নানামুখী সংকটে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত ভূরুঙ্গামারীর নিম্ন আয়ের মানুষ : দৈনিক সৃষ্টি নিউজ
  1. admin@sristy.net : admin :
নানামুখী সংকটে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত ভূরুঙ্গামারীর নিম্ন আয়ের মানুষ : দৈনিক সৃষ্টি নিউজ
সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ০২:২৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :

নানামুখী সংকটে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত ভূরুঙ্গামারীর নিম্ন আয়ের মানুষ

সৃষ্টি স্বাস্থ্য ডেস্ক
  • প্রকাশিত : সোমবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২২
নানামুখী সংকটে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত ভূরুঙ্গামারীর নিম্ন আয়ের মানুষ

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার স্বাস্থ্য খাতে নানামুখী সংকটে চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেনা  নিম্ন আয়ের মানুষ।

বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ১৮ জন চিকিৎসক নেই। এ ছাড়াও জনবলসহ চিকিৎসা উপকরণ স্বল্পতার কারণে সেবাবঞ্চিত হচ্ছেন প্রত্যন্ত অঞ্চলের নিম্ন আয়ের মানুষ।

 

মেডিসিন, সার্জারি, গাইনি, শিশুরোগ, কার্ডিওলজি, চক্ষু, অর্থোপেডিকস, নাক, কান ও গলা এবং চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ জুনিয়র কনসালট্যান্ট পদে কোন চিকিৎসক নেই।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ভূরুঙ্গামারীতে ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।এছাড়াও উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং পাঁচটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণকেন্দ্র রয়েছে।

এসব স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ১৮টি বিভিন্ন চিকিৎসকের পদ শূণ‍্য ও চিকিৎসা উপকরণস্বল্পতা রয়েছে।

জেনে নিন>>> কোষ্ঠকাঠিন্যসহ এক হাজারেরও অধিক রোগ উপশম করে সোনাপাতার

 

একাধিক পদে কোন চিকিৎসক নেই:

ভূরুঙ্গামারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১১টি জুনিয়র কনসালট্যান্টের পদ রয়েছে। কিন্তু  এক জন জুনিয়র কনসালট্যান্ট  রয়েছেন। মেডিসিন, সার্জারি, গাইনি, শিশুরোগ, কার্ডিওলজি, চক্ষু, অর্থোপেডিকস, নাক, কান ও গলা এবং চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ জুনিয়র কনসালট্যান্ট পদে কোন চিকিৎসক নেই।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে, আল্ট্রাসনোগ্রাম ও ইসিজি- সুবিধা চালু থাকলে, একদিকে নিম্ন আয়ের মানুষ স্বল্পমূল্যে সেবা পাবে, অন্যদিকে সরকার এখান থেকে নিয়মিত বিপুল পরিমাণে রাজস্ব আয় হবে।

এ ছাড়া অনেক দিন থেকে ডেন্টাল সার্জনের পদ ফাঁকা রয়েছে। নির্ভুল রোগনির্ণয়ের সুবিধার্থে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে, আল্ট্রাসনোগ্রাম ও ইসিজি-সুবিধা থাকলেও  রোগনির্ণয়ের ক্ষেত্রে রোগীরা এসব সুবিধা পাচ্ছেন না।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে মেশিন থাকলেও অনেক দিন থেকেই বিকল। দুটি আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিনের একটি নষ্ট। চারটি ইসিজি মেশিনের তিনটি অকেজো। নেই এক্স-রে মেশিন চালানোর টেকনিশিয়ান ।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির অপারেশন থিয়েটারে অপারেশন টেবিল শূন্য রয়েছে। এর সঙ্গে নেই অপারেশন লাইট। এতে দরিদ্র রোগীরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে অপারেশনের সুবিধা পাচ্ছেন না।

উপজেলার শিলখুড়ী, চর ইউনিয়ন ভূরুঙ্গামারী, সোনাহাট ও শাহীবাজারে চারটি উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে। এসব উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে একজন করে মেডিকেল অফিসারের পদ থাকলেও শিলখুড়ী, চর ভূরুঙ্গামারী ও শাহীবাজার উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে মেডিকেল বন্ধই থাকে। অফিসার নেই।
জেনে নিন>> সুপার ফুড মিরাক্কেল শাক সজনে পাতা

 

উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে উপসহকারী কমিউনিটি মাছিকেল অফিসার (স্যাকম) নামে পদ রয়েছে। সোনাহাট ও শাহীবাজার উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল খরচ করতে হয়। অফিসার নেই। এ ছাড়া উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে একজন করে ফার্মাসিস্ট থাকেন। চর ভূরুঙ্গামারী, শিলখুড়ী ও শাহীবাজার উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেই ফার্মাসিস্ট।

পর্যাপ্ত লোকবল না থাকায় উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলো সপ্তাহের অধিকাংশ সময় বন্ধ থাকে। এতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের নিম্ন আয়ের মানুষ হাতের নাগালে স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছেন না। করতে পারবে।

উপজেলার পাথরডুবি, তিলাই, পাইকেরছড়া, জয়মনিরহাট এবং আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নে পাঁচটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণকেন্দ্র রয়েছে। এসব স্বাস্থ্যকেন্দ্রে একজন করে সহকারী সার্জন চিকিৎসক হিসেবে থাকার কথা থাকলেও পাথরডুবি, তিলাই, পাইকেরছড়া এবং জয়মনিরহাট ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণকেন্দ্রে সহকারী সার্জনের পদে কোন লোক নেই।

ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে একজন করে স্যাকম পদ থাকলে পাথরডুবি, তিলাই, জয়মনিরহাট এবং আন্ধারীঝাড় স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণকেন্দ্রে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার নেই।

শিলখুড়ী ইউনিয়নের বাসিন্দা সামসুল আলম জানান, এই ইউনিয়নের স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি বেশির ভাগ সময়ে বন্ধ থাকে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আগত তার রোগীর স্বজনেরা জানান, ‘স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে ও আলট্রাসনোগ্রাম হয় না। এসবের জন্য বেসরকারি ক্লিনিকে ছুটতে হয়।

তাতে বেশি টাকা। কিন্তু বেশি টাকা খরচ করার সামর্থ নাই। তাই এখানে  আছি।
পড়ুন>>অ্যানিমিয়া অথবা রক্তস্বল্পতা থেকে রেহাই পেতে প্রাকৃতিক ভাবে রক্তের হিমোগ্লোবিন বাড়ানোর কৌশল

পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত কয়েকজন জানান, ‘স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে, আল্ট্রাসনোগ্রাম ও ইসিজি- সুবিধা চালু থাকলে, একদিকে নিম্ন আয়ের মানুষ স্বল্পমূল্যে সেবা পাবে, অন্যদিকে সরকার এখান থেকে নিয়মিত বিপুল পরিমাণে রাজস্ব আয় হবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবু সাজ্জাদ মোহম্মদ সায়েম জানান, চিকিৎসক ও চিকিৎসা উপকরণস্বল্পতার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। চিকিৎসক ও উপকরণস্বল্পতা দূর হলে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া সম্ভব হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর















error: Content is protected !!