টাঙ্গাইলে এক নারী সাংবাদিককে অশালীন, কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকর কথা বলে হেনস্তা করার ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাব। গত ৩১ আগস্ট সোমবার প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কাজী জাকেরুল মাওলা। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে এটিএন বাংলার টাঙ্গাইল প্রতিনিধি নাসির উদ্দিনকে। এছাড়া সদস্য হিসেবে রয়েছেন নয়া দিগন্তের প্রতিনিধি মালেক আদনান এবং যমুনা টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার শামীম আল মামুন।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক রুমি আক্তার পলি গ্লোবাল টেলিভিশনের টাঙ্গাইল প্রতিনিধি, বিশেষ প্রতিবেদক এবং দৈনিক বাংলাদেশের আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক হিসেবে কর্মরত। তাকে হেনস্তার ঘটনায় প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছিলেন তিনি।
পলি জানান, তদন্ত কমিটি গঠনের আগে তাকে এবং অভিযুক্ত অলোক কুমার দাসকে কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় ডাকা হয়েছিল। সেখানে তাকে সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে সমঝোতার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন।
পলি আরও জানান, ২৬ আগস্ট সাধারণ সম্পাদক কাজী জাকেরুল মাওলা ও সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট জাফর আহমেদের উপস্থিতিতে এক সহকর্মী ঘটনার সত্যতা তুলে ধরেন। সে সময় বর্তমান সভাপতি আতাউর রহমান আজাদ এবং সাবেক সভাপতি জাফর আহমেদ অলোক কুমার দাসের আচরণের বিষয়টি অস্বীকার করেননি। তবুও তদন্ত কমিটি গঠন করায় প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগী।
অভিযোগ রয়েছে, লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পলির ছবি ব্যবহার করে আপত্তিকর মন্তব্য করা হচ্ছে। এ ঘটনায় গত ২৮ আগস্ট তিনি টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
জানা গেছে, অলোক কুমার দাসের বিরুদ্ধে এর আগেও পলিকে অশালীন কথা বলার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া সাংবাদিক নাহার চাকলাদার ও গ্রীন টেলিভিশনের এক প্রতিনিধির সঙ্গেও একই ধরনের আচরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে তার বিরুদ্ধে।
টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সদস্য হওয়ার পর থেকেই অলোক কুমার দাসের আচরণ নিয়ে সাংবাদিকদের একটি অংশের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। এমনকি তার সদস্যপদ পাওয়ার প্রক্রিয়া নিয়েও বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে বলে একাধিক সাংবাদিক দাবি করেছেন।
Leave a Reply