মার্কিন রাজনীতিতে ইসরায়েলবিরোধী অবস্থানের প্রভাব: তরুণ প্রজন্মের দৃষ্টিভঙ্গিতে কি বড় পরিবর্তন আসছে?
- আপডেট সময় : ০৪:৩৩:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩৪ বার পড়া হয়েছে
মার্কিন রাজনীতিতে ইসরায়েলবিরোধী অবস্থানের প্রভাব: তরুণ প্রজন্মের দৃষ্টিভঙ্গিতে কি বড় পরিবর্তন আসছে?
আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে একটি সূক্ষ্ম অথচ গভীর পরিবর্তন পরিলক্ষিত হচ্ছে। এর প্রথম বড় আভাস পাওয়া গিয়েছিল নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচনে জোহরান মামদানির উত্থানের মধ্য দিয়ে। ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক শক্তির অন্যতম প্রভাবশালী মুখ অ্যান্ড্রু কুওমোকে প্রাইমারিতে পরাজিত করে মামদানি নিউইয়র্কের রাজনীতিতে নতুন ধারার সূচনা করেন।
তিনি গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে প্রকাশ্যে ‘গণহত্যা’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। নির্বাচনী প্রচারে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার চেষ্টা করবেন। তার এই অবস্থানের বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী ইসরায়েলপন্থী লবিং গ্রুপ এআইপ্যাক ও অন্যান্য সংগঠন প্রায় ৩০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছিল।
পড়ুন>>জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা, তদন্তের নির্দেশ সিআইডিকে
মিশিগানের ২০২৬ সালের ডেমোক্রেটিক সিনেট প্রাইমারিতে এল-সাইয়েদের বিজয় বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।
তিনি ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তার বিরোধিতা করে এবং প্রচলিত রাজনৈতিক অর্থায়নের কাঠামোকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে জয়লাভ করেন।
এছাড়া আফগান-আমেরিকান ও মুসলিম রাজনীতিক ওয়াহাব ক্যালিফোর্নিয়ার ১৪তম ডিস্ট্রিক্টে ডেমোক্রেটিক প্রার্থী হিসেবে নিজের অবস্থান বেশ শক্তিশালী করেছেন। গাজার ধ্বংসস্তূপ, নিহত শিশু, উদ্বাস্তু মানুষের দীর্ঘ সারি ও হাসপাতালের করুণ দৃশ্যগুলো এখন আমেরিকার ঘরে ঘরে পৌঁছে যাচ্ছে, যা বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করছে।
পড়ুন>>আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায় নিলেন মেসি: যেভাবে সংবর্ধনা দেবে আর্জেন্টিনা
পিউ রিসার্চ সেন্টারের ২০২৬ সালের জরিপ অনুযায়ী, ৬০ শতাংশ আমেরিকান ইসরায়েল সম্পর্কে নেতিবাচক মত দিয়েছেন, যেখানে ২০২২ সালে এই হার ছিল ৪২ শতাংশ। ডেমোক্রেট ও ডেমোক্রেট-ঘেঁষা ভোটারদের মধ্যে এই নেতিবাচক মনোভাব ৮০ শতাংশে পৌঁছেছে।
বিশেষ করে ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সী আমেরিকানদের মধ্যে মাত্র ৩২ শতাংশ ইসরায়েলিদের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন, বিপরীতে ৫৮ শতাংশ ফিলিস্তিনিদের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব রাখেন।
আরও পড়ুন>>কাতারে মাধ্যমিক পরীক্ষায় সফল শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিলেন আমীর শেখ তামিম
এপি-নর্ক জরিপেও দেখা গেছে, ৫৮ শতাংশ ডেমোক্রেট মনে করেন যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে অতিরিক্ত সমর্থন করছে, যা ২০২৪ সালের শুরুতে ছিল ৪৫ শতাংশ। অন্যদিকে, পিউ রিসার্সের জরিপে রিপাবলিকানদের ৫৮ শতাংশ ইসরায়েল সম্পর্কে ইতিবাচক মত দিয়েছেন।
২০২৬ সালের ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিগুলোতে ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা, অস্ত্র সরবরাহ এবং এআইপ্যাকের রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে যে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা তরুণ ভোটারদের রাজনৈতিক চিন্তাধারাকে বদলে দিচ্ছে। আজকের ২০ বছরের তরুণ ভোটাররাই আগামী দিনের ভোটার। ফলে ২০২৮ সালের সম্ভাব্য প্রগতিশীল প্রেসিডেন্ট প্রার্থীকে ইসরায়েলের প্রতি আমেরিকার নীতি ও এর পরিবর্তনের রূপরেখা নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান নিতে হবে। এই ইস্যুটি দুই দলের মধ্যকার পুরোনো বিভাজনকে আরও তীব্র করতে পারে, যা ২০২৮ সালের নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
























