আহমদনগরের আহমদিয়া সম্প্রদায়ের মানুষেরা এখনো আতঙ্কেই রাত কাটাচ্ছেন
- আপডেট সময় : ০২:৩৩:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ মার্চ ২০২৩ ২১৩ বার পড়া হয়েছে
পঞ্চগড়ের আহমদনগরের আহমদিয়া সম্প্রদায়ের মানুষেরা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগর পর থেকে এখনো আতঙ্কেই রাত কাটাচ্ছেন।
আহমদনগর এলাকায় পুড়ে যাওয়া বাড়িগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। ঘটনার নয় দিন পরেও ফেরেনি আহমদিয়া সম্প্রদায়ের অনুসারীরা। তারা এখনো আতঙ্কেই রাত কাটাচ্ছেন
এখনো আতঙ্ক বিরাজ করছে আহমদনগরসহ আশপাশের এলাকায়। খোলা আকাশের নিচে অনেকটা মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন তারা।
অনেকে জলসা মাঠে তাঁবু টানিয়ে রাত কাটাচ্ছেন। কেউ কেউ আবার মাঠের পাশে জামেয়া আহমদিয়া বাংলাদেশ অফিসে আশ্রয় নিয়েছেন।
আজ শনিবার সকালে পঞ্চগড় জেলা শহরের আহমদনগর এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, পোড়া ঘরের বারান্দায় বসে ছেলের পুড়ে যাওয়া ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে আছেন রাশিদা বেগম (৫৭)।
কাছে যেতেই তিনি বললেন, ‘সব শেষ হয়ে গেছে । বড় ছেলে যে অটো (ইজিবাইক) চালিয়ে সংসার চালাত, সেটাও পুড়ে গেছে। সাত দিন ধরে জামেয়াতে (আহমদিয়া সম্প্রদায়ের নিজস্ব ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান) থাকতেছি।
সেখানেই জামাত থেকে খাওয়ায়। সকালে ভয় ভয় করে শুধু একবার দেখতে আসলাম। পরনের কাপড় ছাড়া কিচ্ছু নাই, কিন্তু ভিটার মায়া তো ছাড়তে পারি না।
বৃহস্পতিবার (২ মার্চ) সকাল ১১ থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ মিছিল চলে। মিছিলে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা হাজারো মুসল্লী অংশ গ্রহন করেন।
এসময় সংগঠনটির নেতারা অবিলম্বে কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের বাৎসরিক জলসায়ে সালানা বন্ধ ও কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে অমুসলিম ঘোষণার দাবিতে পঞ্চগড় ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করেছে তৌহিদ জনতা ও খতমে নবুওয়াত নামে একটি সংগঠন।
বিক্ষোভ ও অবরোধ শেষে কাদিয়ানি সম্প্রদায়ের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও বাড়ি ভাংচুর করেন তৌহিদী জনতা।
গত ৩ মার্চ (শুক্রবার) পঞ্চগড়ে আহমদিয়া সম্প্রদায়ের ‘সালানা জলসা’ বন্ধের দাবিতে করা বিক্ষোভ থেকে আহমদনগর ও শালশিড়ি এলাকায় দেড় শতাধিক ব্যক্তির বাড়িঘরে হামলা হয়।
আহমদিয়ারা ওই দিন দুপুরে বাড়িঘরে তালা দিয়ে জলসায় ছিলেন। এ সুযোগে বিকেল থেকেই দুষ্কৃতকারী ব্যক্তিরা তাদের বাড়িঘরে প্রথমে হামলা চালান। লুট করে নিয়ে যায় সর্বস্ব। পরে বাড়িঘরে আগুন দিয়ে চলে যায়।
আহমদিয়াদের হিসাব অনুযায়ী, আহমদনগর এলাকায় ১৭৯টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। দোকানপাট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও হামলা হয়।
মিজানুর রহমান লিটন (৪০) নামের এক ভুক্তভোগী বলেন, ইজিবাইক চালিয়ে সংসার চালাত। ঘটনার দিন বাড়ির সবকিছুই লুটপাট করে নিয়ে গেছে। ভয়ে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে জামেয়াতে থাকছি।
কিন্তু গতকাল শুক্রবার সকালে এসে দেখেন টিউবওয়েলে লাগানো মোটরটি (পাম্প) চুরি হয়েছে। চেষ্টা করেও খুলতে না পারায় মোচড় দিয়ে রেখে গেছে টিউবওয়েলটি।
আহমদনগরের বাসিন্দারা জানান, ঘটনার পর থেকে এক কাপড়েই আছেন তারা। আহমদিয়া জামাত থেকে ধীরে ধীরে তাদের জন্য কিছু কাপড়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
আহমদিয়া সম্প্রদায়ের আহমদনগর মসজিদ ও শালশিড়ি মসজিদে রান্না করে তাদের খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া রেলমন্ত্রী ও পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে তাদের একটি করে শাড়ি, একটি লুঙ্গি ও এক হাজার করে টাকা দিয়েছেন।
এ ছাড়া মন্ত্রীর দেওয়া ৩০ কেজি চাল বাড়িতে জায়গা না থাকায় জামেয়াতে জমা রেখেছেন তারা।
এদিকে ২ থেকে ৪ মার্চ হামলা অগ্নিসংযোগের ঘটনার পর এখন পর্যন্ত আহমদনগর, পার্শ্ববর্তী ফুলতলা ও শালশিড়ি এলাকায় পুলিশ ও বিবিজির সদস্যদের কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী দেখা গেছে।
এর আগে গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর আহমদনগর এলাকায় শুরু হওয়া আহমদিয়া সম্প্রদায়ের তিন দিনব্যাপী সালানা জলসা বিক্ষোভের মুখে প্রশাসনের অনুরোধে রাতেই বন্ধ করে দেওয়া হয়।
শুক্রবার জুমার দিন হওয়ায় সকাল থেকেই জেলা শহর ও আহমদিয়াদের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোয় আবারও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
আহমদিয়া সালানা জলসার আহ্বায়ক আহমদ তবশির চৌধুরী বলেন, হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার পর কারও বাড়িতেই কিছু নেই। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা এখনো আতঙ্কে রয়েছেন।
আহমদিয়া জামাতের পক্ষ থেকে তাদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সরকারিভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি করেছে। তবে পুনর্বাসনের কোনো ঘোষণা এখনো পাননি।
তারা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি করেছেন। ধীরে ধীরে তাদের সহায়তা করার চেষ্টা করবেন। সেই সঙ্গে সরকার যদি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেয়, তাহলে তা গ্রহণ করবেন।
জেলা পুলিশ সুপার এস এম সিরাজুল হুদা বলেন, পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা সদস্যদের নিয়ন্ত্রণে জেলার পরিবেশ বর্তমানে স্বাভাবিক আছে।
এখন পর্যন্ত মোট ১৬টি মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার হয়েছে মোট ১৭৩ জন। গতকাল জুমার দিন হওয়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি আরও বাড়ানো হয়।
অপরাধীদের ধরতে পুলিশ ও যৌথ বাহিনী কাজ করছে। তবে ভিডিও ফুটেজ দেখে, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এবং যাচাইবাছাইয়ের মাধ্যমে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় কোনো নিরপরাধ সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হবে না।
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ


























