ঢাকা ০১:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা: সৌদি ও কাতারে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র লালমনিরহাটে জমির বিরোধ মিমাংসার নামে  নারীকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ কোটালীপাড়ায় শিক্ষিকাকে উত্ত্যক্তের জেরে যুবককে নিরাপত্তা ঘটনায়, হাসপাতালে আবার বাড়ল এলপিজির দাম, আজ থেকেই কার্যকর পূজায় গুজব ছড়ালে কঠোর ব্যবস্থা: চট্টগ্রাম পুলিশ সুপার রাণীশংকৈলে বিষাক্ত ট্যাবলেট খেয়ে পল্লী বিদ্যুতের কর্মচারীর মৃত্যু বাংলাদেশ শুটিং ফেডারেশনের অ্যাডহক কমিটির কার্যক্রমে আইনি বাধা কাটল নিরাপদ রাখতে ব্যর্থ সরকারের প্রয়োজন নেই: শফিকুর রহমান শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা: ইয়াশের কোল থেকে দুইবার পড়লেন নীহা ভারত-বাংলাদেশ দীর্ঘস্থায়ী বন্ধন মুছে যাবে না: এম জে আকবর

কুড়িগ্রামে ৩৬ পয়েন্টে ভাঙনে ভিটেবাড়ি ছাড়া ৫ শতাধিক পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১১:৫৬:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬ ৩৮৯৯৮ বার পড়া হয়েছে

কুড়িগ্রামে ৩৬ পয়েন্টে ভাঙনে ভিটেবাড়ি ছাড়া ৫ শতাধিক পরিবার।

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

কুড়িগ্রামে ৩৬ পয়েন্টে ভাঙনে ভিটেবাড়ি ছাড়া ৫ শতাধিক পরিবার

 

​বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই একদিকে আকস্মিক বন্যা, অন্যদিকে তীব্র নদীভাঙনের দ্বিমুখী আঘাতে লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়েছে কুড়িগ্রাম জেলার বিস্তীর্ণ জনপদ। জেলার প্রধান পাঁচটি নদ-নদী—ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার ও কালজানীতে একযোগে শুরু হওয়া আগ্রাসী ভাঙনে প্রতিদিন নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, আবাদি জমি, গ্রামীণ সড়ক ও গাছপালা। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের তথ্যমতে, ইতোমধ্যে জেলার প্রায় পাঁচ শতাধিক পরিবার তাদের শেষ সম্বল হারিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে।

​পড়ুন>> কাউনিয়ায় তিস্তার পানি বৃদ্ধি নিম্নাঞ্চল প্লাবিত 

 

 

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৩৬টি পয়েন্টে মোট ১১ দশমিক ২৪৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বর্তমানে তীব্র ভাঙন চলছে। ভাঙন আতঙ্কে নদীপাড়ের বাসিন্দারা রাত জেগে ঘরবাড়ি পাহারা দিচ্ছেন।
​নদীভিত্তিক ভাঙন পরিস্থিতি ও প্লাবিত এলাকা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, জেলার পাঁচটি নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে ভাঙনের চিত্র অত্যন্ত ভয়াবহ।

​

 

 

 

    দুধকুমার নদী:

 

 

 

এই নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তীব্র স্রোতে সদর উপজেলার খাড়ুয়ারপাড় ও বানিয়াপাড়া; নাগেশ্বরীর বেপারীর চর, সাপখাওয়া, মাঝিপাড়া, কুটিরচর, মণ্ডলপাড়া, বলরামপুর ও দামালগ্রাম এলাকায় প্রতিনিয়ত ফসলি জমি ও ঘরবাড়ি নদীগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে।

​

 

 

 ধরলা নদী:

 

 

 

সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের সাটকালুয়া ও জগমনের চর,ফুলবাড়ী উপজেলার গোরকমণ্ডপ এবং বড়ভিটার পশ্চিম ধনিরাম এলাকায় তীব্র ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।

​

 

 

ব্রহ্মপুত্র নদ:

 

 

 

সদর উপজেলার গোয়াইলপুরী ও পার্বতীপুর, নাগেশ্বরীর ঝাউকুটি, পাগলার বাজার ও বালারহাট, উলিপুরের দইখাওয়ার চর, রসুলপুর ও জলঙ্গারকুটি; চিলমারীর কাচকোল, রৌমারীর সোনাপুর, গেন্দার আলগা, খেদাইমারী ও সুখেরবাতি এবং রাজিবপুর উপজেলার সাজাই, পাইকানটারী ও বল্লবপাড়াসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় ভাঙন চলছে।

​তিস্তা নদী:

রাজারহাট উপজেলার হাঁসারপাড়, রামহরি, চর বিদ্যানন্দ এবং উলিপুর উপজেলার হোকডাঙ্গা ও গোড়াইপিয়ার এলাকায় নদীর আগ্রাসন দিন দিন বাড়ছে।

​কালজানি নদী:

ভূরুঙ্গামারী উপজেলার উত্তর ধলডাঙ্গা ও বউবাজার এলাকায় নতুন করে ভাঙন আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এছাড়া সদরের সারোডোব ও ভূরুঙ্গামারীর পাইকডাঙ্গাসহ বেশ কিছু নতুন এলাকায় ভাঙন শুরু হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

​

পাউবো জানায়, তিস্তা, ধরলা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি এখনও বিপৎসীমার নিচে থাকলেও উজানের ঢল অব্যাহত থাকায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
​
​

ভাঙনের মুখে পড়া মানুষের মাঝে চরম হাহাকার দেখা দিয়েছে। উলিপুর উপজেলার মোল্লারহাট এলাকার খুদিরকুঠি গ্রামের বাসিন্দা মোঃ মোখলেছুর রহমান বলেন,
​প্রতিদিন নদী কয়েক হাত করে এগিয়ে আসছে। কখন যে বাড়িভিটা নদীতে চলে যায়, সেই ভয়ে পরিবার নিয়ে রাত জেগে থাকি।

​

আরও পড়ুন>>ভূরুঙ্গামারীর ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা পেলেন প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলের অর্থ সহায়তা

 

রৌমারীর উপজেলার চর শৌলমারী ইউনিয়নের খেদাইমারী এলাকার ছকিনা বেগম বলেন, একবার নদী ঘর নিয়ে গেছে। আবার কষ্ট করে ঘর তুলেছি। এখন সেই ঘরও ভাঙনের মুখে। কোথায় যাব, বুঝতে পারছি না।

​

 

 

 

একইভাবে নিজের ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করেন উলিপুরের গোড়াইপিয়ার এলাকার কৃষক আমিনুর রহমান, তিনি বলেন, আবাদিজমি নদীতে গেছে, এখন বাড়িও যাবে। আমাদের মতো মানুষের বাঁচার আর কোনো উপায় নেই।
​
​

 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, ভাঙন প্রতিরোধে ইতোমধ্যে ৩ কোটি ৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ১ লাখ বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেলে ৫ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার এলাকায় জরুরি প্রতিরক্ষামূলক কাজ চালানো হচ্ছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরও জরুরি বরাদ্দের প্রয়োজন।

​

 

 

 

চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদ, কুড়িগ্রামের সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, “একদিকে বন্যা, অন্যদিকে নদীভাঙন—এই দুই দুর্যোগে চরাঞ্চলের মানুষ চরম মানবিক সংকটে পড়েছে। উন্নত দেশগুলোতে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। কিন্তু আমাদের দেশে মানুষ সর্বস্ব হারানোর পরও অনেক সময় কোনো খোঁজ নেওয়া হয় না। বৃদ্ধ বাবা-মা, শিশু সন্তান ও গবাদিপশু নিয়ে তারা কোথায় যাবে, সেই প্রশ্নের উত্তর কারও কাছে নেই।”
​
​আরও পড়ুন>>পলাশবাড়ীতে নির্মানাধীন রামমূর্তিসহ বিতর্কিত সকল মূর্তি অপসারণের দাবীতে স্মারকলিপি

 

 

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা বেনজির রহমান জানিয়েছেন, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির জন্য ইতোমধ্যে সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিক জরুরি সহায়তা হিসেবে জেলায় নদী ভাঙন ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ২৭৫ মেট্রিক টন চাল, ১ লাখ ৳৬২ হাজার টাকা এবং ১ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার (যার মধ্যে চাল, ডাল, সয়াবিন তেল ও বিভিন্ন ধরণের মশলা রয়েছে) বরাদ্দ করা হয়েছে।

​

 

এদিকে জেলা উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সাইয়েদ আহমেদ বাবু বলেন,
​”বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই কুড়িগ্রামে নদীভাঙনের এমন ভয়াবহ চিত্রে উদ্বেগ বাড়ছে। নদীপাড়ের মানুষের দাবি—শুধু সাময়িক জিওব্যাগ ফেলে এই স্থায়ী সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। ভাঙন থেকে কুড়িগ্রামকে বাঁচাতে স্থায়ী নদীশাসন ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য দ্রুত উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হোক। নইলে প্রতিবছরের মতো এবারও শত শত পরিবার নদীগর্ভে হারাবে তাদের শেষ সম্বল।

 

 

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

কুড়িগ্রামে ৩৬ পয়েন্টে ভাঙনে ভিটেবাড়ি ছাড়া ৫ শতাধিক পরিবার

আপডেট সময় : ১১:৫৬:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

 

 

কুড়িগ্রামে ৩৬ পয়েন্টে ভাঙনে ভিটেবাড়ি ছাড়া ৫ শতাধিক পরিবার

 

​বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই একদিকে আকস্মিক বন্যা, অন্যদিকে তীব্র নদীভাঙনের দ্বিমুখী আঘাতে লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়েছে কুড়িগ্রাম জেলার বিস্তীর্ণ জনপদ। জেলার প্রধান পাঁচটি নদ-নদী—ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার ও কালজানীতে একযোগে শুরু হওয়া আগ্রাসী ভাঙনে প্রতিদিন নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, আবাদি জমি, গ্রামীণ সড়ক ও গাছপালা। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের তথ্যমতে, ইতোমধ্যে জেলার প্রায় পাঁচ শতাধিক পরিবার তাদের শেষ সম্বল হারিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে।

​পড়ুন>> কাউনিয়ায় তিস্তার পানি বৃদ্ধি নিম্নাঞ্চল প্লাবিত 

 

 

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৩৬টি পয়েন্টে মোট ১১ দশমিক ২৪৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বর্তমানে তীব্র ভাঙন চলছে। ভাঙন আতঙ্কে নদীপাড়ের বাসিন্দারা রাত জেগে ঘরবাড়ি পাহারা দিচ্ছেন।
​নদীভিত্তিক ভাঙন পরিস্থিতি ও প্লাবিত এলাকা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, জেলার পাঁচটি নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে ভাঙনের চিত্র অত্যন্ত ভয়াবহ।

​

 

 

 

    দুধকুমার নদী:

 

 

 

এই নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তীব্র স্রোতে সদর উপজেলার খাড়ুয়ারপাড় ও বানিয়াপাড়া; নাগেশ্বরীর বেপারীর চর, সাপখাওয়া, মাঝিপাড়া, কুটিরচর, মণ্ডলপাড়া, বলরামপুর ও দামালগ্রাম এলাকায় প্রতিনিয়ত ফসলি জমি ও ঘরবাড়ি নদীগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে।

​

 

 

 ধরলা নদী:

 

 

 

সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের সাটকালুয়া ও জগমনের চর,ফুলবাড়ী উপজেলার গোরকমণ্ডপ এবং বড়ভিটার পশ্চিম ধনিরাম এলাকায় তীব্র ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।

​

 

 

ব্রহ্মপুত্র নদ:

 

 

 

সদর উপজেলার গোয়াইলপুরী ও পার্বতীপুর, নাগেশ্বরীর ঝাউকুটি, পাগলার বাজার ও বালারহাট, উলিপুরের দইখাওয়ার চর, রসুলপুর ও জলঙ্গারকুটি; চিলমারীর কাচকোল, রৌমারীর সোনাপুর, গেন্দার আলগা, খেদাইমারী ও সুখেরবাতি এবং রাজিবপুর উপজেলার সাজাই, পাইকানটারী ও বল্লবপাড়াসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় ভাঙন চলছে।

​তিস্তা নদী:

রাজারহাট উপজেলার হাঁসারপাড়, রামহরি, চর বিদ্যানন্দ এবং উলিপুর উপজেলার হোকডাঙ্গা ও গোড়াইপিয়ার এলাকায় নদীর আগ্রাসন দিন দিন বাড়ছে।

​কালজানি নদী:

ভূরুঙ্গামারী উপজেলার উত্তর ধলডাঙ্গা ও বউবাজার এলাকায় নতুন করে ভাঙন আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এছাড়া সদরের সারোডোব ও ভূরুঙ্গামারীর পাইকডাঙ্গাসহ বেশ কিছু নতুন এলাকায় ভাঙন শুরু হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

​

পাউবো জানায়, তিস্তা, ধরলা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি এখনও বিপৎসীমার নিচে থাকলেও উজানের ঢল অব্যাহত থাকায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
​
​

ভাঙনের মুখে পড়া মানুষের মাঝে চরম হাহাকার দেখা দিয়েছে। উলিপুর উপজেলার মোল্লারহাট এলাকার খুদিরকুঠি গ্রামের বাসিন্দা মোঃ মোখলেছুর রহমান বলেন,
​প্রতিদিন নদী কয়েক হাত করে এগিয়ে আসছে। কখন যে বাড়িভিটা নদীতে চলে যায়, সেই ভয়ে পরিবার নিয়ে রাত জেগে থাকি।

​

আরও পড়ুন>>ভূরুঙ্গামারীর ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা পেলেন প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলের অর্থ সহায়তা

 

রৌমারীর উপজেলার চর শৌলমারী ইউনিয়নের খেদাইমারী এলাকার ছকিনা বেগম বলেন, একবার নদী ঘর নিয়ে গেছে। আবার কষ্ট করে ঘর তুলেছি। এখন সেই ঘরও ভাঙনের মুখে। কোথায় যাব, বুঝতে পারছি না।

​

 

 

 

একইভাবে নিজের ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করেন উলিপুরের গোড়াইপিয়ার এলাকার কৃষক আমিনুর রহমান, তিনি বলেন, আবাদিজমি নদীতে গেছে, এখন বাড়িও যাবে। আমাদের মতো মানুষের বাঁচার আর কোনো উপায় নেই।
​
​

 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, ভাঙন প্রতিরোধে ইতোমধ্যে ৩ কোটি ৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ১ লাখ বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেলে ৫ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার এলাকায় জরুরি প্রতিরক্ষামূলক কাজ চালানো হচ্ছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরও জরুরি বরাদ্দের প্রয়োজন।

​

 

 

 

চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদ, কুড়িগ্রামের সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, “একদিকে বন্যা, অন্যদিকে নদীভাঙন—এই দুই দুর্যোগে চরাঞ্চলের মানুষ চরম মানবিক সংকটে পড়েছে। উন্নত দেশগুলোতে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। কিন্তু আমাদের দেশে মানুষ সর্বস্ব হারানোর পরও অনেক সময় কোনো খোঁজ নেওয়া হয় না। বৃদ্ধ বাবা-মা, শিশু সন্তান ও গবাদিপশু নিয়ে তারা কোথায় যাবে, সেই প্রশ্নের উত্তর কারও কাছে নেই।”
​
​আরও পড়ুন>>পলাশবাড়ীতে নির্মানাধীন রামমূর্তিসহ বিতর্কিত সকল মূর্তি অপসারণের দাবীতে স্মারকলিপি

 

 

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা বেনজির রহমান জানিয়েছেন, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির জন্য ইতোমধ্যে সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিক জরুরি সহায়তা হিসেবে জেলায় নদী ভাঙন ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ২৭৫ মেট্রিক টন চাল, ১ লাখ ৳৬২ হাজার টাকা এবং ১ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার (যার মধ্যে চাল, ডাল, সয়াবিন তেল ও বিভিন্ন ধরণের মশলা রয়েছে) বরাদ্দ করা হয়েছে।

​

 

এদিকে জেলা উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সাইয়েদ আহমেদ বাবু বলেন,
​”বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই কুড়িগ্রামে নদীভাঙনের এমন ভয়াবহ চিত্রে উদ্বেগ বাড়ছে। নদীপাড়ের মানুষের দাবি—শুধু সাময়িক জিওব্যাগ ফেলে এই স্থায়ী সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। ভাঙন থেকে কুড়িগ্রামকে বাঁচাতে স্থায়ী নদীশাসন ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য দ্রুত উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হোক। নইলে প্রতিবছরের মতো এবারও শত শত পরিবার নদীগর্ভে হারাবে তাদের শেষ সম্বল।

 

 

 

 

Facebook Comments Box