টোবর অক্টোবরের জন্য ১২ কেজি সিলিন্ডারের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছিল। আগের মাসে এই নির্ধারিত দাম ছিল ১ হাজার ৫‌৮৫ টাকা। অথচ বাজারে বর্তমানে একই সিলিন্ডার ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত মূল্যে বিক্রি হচ্ছে।

পড়ুন>>কুড়িগ্রামে দুই উপজেলায় শিক্ষক বদলিতে একই কায়দায় অনিয়ম

মিরপুরের শেওড়াপাড়ার বাসিন্দা তামান্না আখতার জানিয়েছেন, গত বুধবার তার বাসায় সরবরাহ করা একটি সিলিন্ডারের জন্য ২ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া হয়েছে, যা সরকারি দামের চেয়ে ৬৬৩ টাকা বেশি। গত মাসে ১২ কেজি সিলিন্ডারের নির্ধারিত দাম ছিল ১ হাজার ৫৮৫ টাকা।

এ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি ৬ অক্টোবর বিইআরসির কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছে। সমিতির সভাপতি মো. সেলিম খানের সই করা এই চিঠিতে বলা হয়েছে, কোম্পানিগুলো তাদের নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৭৪০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করেছে।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, লাইসেন্স ফি ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ বাড়ায় সরকার নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার বিক্রি করা ব্যবসায়ীদের জন্য অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, প্রতি সিলিন্ডারে তাদের অন্তত ১৫০ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে, অথচ তারা মাত্র ৪০ টাকা মুনাফা প্রত্যাশা করেন।

 

এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে চিঠির অনুলিপি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরেও পাঠানো হয়েছে। সিলিন্ডার ট্রাকে ওঠানো-নামানো ও খুচরা বিক্রেতার কাছে পৌঁছাতে খরচ ৩৫ টাকা। আর কর্মচারী, গোডাউন ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, লাইসেন্স ফি ও অন্যান্য খরচ মেটাতে ২৫ টাকা লাগছে। প্রতি মাসেই দাম সমন্বয় করে সংস্থাটি। এতে সব মিলে সিলিন্ডারপ্রতি পরিবেশক পর্যায়ে ১৫০ টাকা দরকার।

পড়ুন>>তাড়াশে চলনবিল পুনরুদ্ধার ও উন্নয়ন নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানিয়েছেন, তারা ব্যবসায়ীদের চিঠি পেয়েছেন, তবে কোনো ধরনের গণশুনানি ছাড়া দাম সমন্বয়ের সুযোগ নেই। আগামী রোববার কমিশন সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে। নতুন সিদ্ধান্তের আগপর্যন্ত নির্ধারিত দামে পণ্য বিক্রির বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনার কথা জানিয়েছেন তিনি। উল্লেখ্য, ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে কমিশন এই পণ্যের দাম নির্ধারণ করে আসছে, যেখানে পরিবেশকদের কমিশন সিলিন্ডারপ্রতি ৫০ টাকা ধরা রয়েছে, যা বাড়ানোর দাবি ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের। পাঁচ বছর ধরে তারা পাচ্ছে ৫০ টাকা করে।

বর্তমানে দেশে এলপিজির বার্ষিক চাহিদা ১৫ লাখ টনের বেশি। প্রায় এক কোটি গ্রাহক এই গ্যাস ব্যবহার করেন, যার ৮০ শতাংশই গৃহস্থালি কাজে। খাতের ৯৯ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে বেসরকারি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। মেঘনা ফ্রেশ, ওমেরা, আইগ্যাস, যমুনা, পেট্রোম্যাক্স ও বিএম-এর মতো কোম্পানিগুলো বর্তমানে বাজারে সরবরাহ দিচ্ছে। এলপিজি ফিলিং স্টেশন মালিক সমিতির মহাসচিব হাসিন পারভেজ জানিয়েছেন, প্রতিটি স্টেশন মাসে যেখানে ৩০ টন গ্যাস পায়, সেখানে এখন মাত্র ৫-৬ টন সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে, যার ফলে তারা লোকসানের মুখে পড়েছেন।

অন্যদিকে, আমদানিকারকদের সংগঠন লোয়াব জানিয়েছে, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে যথাক্রমে ১ লাখ ৫৮ হাজার ও ১ লাখ ৫৬ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি আমদানি করা হয়েছে, অর্থাৎ আমদানির পরিমাণ স্বাভাবিক। এদিকে বাজারে বাড়তি দাম নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত তদারকি করছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। সংস্থাটির পরিচালক আতিয়া সুলতানা জানিয়েছেন, ২ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত সারা দেশে ২৪২টি অভিযানে ৪৭৮টি প্রতিষ্ঠানকে শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে এবং মোট ১১ লাখ ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন>>সংযুক্ত আরব আমিরাতে বৃষ্টির কামনায় বিশেষ ইস্তিসকার নামাজ

পরিবেশকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যদি তাদের দাবি না মানা হয় বা নির্ধারিত দামে বিক্রির ফলে লোকসানের সুরাহা না হয়, তবে তারা এলপিজি বিক্রি বন্ধ রাখার মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হতে পারেন। সরবরাহ সংকটের সুযোগে কোনো কোনো কোম্পানি কোনো সিলিন্ডার সরবরাহ না করেও ১ হাজার ৯৬০ থেকে ২ হাজার টাকার মূল্যতালিকা ঝুলিয়ে রেখেছে, যা বাজার ব্যবস্থাকে আরও জটিল করে তুলেছে।

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

এলপিজি সংকটে বাজার অস্থির

আপডেট সময় : ০৮:০৩:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

 

এলপিজি সংকটে বাজার অস্থির

 

তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম পুনর্নির্ধারণ করা হলেও দেশের বাজারে এর সরবরাহ সংকট রয়েই গেছে। খুচরা বিক্রেতা ও পরিবেশকদের অভিযোগ, চাহিদা অনুযায়ী তারা পণ্য পাচ্ছেন না। বর্তমানে দেশে বহুল ব্যবহৃত ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে বিভিন্ন কোম্পানির দামে পার্থক্য থাকায় বাজারে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এলপিজি সিলিন্ডার: পাতে টান পড়েছিল আগেই, এবার কি ভাতেও টান পড়বে।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ৪ অক্টোবর অক্টোবরের জন্য ১২ কেজি সিলিন্ডারের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছিল। আগের মাসে এই নির্ধারিত দাম ছিল ১ হাজার ৫‌৮৫ টাকা। অথচ বাজারে বর্তমানে একই সিলিন্ডার ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত মূল্যে বিক্রি হচ্ছে।

পড়ুন>>কুড়িগ্রামে দুই উপজেলায় শিক্ষক বদলিতে একই কায়দায় অনিয়ম

মিরপুরের শেওড়াপাড়ার বাসিন্দা তামান্না আখতার জানিয়েছেন, গত বুধবার তার বাসায় সরবরাহ করা একটি সিলিন্ডারের জন্য ২ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া হয়েছে, যা সরকারি দামের চেয়ে ৬৬৩ টাকা বেশি। গত মাসে ১২ কেজি সিলিন্ডারের নির্ধারিত দাম ছিল ১ হাজার ৫৮৫ টাকা।

এ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি ৬ অক্টোবর বিইআরসির কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছে। সমিতির সভাপতি মো. সেলিম খানের সই করা এই চিঠিতে বলা হয়েছে, কোম্পানিগুলো তাদের নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৭৪০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করেছে।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, লাইসেন্স ফি ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ বাড়ায় সরকার নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার বিক্রি করা ব্যবসায়ীদের জন্য অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, প্রতি সিলিন্ডারে তাদের অন্তত ১৫০ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে, অথচ তারা মাত্র ৪০ টাকা মুনাফা প্রত্যাশা করেন।

 

এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে চিঠির অনুলিপি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরেও পাঠানো হয়েছে। সিলিন্ডার ট্রাকে ওঠানো-নামানো ও খুচরা বিক্রেতার কাছে পৌঁছাতে খরচ ৩৫ টাকা। আর কর্মচারী, গোডাউন ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, লাইসেন্স ফি ও অন্যান্য খরচ মেটাতে ২৫ টাকা লাগছে। প্রতি মাসেই দাম সমন্বয় করে সংস্থাটি। এতে সব মিলে সিলিন্ডারপ্রতি পরিবেশক পর্যায়ে ১৫০ টাকা দরকার।

পড়ুন>>তাড়াশে চলনবিল পুনরুদ্ধার ও উন্নয়ন নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানিয়েছেন, তারা ব্যবসায়ীদের চিঠি পেয়েছেন, তবে কোনো ধরনের গণশুনানি ছাড়া দাম সমন্বয়ের সুযোগ নেই। আগামী রোববার কমিশন সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে। নতুন সিদ্ধান্তের আগপর্যন্ত নির্ধারিত দামে পণ্য বিক্রির বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনার কথা জানিয়েছেন তিনি। উল্লেখ্য, ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে কমিশন এই পণ্যের দাম নির্ধারণ করে আসছে, যেখানে পরিবেশকদের কমিশন সিলিন্ডারপ্রতি ৫০ টাকা ধরা রয়েছে, যা বাড়ানোর দাবি ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের। পাঁচ বছর ধরে তারা পাচ্ছে ৫০ টাকা করে।

বর্তমানে দেশে এলপিজির বার্ষিক চাহিদা ১৫ লাখ টনের বেশি। প্রায় এক কোটি গ্রাহক এই গ্যাস ব্যবহার করেন, যার ৮০ শতাংশই গৃহস্থালি কাজে। খাতের ৯৯ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে বেসরকারি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। মেঘনা ফ্রেশ, ওমেরা, আইগ্যাস, যমুনা, পেট্রোম্যাক্স ও বিএম-এর মতো কোম্পানিগুলো বর্তমানে বাজারে সরবরাহ দিচ্ছে। এলপিজি ফিলিং স্টেশন মালিক সমিতির মহাসচিব হাসিন পারভেজ জানিয়েছেন, প্রতিটি স্টেশন মাসে যেখানে ৩০ টন গ্যাস পায়, সেখানে এখন মাত্র ৫-৬ টন সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে, যার ফলে তারা লোকসানের মুখে পড়েছেন।

অন্যদিকে, আমদানিকারকদের সংগঠন লোয়াব জানিয়েছে, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে যথাক্রমে ১ লাখ ৫৮ হাজার ও ১ লাখ ৫৬ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি আমদানি করা হয়েছে, অর্থাৎ আমদানির পরিমাণ স্বাভাবিক। এদিকে বাজারে বাড়তি দাম নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত তদারকি করছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। সংস্থাটির পরিচালক আতিয়া সুলতানা জানিয়েছেন, ২ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত সারা দেশে ২৪২টি অভিযানে ৪৭৮টি প্রতিষ্ঠানকে শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে এবং মোট ১১ লাখ ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন>>সংযুক্ত আরব আমিরাতে বৃষ্টির কামনায় বিশেষ ইস্তিসকার নামাজ

পরিবেশকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যদি তাদের দাবি না মানা হয় বা নির্ধারিত দামে বিক্রির ফলে লোকসানের সুরাহা না হয়, তবে তারা এলপিজি বিক্রি বন্ধ রাখার মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হতে পারেন। সরবরাহ সংকটের সুযোগে কোনো কোনো কোম্পানি কোনো সিলিন্ডার সরবরাহ না করেও ১ হাজার ৯৬০ থেকে ২ হাজার টাকার মূল্যতালিকা ঝুলিয়ে রেখেছে, যা বাজার ব্যবস্থাকে আরও জটিল করে তুলেছে।

 

Facebook Comments Box